রমজানের যে অবহেলিত আমল নিয়ে কথা বললেন শায়খ আহমাদুল্লাহ
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
শায়খ আহমাদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রমজান মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের বিশেষ সময়। এই মাসে নামাজ, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত ও দান-সদকার পাশাপাশি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত ইবাদত রয়েছে, যেগুলোর প্রতি অনেক সময় যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ইতিকাফ। বর্তমান সময়ে এটি একটি অবহেলিত ইবাদতে পরিণত হয়েছে। জনপ্রিয় ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ মনে করেন, রমজানের ইবাদতকে পূর্ণতা দিতে ইতিকাফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল।
তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, যে আমলটি মহানবী (সা.) তার জীবনে কখনো ত্যাগ করেননি, সেই আমলটি অধিকাংশ মানুষ জীবনে একবারও পালন করেননি। অথচ সেই অবহেলিত আমলটির নামই হলো ইতিকাফ।
ইতিকাফের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে—
كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَعْتَكِفُ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللَّهُ
‘নবী (সা.) তার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।’ (বুখারি ২০২৬, মুসলিম ১১৭২)
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে মানুষের মনোযোগের বিচ্ছিন্নতার বিষয়েও তিনি কথা বলেন। তার ভাষ্য, বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপক ব্যবহারের কারণে মানুষের মনোযোগ অত্যন্ত বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়েছে। ফেসবুকের রিলস বা ছোট ভিডিওর মতোই মানুষের চিন্তাভাবনাও ক্রমাগত এক বিষয় থেকে আরেক বিষয়ে ছুটে বেড়ায়।
তিনি বলেন, এই অবস্থার ফলে মনোযোগ দিয়ে কোনো লেখা পড়া কিংবা কোনো বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার সুযোগ কমে যাচ্ছে। এমনকি অনেক মানুষের পক্ষেই দুই রাকাত নামাজও পূর্ণ একাগ্রতার সঙ্গে আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এই চরম অস্থিরতার মধ্যে নিজের আত্মাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য ইতিকাফ একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে।
ইতিকাফকে আল্লাহর দিকে একাগ্রচিত্তে মনোনিবেশ করার বিশেষ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ইতিকাফ মানুষের জীবন থেকে দুনিয়াবি ব্যস্ততা ও কোলাহলকে কিছু সময়ের জন্য দূরে সরিয়ে দেয়। এর মাধ্যমে একজন মুমিন একান্তভাবে মহান আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করার সুযোগ পান।
কুরআনেও ইতিকাফের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَلَا تُبَاشِرُوهُنَّ وَأَنْتُمْ عَاكِفُونَ فِي الْمَسَاجِدِ
‘তোমরা মসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে সহবাস করো না।’ (সুরা আল-বাকারা: ১৮৭)
শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, ইতিকাফ এমন একটি ইবাদত যা মানুষের নিজের গুনাহ, আখিরাতের প্রস্তুতি এবং মহান রবের সঙ্গে সম্পর্ককে গভীরভাবে উপলব্ধি করার সুযোগ তৈরি করে। জীবনে এমন আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ খুব কমই আসে।
ইবাদতের পূর্ণতার জন্য এ সুন্নত আমলের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, সিয়াম যেমন মানুষের প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়, তেমনি ইতিকাফ মানুষের আত্মাকে আল্লাহর ঘরের সঙ্গে বেঁধে দেয় এবং তাকে আধ্যাত্মিক উন্নতির উচ্চ স্তরে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
তার মতে, ইতিকাফ কেবল একটি ইবাদতই নয়, বরং এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত এবং জীবন্ত আদর্শ, যা রমজানের ইবাদতকে আরও পরিপূর্ণ করে তোলে।

