এনগেজমেন্টের পর একে অন্যের সঙ্গে একান্তে যোগাযোগ কি জায়েজ?
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামে নিকাহ (বিয়ে) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান সময়ে আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত বিষয় আছে যে, বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর মধ্যে এনগেজমেন্ট বা আংটি বদল করে রাখা হয়। এর ফলে ছেলে-মেয়ের মধ্যে আলাপ-আলোচনা ও অনেক সময় তাদের একান্ত সময় কাটানোর কথাও শোনা যায়। শরীয়তের বিধান কী এ বিষয়ে। মতামত দিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ।
এক আলোচনায় তিনি বলেন, আমাদের দেশে এনগেজমেন্ট রোগটা ঘরে ঘরে আছে, বিয়ে ঠিক করে রাখে নাম দেয় এনগেইজমেন্ট। আংটি একটি পরিয়ে কনে কিংবা বরকে দখল করে রেখে দেয়, বলে এনগেইজমেন্ট হয়ে গেছে।
আহমাদুল্লাহ আরও বলেন, ছেলে-মেয়ে এনগেইজমেন্টের পর স্বামী-স্ত্রীসুলভ আলাপ জমিয়ে দেয়। ইসলামে এটি জায়েজ নেই, এটি গোনাহের কাজ। যতক্ষণ পর্যন্ত আকদ না হবে বা দুই সাক্ষীর সামনে এক পক্ষ প্রস্তাব দেবে আরেক পক্ষ প্রস্তাবে সম্মতি দেবে তখন পাত্র-পাত্রীর মধ্যে দেখা সাক্ষাৎ জায়েজ নেই। এরই মাধ্যমে (ইজাব-কবুল) বিবাহ সংগঠিত হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো অবস্থাতে আকদ হওয়ার আগ পর্যন্ত একে অপরে সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী সুলভ আলোচনা করা যাবে না। এনগেইজমেন্ট হলে বিয়ে হয় না। কমপক্ষে আকদ করা লাগবে।
নবী (স.) এর একটি হাদিস আছে, যাতে বলা হয়েছে—কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সঙ্গে একান্তে না থাকে। কারণ তখন শয়তান তাদের তৃতীয় সঙ্গী হয়। (সুনানে তিরমিযী, হাদিস: ২১৬৫)
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত অপর একটি হাদিসে বলা হয়েছে, নবীজি বলেন— চোখের জিনা হলো হারাম কিছু দেখা। জিহ্বার জিনা হলো অন্যায় কথা বলা। কানের জিনা হলো অবৈধ কিছু শোনা। হাতের জিনা হলো নিষিদ্ধ জিনিস ধরা। পায়ের জিনা হলো অবৈধ পথে চলা। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৫৭)
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমি নবীজিকে বলতে শুনেছি, মাহরাম ছাড়া কোনো পুরুষ যেন কোনো নারীর সঙ্গে নির্জনে না যায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫২৩৩)
মাহরাম মানে যেসব আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থায়ীভাবে হারাম।
মাহরাম ছাড়া নির্জনে তরুণ-তরুণীর সাক্ষাৎ হলে শয়তান সুযোগ নেয়। অবৈধ সম্পর্কে জড়াতে প্রলুদ্ধ করে। তাই অহরহই দেখা যায় বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে ধোকা ও ধর্ষণের সংবাদ।

