টেস্টটিউব বেবি নেওয়া কি জায়েজ? জানুন ইসলামি বিধান
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সন্তান লাভের আশায় অনেক দম্পতি চিকিৎসাবিজ্ঞানের সহায়তা নেন। বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এমনই একটি পদ্ধতি হলো টেস্টটিউব বেবি বা আইভিএফ (ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন)। এ পদ্ধতিতে নারীর ডিম্বাণু ও পুরুষের শুক্রাণু শরীরের বাইরে নিষিক্ত করে তৈরি ভ্রূণ নারীর জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। তবে এভাবে সন্তান নেওয়া শরিয়তসম্মত কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, টেস্টটিউব বেবি নেওয়া সব ক্ষেত্রে হারাম নয়। স্বামী-স্ত্রীর নিজস্ব শুক্রাণু ও ডিম্বাণু ব্যবহার করে তাদের বৈধ দাম্পত্য সম্পর্ক চলাকালে ভ্রূণ তৈরি এবং স্ত্রীর জরায়ুতে তা স্থাপন করা হলে অনেক ইসলামি আলেম তা শর্তসাপেক্ষে বৈধ বলে মত দিয়েছেন। তবে এ প্রক্রিয়ায় বংশপরিচয় ও বৈবাহিক সম্পর্কের বিধান রক্ষা করা জরুরি।
স্বামীর শুক্রাণু বা স্ত্রীর ডিম্বাণুর পরিবর্তে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির শুক্রাণু, ডিম্বাণু কিংবা ভ্রূণ ব্যবহার করলে তা শরিয়তসম্মত নয় বলে অধিকাংশ সমসাময়িক ইসলামি ফিকহ কাউন্সিল মত দিয়েছে। একইভাবে অন্য নারীর জরায়ুতে স্বামী-স্ত্রীর ভ্রূণ স্থাপন বা সারোগেসি নিয়েও ইসলামি আলেমদের মধ্যে নিষেধাজ্ঞার মত প্রচলিত।
এ ধরনের পদ্ধতিতে বংশপরিচয়, মাতৃত্ব এবং বৈবাহিক সম্পর্কসংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই সন্তান নেওয়ার চিকিৎসাপদ্ধতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে এসব বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।
স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পর সংরক্ষিত ভ্রূণ ব্যবহার করে সন্তান নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও শরিয়তে বিধিনিষেধ রয়েছে। অনেক ইসলামি ফিকহ কাউন্সিল বৈবাহিক সম্পর্ক চলাকালে স্বামী-স্ত্রীর নিজস্ব জননকোষ ব্যবহারের শর্ত দিয়েছে। তাই তালাক বা স্বামীর মৃত্যুর পর ভ্রূণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিজে থেকে সিদ্ধান্ত না নিয়ে যোগ্য মুফতির পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, ইসলামী চিন্তাবিদ শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, টেস্টেটিউব পদ্ধতিতে শিশু সন্তান জন্ম দেওয়া ইসলামে না জায়েজ না। তবে এই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের হারাম থাকা যাবে না। এই পদ্ধতি ব্যবহারের সময় কয়েকটি বিষয়ে তিনি সচেতন থাকতে বলেছেন। অন্যথায় হারাম হিসাবে পরিগণিত হবে। যেমন, এই পদ্ধতি গ্রহণের সময় ডাক্তারদের কাছে সতর উন্মুক্ত করা যাবে না। হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বীর্য সংগ্রহ করা যাবে না, স্বভাবিক প্রক্রিয়ায় গ্রহণ করতে হবে। স্বামী ও স্ত্রীর ব্যতিত অন্য কারও বীর্য সংগৃহ করা যাবে না।

