যে পদ্ধতিতে হিসাব করে জাকাত দেবেন
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
যেভাবে জাকাতের হিসাব করবেন। ছবি : সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাকাত ইসলামের একটি ফরজ বিধান এবং ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম। জাকাত কার ওপর ফরজ? যদি কোনো মুসলিমের কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ (স্বর্ণ ৭.৫ ভরি বা রুপা ৫২.৫ ভরি) এক বছর পূর্ণ সময় সঞ্চিত থাকে, তবে তার ওপর জাকাত দেওয়া ফরজ। মোট বর্ধনশীল সম্পদের ২.৫% বা ৪০ ভাগের ১ ভাগ জাকাত হিসেবে প্রদান করতে হয়। এর মাধ্যমে সম্পদের পবিত্রতা অর্জিত হয় এবং সমাজে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ
‘তোমরা নামাজ কায়েম কর এবং জাকাত প্রদান কর।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ৪৩)
জাকাত কাকে বলে?
জাকাত ইসলামের ফরজ বিধান। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক ও সম্পদশালী মুসলমান পুরুষ ও নারীর প্রতি বছর নিজের সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ দরিদ্র-দুস্থদের মধ্যে বিতরণের নিয়মকে জাকাত বলা হয়।
শরিয়ত নির্ধারিত সীমার (সাড়ে ৭ তোলা বা ৮৭.৪৫ গ্রাম সোনা অথবা সাড়ে ৫২ তোলা বা ৬১২.৩৫ গ্রাম রুপা অথবা সমপরিমাণ নগদ অর্থ) বেশি সম্পদ হিজরি এক বছর ধরে কারো কাছে থাকলে তাকে সম্পদশালী গণ্য করা হয় এবং তার বর্ধনশীল সম্পদের ২.৫ শতাংশ বা ১/৪০ অংশ জাকাত হিসেবে প্রদান করতে হয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِمْ بِهَا
‘তাদের সম্পদ থেকে সদকা (জাকাত) গ্রহণ কর, যা তাদের পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে।’ (আবু দাউদ ১৫৮৪)
৪ ধরনের সম্পদের জাকাত দিতে হয়
জাকাত ওয়াজিব হয় বর্ধনশীল সম্পদের ওপর, যা সাধারণত চার ধরনের হয়ে থাকে—
১. স্বর্ণ
২. রৌপ্য
৩. ব্যবসার পণ্য
৪. নগদ অর্থ
যেভাবে জাকাতের হিসাব করবেন
আপনার কাছে যদি এক বছর ধরে নেসাব পরিমাণ বর্ধনশীল সম্পত্তি অর্থাৎ ৭ তোলা বা ৮৭.৪৫ গ্রাম বা এর বেশি স্বর্ণ অথবা সাড়ে ৫২ তোলা বা ৬১২.৩৫ গ্রাম রৌপ্য থাকে অথবা এই পরিমাণ স্বর্ণ বা রৌপ্যের সমপরিমাণ নগদ অর্থ থাকে, তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে আপনি সম্পদশালী ব্যক্তি গণ্য হবেন এবং আপনার ওপর জাকাত আদায় করা ফরজ।
আরও পড়ুন
নগদ অর্থ, স্বর্ণ-রৌপ্য বা ব্যবসার সম্পদ যেদিন নেসাব পরিমাণে পৌঁছাবে, সেদিন থেকেই জাকাতের বর্ষগণনা শুরু করতে হবে। জাকাতের বর্ষ পূর্ণ হওয়ার দিনে অর্থাৎ ওই পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার ঠিক এক বছর পর আপনার মালিকানায় যে পরিমাণ বর্ধনশীল সম্পদ—নগদ অর্থ, ব্যবসার পণ্য, স্বর্ণ বা রৌপ্য থাকবে, তার ৪০ ভাগের ১ ভাগ বা ২.৫ শতাংশ জাকাত হিসেবে দান করতে হবে।
এক বছর ধরে নেসাব পরিমাণ সম্পত্তির মালিক থাকলে জাকাতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার পর আপনার মালিকানাধীন সমুদয় বর্ধনশীল সম্পদের জাকাত দিতে হবে; শুধু যে সম্পদ এক বছর ধরে আপনার কাছে রয়েছে ওই সম্পদের নয়। বছরের শেষে বা মাঝামাঝি সময়ে কিছু অর্থ বা স্বর্ণ লাভ করে থাকলে তাও জাকাতের হিসাবের সঙ্গে যুক্ত হবে।
স্থাবর সম্পত্তি যেমন জমি, বাড়ি ইত্যাদির ওপর জাকাত ওয়াজিব হয় না, যদি সেগুলো ব্যবসার পণ্য না হয়। একইভাবে যে গাড়ি বা বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়, সেই গাড়ি বা বাড়ির ওপর জাকাত দিতে হয় না, কারণ এগুলো ব্যবসার পণ্য নয়; তবে সেগুলো থেকে প্রাপ্ত ভাড়ার অর্থ জমে নেসাব পরিমাণ হলে তার ওপর জাকাত দিতে হবে।
জাকাত শুধু দান নয়, বরং এটি সম্পদের পবিত্রতা ও সামাজিক ন্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সঠিক নিয়মে জাকাত হিসাব করে আদায় করলে ব্যক্তি যেমন ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তেমনি সমাজের দরিদ্র মানুষের উপকারও নিশ্চিত হয়। তাই প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ে নিজের সম্পদের হিসাব করে যথাযথভাবে জাকাত আদায় করা প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের দায়িত্ব।
