নামাজে অপ্রয়োজনীয় শরীর নড়াচড়া
ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি কি একদম স্থির রাখতে হবে?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নামাজে দাঁড়িয়ে মনকে স্থির রাখার পাশাপাশি শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্থির রাখাও সমান জরুরি। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, নামাজে দাঁড়ানোর পর অজান্তেই হাত চলে যায় শরীরের বিভিন্ন অংশে, পোশাক ঠিক করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অনেকে, কিংবা পা নাড়াচাড়া করতে থাকেন। এই ছোটখাটো অভ্যাসগুলো যেমন একাগ্রতা নষ্ট করে, তেমনি আমাদের মনে নানা সংশয়ের সৃষ্টি করে— ভাবনা জাগে, সামান্য একটু নড়াচড়াতেই কি তবে নামাজ ভেঙে গেল? আজ আমরা জেনে নেব নামাজে নড়াচড়ার প্রকৃত মাসয়ালা এবং স্থিরতা বজায় রাখার সুন্নাহসম্মত উপায়—
১. নামাজে অযথা নড়াচড়ার বিধান
বিনা প্রয়োজনে নামাজে শরীরের কোনো অঙ্গ নাড়াচাড়া করা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। তাই নামাজের সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে শরীর স্পর্শ করা, বারবার পোশাক নিয়ে ব্যস্ত থাকা কিংবা বিনা কারণে পা নাড়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত। নামাজে বাহ্যিক স্থিরতা বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন—
مَا لِي أَرَاكُمْ رَافِعِي أَيْدِيكُمْ كَأَنَّهَا أَذْنَابُ خَيْلٍ شُمْسٍ اسْكُنُوا فِي الصَّلاَةِ
‘আমি তোমাদের হাত উঠাতে দেখি কেন? মনে হয় যেন তা দুষ্ট ঘোড়ার লেজ। ধীরস্থিরভাবে নামাজ আদায় করো, নড়াচড়া করো না।’ (মুসলিম ৮৫৪)
২. ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি কি একদম স্থির রাখতে হবে?
অনেকেরই মনে এই ভুল ধারণা রয়েছে যে, নামাজে বসা অবস্থায় ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি একদম পাথরের মতো স্থির রাখতে হবে; সামান্য নড়লেও বুঝি নামাজ ভেঙে যাবে। বাস্তবে এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল।
নামাজে ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির আলাদা কোনো কঠোর বা বিশেষ বিধান নেই। প্রয়োজনের অতিরিক্ত বা বিনা প্রয়োজনে শরীরের যেকোনো অঙ্গ নাড়াচাড়া করা মাকরুহ হলেও, সামান্য বা স্বাভাবিক নড়াচড়ায় কখনোই নামাজ ভেঙে যায় না।
৩. কখন নড়াচড়া নামাজের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়?
নামাজে প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত নড়াচড়া করা কোনোভাবেই ঠিক নয়। ফিকহের পরিভাষায় এমন অতিরিক্ত ও অবিরাম নড়াচড়াকে ‘আমলে কাছির’ বা বড় ধরনের নড়াচড়া বলা হয়, যা দূর থেকে দেখলে মনে হবে ব্যক্তিটি নামাজে নেই। এ ধরনের অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া নামাজ নষ্ট করে দিতে পারে।
তাই চেষ্টা করতে হবে নামাজে শরীর যথাসম্ভব স্থির ও প্রশান্ত রাখতে।
৪. সেজদায় পায়ের অবস্থানের প্রতি সতর্কতা
যদিও সাধারণ নড়াচড়ায় নামাজে কোনো সমস্যা হয় না, তবে সেজদার সময় পায়ের অবস্থানের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা জরুরি। পূর্ণ একটি সেজদার পুরো সময় যদি উভয় পা একসঙ্গে মাটি থেকে সম্পূর্ণ ওপরে উঠে থাকে, তবে নামাজ সহিহ হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। তাই সেজদার সময় অন্তত দুই পায়ের আঙুল যেন মাটির সঙ্গে লেগে থাকে, সেদিকে অবশ্যই মনোযোগ দেওয়া উচিত।
৫. জরুরি প্রয়োজনে শরীর স্পর্শ বা নড়াচড়া করা জায়েজ
এর অর্থ এই নয় যে নামাজে পাথরের মতো আষ্টেপৃষ্ঠে শক্ত হয়ে থাকতে হবে। বাস্তব কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে নড়াচড়া করায় কোনো বাধা নেই। যেমন—
- শরীরে হঠাৎ চুলকানি হলে তা চুলকানো।
- একান্তই পোশাক ঠিক করার প্রয়োজন হলে তা ঠিক করা।
- অসুস্থতা বা পায়ে তীব্র ব্যথার কারণে কেউ যদি নামাজের স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসতে না পারেন, তবে তিনি নিজের সুবিধামতো বসতে পারবেন। এতে নামাজের কোনো ক্ষতি হবে না।
সংক্ষেপে বলা যায়, নামাজে ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি বা শরীরের কোনো অংশ সামান্য নড়লেই নামাজ নষ্ট হয়ে যায়—এই ধারণাটি পুরোপুরি অমূলক। তবে বিনা প্রয়োজনে শরীর বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নাড়াচাড়া করা মাকরুহ। তাই খামখেয়ালি বা অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া বর্জন করে পূর্ণ আদব, স্থিরতা এবং একাগ্রতার সঙ্গে নামাজ আদায় করাই মুমিনের ভূষণ। মহান আল্লাহ আমাদের সঠিকভাবে তার ইবাদত করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

