মাইকের ঘোষণা ‘সেহরির সময় শেষ’— তখন কিছু খাওয়া যাবে কি?
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ মার্চ ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
সেহরির সময় শেষ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রমজানের মূল ইবাদত রোজা রাখা। অর্থাৎ, সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, স্ত্রী সহবাস ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকা। পুরো দিন পানাহার থেকে বিরত থাকার আগে সেহরি খাওয়া বরকতের। তাই মুসলিমরা রাতের শেষ প্রহরে সেহরি খান। সেহরি শব্দের অর্থ ভোরের খাবার। রোজা রাখার উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিকের কাছাকাছি সময়ে যে পানাহার করা হয় ইসলামের পরিভাষায় তাকে সেহরি বলা হয়।
মসজিদের মাইকে ‘সেহরির সময় শেষ’ বলার মাধ্যমেই সেহরির সময় শেষ হয়ে যায় এবং তখন থেকেই রোজা শুরু হয়ে যায়। মুয়াজ্জিনের মুখে সেহরির সময় শেষ শোনার পর পানি বা অন্য কিছু খাওয়া যাবে না। এরপর কিছু খেলে রোজা ভেঙে যাবে।
তবে আমাদের দেশের কিছু কিছূ মসজিদে এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অনেক সময় সেহরির সময় শেষ হওয়ার দুই তিন মিনিট আগে সতর্কতামূলকভাবে বলা হয় সেহরির সময় শেষ। যদি সতর্কতামূলক সময়ে অর্থাৎ সেহরির সময় শেষ হওয়ার দুই তিন মিনিট আগে মুয়াজ্জিন ‘সেহরির সময় শেষ’ বলে ঘোষণা দেন তাহলে তখনও খাওয়া যাবে। কিন্তু আজান শুরু হওয়ার পর আর কোনোভাবে খাওয়া যাবে না। আজান শুরু হওয়ার পর খাবার বা পানীয় গ্রহণ করলে রোজা ভেঙে যাবে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।
মুয়াজ্জিন বা মসজিদের মাইকে সুবহে সাদিকের সময়টিতেই সেহরির শেষ সময়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। এজন্য রোজাদারের জন্য তখন থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পাহানার করা যাবে না।
‘সেহরির সময় শেষ’
সেহরিতে রোজাদারদের ঘুম থেকে জাগানোর জন্য আমাদের দেশের মসজিদের মাইকে ডাকার প্রচলন রয়েছে। সেহরির শেষ সময়ের এক-দেড় ঘণ্টা আগে থেকে সাধারণত মসজিদের মাইকে ডাকা হয়। রোজাদারদের সুবিধার্থে শেষ সময়ে মসজিদের মাইক থেকে বলা হয়, ‘সেহরির সময় শেষ’। এর সামান্য কিছু সময় পরই মসজিদের মাইকে ফজরের আজান দেওয়া হয়।
সেহরির ফজিলত
রোজা রাখার নিয়তে সেহরি খাওয়া সুন্নত। সেহরি অত্যন্ত বরকতময় খাবার। হাদিস শরিফে সেহরি খাওয়ার অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— ‘তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত আছে।’ (বুখারি ১৯২৩)

