Logo
Logo
×

ইসলাম ও জীবন

শিশুদের স্বর্ণালংকারের জাকাত দিতে হবে কি?

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

শিশুদের স্বর্ণালংকারের জাকাত দিতে হবে কি?

শিশুর স্বর্ণালংকারের জাকাত। ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: অনেক সময় শিশুরা উপহার হিসেবে স্বর্ণালংকার পেয়ে থাকে। এসব স্বর্ণালংকার কি বাবা-মায়ের সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হবে? কোনো শিশু যদি নেসাব পরিমাণ স্বর্ণালংকারের মালিক হয়, তাহলে কি সেই স্বর্ণালংকারের ওপর জাকাত দিতে হবে?

উত্তর: শিশু বা অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে যদি উপহার হিসেবে স্বর্ণালংকার পায়, তাহলে ওই স্বর্ণালংকারের মালিক হবে শিশুই। এসব অলঙ্কার বাবা-মায়ের সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে না এবং তাদের জাকাতের হিসাবেও যোগ করতে হবে না।

এছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের ওপর যেমন নামাজ ও রোজা ফরজ নয়, তেমনি জাকাতও ফরজ নয়। তাই কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু নেসাব পরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি সম্পদের মালিক হলেও তার সম্পদের জাকাত আদায় করতে হবে না। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন—

لَا زَكَاةَ فِي مَالِ الْيَتِيمِ

‘এতিমের সম্পদে জাকাত নেই।’ (কিতাবুল আছার ২৯৪)


জাকাত ইসলামের একটি ফরজ বিধান এবং ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক ও সম্পদশালী মুসলমান নারী-পুরুষের ওপর প্রতি বছর নিজ সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ দরিদ্র-দুস্থদের মধ্যে বিতরণ করা বাধ্যতামূলক। শরিয়ত নির্ধারিত সীমার বেশি সম্পদ পূর্ণ এক হিজরি বছর কারো মালিকানায় থাকলে তাকে সম্পদশালী হিসেবে গণ্য করা হয়। তখন তার বর্ধনশীল সম্পদের ২.৫ শতাংশ বা ১/৪০ অংশ জাকাত হিসেবে প্রদান করতে হয়।

পবিত্র কুরআনে ‘জাকাত’ শব্দটি ৩২ বার উল্লেখ হয়েছে এবং নামাজের পর জাকাতের কথাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَ اَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوۃَ ؕ وَ مَا تُقَدِّمُوۡا لِاَنۡفُسِكُمۡ مِّنۡ خَیۡرٍ تَجِدُوۡهُ عِنۡدَ اللّٰهِ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بِمَا تَعۡمَلُوۡنَ بَصِیۡرٌ

‘তোমরা সালাত কায়েম কর, জাকাত দাও এবং নিজেদের জন্য যে কল্যাণ অগ্রিম পাঠাবে, তা আল্লাহর কাছেই পাবে। তোমরা যা করছ নিশ্চয়ই আল্লাহ তা দেখছেন।’

(সুরা বাকারা: ১১০)

কোনো ব্যক্তি যদি পূর্ণ এক বছর নেসাব পরিমাণ বর্ধনশীল সম্পদের মালিক থাকে—যেমন ৭ তোলা বা ৮৭.৪৫ গ্রাম স্বর্ণ, অথবা সাড়ে ৫২ তোলা বা ৬১২.৩৫ গ্রাম রৌপ্য, কিংবা ৮৭.৪৫ গ্রাম স্বর্ণের সমমূল্যের নগদ অর্থ—তাহলে ইসলামের দৃষ্টিতে তিনি সম্পদশালী হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং তার ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে।

নগদ অর্থ, স্বর্ণ-রৌপ্য কিংবা ব্যবসার সম্পদ যেদিন নেসাবের পর্যায়ে পৌঁছাবে, সেদিন থেকেই জাকাতের বর্ষগণনা শুরু হবে। এক বছর পূর্ণ হলে ওই ব্যক্তির মালিকানায় যত বর্ধনশীল সম্পদ থাকবে—যেমন নগদ অর্থ, ব্যবসার মাল, স্বর্ণ বা রৌপ্য—তার ২.৫ শতাংশ বা ৪০ ভাগের ১ ভাগ জাকাত হিসেবে আদায় করতে হবে।

হিজরি সন অনুযায়ী বছরে একবার জাকাতের হিসাব করা আবশ্যক। আমাদের দেশে অনেকেই রমজান মাসে জাকাতের হিসাব করে থাকেন। হিসাব করার পর সঙ্গে সঙ্গে পুরো জাকাত আদায় করা বাধ্যতামূলক নয়; বরং বছরের বিভিন্ন সময়ে ধীরে ধীরে তা পরিশোধ করা যেতে পারে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম