ভয় নয়, ভালোবাসায় গড়ে উঠুক শিশু— আল্লামা সাজ্জাদ নোমানীর আহ্বান
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শিশুদের শিক্ষা কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জনের বিষয় নয়; এটি তাদের ব্যক্তিত্ব, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভয়ভীতি, শারীরিক শাস্তি বা কঠোর আচরণের পরিবর্তে স্নেহ, মমতা ও শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন ভারতের প্রখ্যাত আলেম, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল' বোর্ডের সিনিয়র সদস্য ও বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ আল্লামা সাজ্জাদ নোমানী।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকালে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে দেশের আলেমদের নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অনেক ইংরেজি মাধ্যম বা আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে স্নেহ, সম্মান এবং ইতিবাচক শিক্ষণ-পদ্ধতির চর্চা করা হয়। অথচ কিছু মাদ্রাসায় এখনও শাসনের নামে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা কঠোর আচরণের অভিযোগ শোনা যায়। এমন পরিবেশ শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ, মানসিক সুস্থতা এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
আল্লামা সাজ্জাদ নোমানীর ভাষায়, শিশুদের ভয় দেখিয়ে নয়; বরং ভালো ব্যবহার, আন্তরিকতা এবং সন্তানতুল্য মমতা দিয়ে শিক্ষা দেওয়া উচিত। একজন শিক্ষক যখন শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করবেন, তখনই তারা আত্মবিশ্বাসী, নৈতিক ও দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার কারণে পুরো মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের অধিকাংশ মাদ্রাসায় নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিশু নির্যাতন বা অমানবিক আচরণের ঘটনা কিছু সীমিত প্রতিষ্ঠানে ঘটে থাকে এবং এমন শিক্ষকের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে খুব কম।
সেমিনারে উপস্থিত আলেমরাও শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, স্নেহময় এবং মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, শিক্ষার প্রকৃত লক্ষ্য অর্জনে শিশুকেন্দ্রিক, মানবিক ও ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের উদ্যোগ বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং প্রশংসনীয়।
একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় শক্তি তার জ্ঞান যেমন, তেমনি তার চরিত্র, মমতা ও মানবিক আচরণও। ভয়ভীতির মাধ্যমে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা গেলেও ভালোবাসা, সম্মান ও সহানুভূতির মাধ্যমে একজন শিশুর মন জয় করা সম্ভব। তাই মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ, শিশুবান্ধব ও মূল্যবোধনির্ভর পরিবেশ নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও আত্মবিশ্বাসী, নৈতিক ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।

