অফিসের ব্যক্তিগত কাজ, বেতন কি হালাল?
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সৌদি আরবে একটি কফিশপে ১০ ঘণ্টা ডিউটি করেন এক কর্মী। তবে কাস্টমার না থাকায় গড়ে পাঁচ ঘণ্টা কাজ করার পর বাকি সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে কাটান তিনি। ডিউটির অবসর সময়ে এভাবে ব্যক্তিগত কাজে সময় ব্যয় করলে তার উপার্জন হালাল হবে কি না, তা জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেছেন ওই কর্মী।
এর জবাবে ইসলামি চিন্তাবিদরা বলছেন, চাকরির নির্ধারিত সময়ে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা কর্মচারীর জন্য জরুরি। তবে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর অবশিষ্ট সময়ে কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা প্রচলিত নিয়মে অনুমোদন থাকলে ব্যক্তিগত কাজ করা জায়েজ হতে পারে।
সম্প্রতি ইসলামি প্রশ্নোত্তরবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে দেওয়া উত্তরে এ কথা জানানো হয়েছে।
প্রশ্নকারী জানান, তিনি সৌদি আরবে একটি কফিশপে ১০ ঘণ্টা কাজ করেন। তবে কাস্টমার সব সময় না আসায় গড়ে পাঁচ ঘণ্টা কাজ থাকে। বাকি সময়ে তিনি মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। এভাবে দায়িত্ব পালনের বাইরে অবসর সময়ে ফোন দেখার কারণে তার উপার্জন হালাল হবে কি না, তা জানতে চান তিনি।
এর উত্তরে মুফতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, শরিয়তের পরিভাষায় বেতনভুক্ত কর্মচারীদের ‘আজিরে খাস’ বলা হয়। তাই নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা এবং অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা তাদের জন্য জরুরি। চাকরির নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব পালনের বাইরে ব্যক্তিগত কাজ করা সাধারণভাবে শরিয়তসম্মত নয়, যদি না এর অনুমতি থাকে।
তিনি আরও বলেন, অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পন্ন করার পর অতিরিক্ত সময় অবশিষ্ট থাকলে, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অন্য কোনো দায়িত্ব পালনের চাপ না থাকলে এবং অন্য কোনো কাজ অর্পিত না থাকলে ব্যক্তিগত কাজ করার সুযোগ থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের সরাসরি বা ইঙ্গিতবহ অনুমতি কিংবা প্রচলিত নিয়মে অনুমোদন থাকা জরুরি।
এমন পরিস্থিতিতে বই পড়া বা মোবাইল ব্যবহার করার মতো ছোটখাটো ব্যক্তিগত কাজ করা জায়েজ হতে পারে।
মুফতি আব্দুল কাইয়ুম সতর্ক করে বলেন, কর্তৃপক্ষের অর্পিত দায়িত্বে অবহেলা করে মোবাইল ব্যবহার বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত কাজে মগ্ন থাকা নাজায়েজ এবং আমানতের খেয়ানতের অন্তর্ভুক্ত।
চাকরির নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব পালনের বিনিময়েই কর্মচারী বেতন গ্রহণ করেন। দায়িত্ব পালনে অবহেলা করে মূল্যবান কর্মঘণ্টা ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করা অন্যের হক নষ্ট করার শামিল। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলার কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
তাই প্রত্যেক কর্মচারীর উচিত, চাকরির নির্ধারিত সময়ে নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা এবং বেতনের ক্ষেত্রে হালাল-হারামের বিষয়ে সতর্ক থাকা।
উত্তরদাতা: মুফতি আব্দুল কাইয়ুম, মুফতী ও মুহাদ্দিস, দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদ্রাসা, মুহাম্মদপুর, ঢাকা।

