Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

সেহরি খাওয়ার ফজিলত

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম

সেহরি খাওয়ার ফজিলত

সেহরির ফজিলত। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

রমজানের প্রতিটি প্রহরই ইবাদতের আলোয় উদ্ভাসিত। তবে রাতের শেষ অংশ—সুবহে সাদেকের আগমুহূর্ত—এক বিশেষ রহমতের সময়। এই সময়ের আমলই হলো সেহরি। এটি কেবল রোজার প্রস্তুতি নয়; বরং সুন্নাহর অনুসরণ, বরকত লাভ এবং মুসলিম উম্মাহর স্বাতন্ত্র্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন।

সেহরি: বরকতের ভোর, সুন্নাহর সৌন্দর্য

সেহরি খাওয়া সুন্নত। এতে রয়েছে বরকত ও কল্যাণ। ইয়াহুদি-খ্রিস্টানরাও রোজা পালন করত, কিন্তু তারা ভোররাতে সেহরি করত না। তাই মুহাম্মদ (সা.) ভোররাতে সেহরি খাওয়ার বিশেষ তাগিদ দিয়েছেন। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় এ বিষয়টি স্পষ্টভাবে এসেছে।

১️. সেহরিতে রয়েছে বরকত

সেহরি খাওয়া রমজানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ। এর জন্য পেট ভরে খাওয়া জরুরি নয়; বরং এক ঢোক পানি পান করলেও সেহরির সুন্নত আদায় হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السُّحُورِ بَرَكَةً

‘তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (মুসনাদে আহমদ ৩/১২; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা ৯০১০; ইবনে হিববান ৩৪৭৬)

এ হাদিস প্রমাণ করে—সেহরির মূল লক্ষ্য অতিভোজন নয়; বরং বরকত অর্জন ও সুন্নাহ পালন।


২️. রহমত ও ফেরেশতাদের দোয়া

আরেক বর্ণনায় এসেছে—

‘এক ঢোক পানি দিয়ে হলেও সেহরি কর। কারণ যারা সেহরি খায়, আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন এবং ফেরেশতারা তাদের জন্য রহমতের দোয়া করেন।’

এতে বোঝা যায়—সেহরি একটি বরকতময় ইবাদত; যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আল্লাহর রহমত ও ফেরেশতাদের দোয়া।

ইফতার যেমন তাড়াতাড়ি করা সওয়াবের কাজ, তেমনি সেহরি দেরিতে খাওয়াও সওয়াবের কাজ। সুবহে সাদেকের কাছাকাছি সময়ে সেহরি খাওয়া মোস্তাহাব (উত্তম)। তবে এর অর্থ এই নয় যে, ফজরের সময় হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে।

হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তাআলা সকল নবীদের তাড়াতাড়ি ইফতার এবং দেরিতে সেহরি করার নির্দেশ দিয়েছেন। সাহাবায়ে কেরাম সময় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে (দেরি না করে) ইফতার করতেন এবং সেহরির শেষ সময়ে খাবার গ্রহণ করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা)

৩️-. উম্মাহর স্বাতন্ত্র্যের প্রতীক

নবিজি (সা.) আরও বলেছেন—

«فَصْلُ مَا بَيْنَ صِيَامِنَا وَصِيَامِ أَهْلِ الْكِتَابِ أَكْلَةُ السَّحَرِ»

‘আমাদের রোজা এবং আহলে কিতাবদের রোজার মধ্যে পার্থক্য হলো সেহরি খাওয়া।’ (মুসলিম, নাসাঈ)

অর্থাৎ মুসলিমরা সেহরি খায়, আর ইহুদি ও খ্রিস্টানরা সেহরি খায় না। তাই সেহরি মুসলিম উম্মাহর পরিচয় ও স্বাতন্ত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

সেহরি কেবল একটি ভোরের খাবার নয়; এটি বরকতের দরজা, রহমতের মাধ্যম এবং সুন্নাহর অনুসরণের এক অনন্য সুযোগ। অল্প খাবার কিংবা এক ঢোক পানি দিয়েও এই সুন্নাহ আদায় করা যায়। সেহরি আমাদের শেখায়—ইবাদতে পরিমিতি, সময়ানুবর্তিতা এবং আল্লাহর নির্দেশ মানার সৌন্দর্য।

আসুন, আমরা সেহরিকে শুধু আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে নয়, বরং বরকত ও রহমত লাভের এক মহামূল্যবান আমল হিসেবে গ্রহণ করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সুন্নাহ অনুযায়ী সেহরি খাওয়ার তৌফিক দান করুন।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

পারিবারিকভাবে কি জন্মদিন পালন করা যাবে?

ইসলাম কী বলে পারিবারিকভাবে কি জন্মদিন পালন করা যাবে?

রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল

রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ জানা গেল

২০২৭ সালের রোজা শুরু কবে থেকে, জানা গেল

২০২৭ সালের রোজা শুরু কবে থেকে, জানা গেল

২০২৭ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

২০২৭ সালের রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

২০২৭ সালে রমজান ও ঈদুল ফিতর কবে?

২০২৭ সালে রমজান ও ঈদুল ফিতর কবে?

আরও পড়ুন

চুপ থাকা কি সব সময় মহৎ গুণ, নাকি কথা বলাও জরুরি

চুপ থাকা কি সব সময় মহৎ গুণ, নাকি কথা বলাও জরুরি

মেহেদি দিয়ে চুল-দাড়ি কালো করার শরয়ি বিধান কী?

মেহেদি দিয়ে চুল-দাড়ি কালো করার শরয়ি বিধান কী?

যে ৫ ক্ষেত্রে মানুষের দোষ গোপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

যে ৫ ক্ষেত্রে মানুষের দোষ গোপন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

ল্যাবরেটরিতে তৈরি কৃত্রিম গোশত খাওয়া কি হালাল?

ল্যাবরেটরিতে তৈরি কৃত্রিম গোশত খাওয়া কি হালাল?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম