চুরির মালের মালিক জানা না থাকলে তা ফেরত দেবেন কিভাবে?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
চুরির মাল ফেরত। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা জীবনের কোনো এক সময় চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিন্তু ইসলামের সঠিক বুঝ পাওয়ার কারণে তারা চুরি থেকে ফিরে এসেছেন। আবার অনেকে ছোটবেলায় পরিচিত-অপরিচিত, কাছের কিংবা দূরবর্তী কারো পকেট থেকে টাকা বা মূল্যবান জিনিস চুরি করেছে। এখন বুঝছে যে, তার কাজটি সঠিক হয়নি। এখন সে তার বিনিময় ফেরত দিতে চাইছে; কিন্তু মালিকের সন্ধান জানে না বা মালিক মারা গেছে। এক্ষেত্রে করণীয় কী?
তাছাড়া মালের মালিককে না জানিয়ে তাদের মোবাইলে টাকা বিকাশ বা লোড করে দেওয়া হলে কি তাদের চুরি যাওয়া অর্থ আদায় হবে কিনা, কেননা তাদের বিষয়টি জানানো অনেক লজ্জা লাগে, আর যারা অনেকের সাথে দেখা হয় না জানিনা কোথায় আছে, তাদের বেলায় কী করা? তাদের নামে দান করে দিলে হবে কিনা?
হ্যাঁ, মালের/অর্থের মালিককে না জানিয়ে কোনোভাবে মালিকের কাছে মূল্য পাঠিয়ে দিলে পাওনা আদায় হবে ইনশাআল্লাহ। আর যাদের ঠিকানা জানা নেই, তাদের নামে সমমূল্যের টাকা দান করে দিতে হবে।
তবে তাদের পরিচয় বা ঠিকানা জানা না থাকার কারণে গরিবের মাঝে অর্থ দানের পর যদি কোন দিন তাদের কারও দেখা পাওয়া যায়, তাহলে তাদের টাকা আবার দিতে হবে।
দলিল
ويجب عليه أن يرده على مالكه، إن وجد المالك، وإلا ففى جميع الصور يجب عليه أن يتصدق بمثل تلك الأموال على الفقراء (بذل المجهود، باب فرض الضوء، سهارن بور-1/37، دار الباشائر الإسلامية، بيروت-1/359)
‘যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে বা অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেছে, তার জন্য আবশ্যক হলো— যদি সম্পদের প্রকৃত মালিক পাওয়া যায়, তাহলে সেই সম্পদ মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া। আর যদি মালিককে খুঁজে পাওয়া না যায়, তাহলে সব অবস্থাতেই ওই পরিমাণ সম্পদ গরিব-দুঃখীদের মধ্যে সদকা করে দেওয়া ফরজ।’ (বযলুল মজহূদ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৭, দারুল বাশায়ির আল-ইসলামিয়্যা, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৫৯)
يردوا المال إلى أربابه، فإن لم يعرفوا أربابه، تصدقوا به لأن سبيل الكسب الخبيث التصدق إذا تعذر الرد على
‘অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ অবশ্যই তার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। আর যদি মালিকদের পরিচয় জানা না থাকে, তাহলে সেই সম্পদ সদকা করে দিতে হবে। কারণ হারাম উপার্জনের ক্ষেত্রে শরিয়তের পথ হলো— যদি মালিকের কাছে ফেরত দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে তা সদকা করে দেওয়া।’ (আল-মাওসু‘আহ আল-ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ, খণ্ড ৩৪, পৃষ্ঠা ২৪৬, রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৫৫৩, কারতাশি, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩৮৫)
সারকথা
> হারাম বা অন্যায়ভাবে অর্জিত সম্পদ নিজের জন্য ব্যবহার করা জায়েজ নয়
> মালিক জানা থাকলে → ফেরত দেওয়া ফরজ
> মালিক অজানা হলে → গরিবদের মাঝে সদকা করা ফরজ
পাশাপাশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। তওবা করতে হবে। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা এতে তাদের ক্ষমা করে দেবেন।

