ঘরে স্বামী-স্ত্রীর জামাতে নামাজ আদায়ের সঠিক নিয়ম কোনটি?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:১১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামে পরিবারভিত্তিক ইবাদতের পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে ইবাদত-বন্দেগিতে লিপ্ত হলে কেবল দাম্পত্য সম্পর্কের মধুরতাই বৃদ্ধি পায় না, বরং এতে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও বরকত নাজিল হয়। ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য কোনো ওজর বা কারণ থাকলে ঘরে স্ত্রীর সঙ্গে জামাতে সালাত আদায় করা যায়। এ ছাড়া নফল বা তাহাজ্জুদের নামাজ স্বামী-স্ত্রী ঘরে জামাতের সঙ্গে আদায় করা একটি অত্যন্ত সুন্নাহসম্মত ও প্রশংসনীয় আমল। নিচে ঘরে স্বামী-স্ত্রীর একত্রে নামাজ আদায়ের শরিয়তসম্মত নিয়ম ও দিকনির্দেশনা আলোচনা করা হলো।
ইমামতি ও ইকামতের বিধান
স্বামী ও স্ত্রী যখন একত্রে জামাতে সালাত আদায় করবেন, তখন স্বামী ইমামতি করবেন এবং ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে ইকামতও স্বামীই দেবেন। কেননা আজান ও ইকামত প্রদান করা পুরুষদের দায়িত্ব; নারীদের জন্য আজান বা ইকামত দেওয়া শরিয়তে মাকরুহ।
হজরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—
لَيْسَ عَلَى النِّسَاءِ أَذَانٌ وَلاَ إِقَامَةٌ وَلاَ جُمُعَةٌ وَلاَ غُسْلُ جُمُعَةٍ
‘নারীদের ওপর আজান, ইকামত, জুমা এবং (জুমার জন্য) গোসল করা আবশ্যক নয়।’ (বায়হাকি ২১৬৯)
তবে স্বামী-স্ত্রী যখন কোনো নফল নামাজ একত্রে আদায় করবেন, তখন শুধু স্বামী ইমামতি করবেন। নফল নামাজের জামাতে ইকামত দেওয়ার নিয়ম নেই।
স্ত্রী দাঁড়ানোর সঠিক অবস্থান
স্বামী-স্ত্রী জামাতে দাঁড়ালে স্ত্রী স্বামীর ডান পাশে কিছুটা পিছিয়ে দাঁড়াবেন। অর্থাৎ স্ত্রীর পায়ের গোড়ালি কমপক্ষে স্বামীর গোড়ালি থেকে কিছুটা পেছনে থাকতে হবে। ইমাম (স্বামী) থাকবেন বাম পাশে আর মুক্তাদি (স্ত্রী) থাকবেন ডান পাশে। তবে স্ত্রী কখনোই স্বামীর একদম সমান সমান বরাবর দাঁড়াবেন না; একদম বরাবর দাঁড়িয়ে নামাজ পড়লে তা বাতিল বা ফাসিদ হয়ে যাবে।
ইমামের ডান পাশে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আবদুল্লাহ বিন উতবা (রহ.) থেকে বর্ণিত—
دَخَلْتُ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ بِالظَّهِيرَةِ فَوَجَدْتُهُ يُسَبِّحُ فَقُمْتُ وَرَاءَهُ فَدَنَانِي فَجَعَلَنِي حِذَاءَهُ عَنْ يَمِينِهِ
‘আমি এক দুপুরে ওমর (রা.)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাকে নফল নামাজ রত পেলাম। আমি তার পেছনে দাঁড়ালে তিনি আমাকে টেনে এনে তার ডান পাশে বরাবর দাঁড় করালেন।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ২৮৩৮)
মনে রাখতে হবে, পুরুষ মুক্তাদি একজন হলে বরাবর দাঁড়ানোর নিয়ম থাকলেও নারী মুক্তাদির ক্ষেত্রে সামান্য পিছিয়ে দাঁড়ানোই বিধান।
নামাজে স্বামীর ভুল হলে স্ত্রীর করণীয়
নামাজ পড়া অবস্থায় ইমাম (স্বামী) যদি কোনো ভুল করেন—যেমন দুই রাকাতের পর বৈঠক না করে উঠে যাওয়া কিংবা চার রাকাত শেষে পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে পড়া—তবে মুক্তাদি হিসেবে স্ত্রী তাকে সতর্ক করবেন। পুরুষরা 'সুবহানাল্লাহ' বলে সতর্ক করলেও নারীদের ক্ষেত্রে তা ভিন্ন। স্ত্রী নিজ বাম হাতের পিঠের ওপর ডান হাত দিয়ে চাপড়ে মৃদু আওয়াজ সৃষ্টি করে স্বামীকে ভুল মনে করিয়ে দেবেন।
সাহাবি হজরত সাহল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
مَنْ نَابَهُ شَيْءٌ فِي صَلاَتِهِ فَلْيُسَبِّحْ، فَإِنَّهُ إِذَا سَبَّحَ الْتُفِتَ إِلَيْهِ، وَإِنَّمَا التَّصْفِيقُ لِلنِّسَاءِ
‘নামাজে কারও কোনো সমস্যা উপস্থিত হলে সে যেন ‘সুবহানাল্লাহ’ বলে। কারণ সুবহানাল্লাহ বললে তার দিকে দৃষ্টি দেওয়া হবে। আর তালিয়া বা হাতে আওয়াজ করা তো নারীদের জন্য।’ (বুখারি ১২০১)
নেক আমলে পারস্পরিক সহযোগিতার ফজিলত
আল্লাহ তাআলা মুমিন স্বামী-স্ত্রীকে সৎকাজ ও ইবাদতে একে অপরের সহায় হতে নির্দেশ দিয়েছেন। কুরআন মজিদে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلاَ تَعَاوَنُوا عَلَى الإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ
‘তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অপরকে সহযোগিতা কর এবং পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অপরকে সহযোগিতা কর না।’ (সুরা আল-মায়েদাহ: আয়াত ২)
যে দম্পতি গভীর রাতে উঠে নামাজ আদায় করে এবং ইবাদতের জন্য একে অপরকে জাগ্রত করে, তাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ রহমত বর্ষিত হয়। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করে বলেছেন—
رَحِمَ اللَّهُ رَجُلاً قَامَ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّى وَأَيْقَظَ امْرَأَتَهُ، فَإِنْ أَبَتْ نَضَحَ فِي وَجْهِهَا الْمَاءَ، رَحِمَ اللَّهُ امْرَأَةً قَامَتْ مِنَ اللَّيْلِ فَصَلَّتْ وَأَيْقَظَتْ زَوْجَهَا، فَإِنْ أَبَى نَضَحَتْ فِي وَجْهِهِ الْمَاءَ
‘আল্লাহ সেই পুরুষের ওপর রহম করুন, যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্ত্রীকেও জাগায়, স্ত্রী না উঠতে চাইলে তার চেহারায় পানি ছিটিয়ে দেয়। আর আল্লাহ ওই নারীর ওপর রহম করুন, যে রাতে উঠে নামাজ পড়ে এবং তার স্বামীকেও জাগায়, স্বামী না উঠতে চাইলে সে তার চেহারায় পানি ছিটিয়ে দেয়।’ (ইবনে মাজাহ ১৩৩৬, মুসনাদে আহমদ ৭৪০৫)
