সিনেমা না দেখে শুধু শব্দ শুনলেও কি গুনাহ হবে? ইসলাম কী বলে
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঘরের কাজ করতে করতে ইউটিউবে মুভির এক্সপ্লানেশন শোনার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। কেউ আগে সিনেমা দেখলেও এখন শুধু গল্পের বর্ণনা শোনেন। কিন্তু ভিডিও না দেখে কেবল অডিও শুনলে ইসলামের দৃষ্টিতে তা কতটা গ্রহণযোগ্য? এ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি নির্ভর করে কী শোনা হচ্ছে এবং তাতে কী ধরনের উপাদান রয়েছে, তার ওপর। মুভির এক্সপ্লানেশনে যদি অশ্লীলতা, নিষিদ্ধ বিষয়, ধর্মীয় বিশ্বাসবিরোধী বক্তব্য কিংবা অনুপযুক্ত বিনোদনের উপাদান থাকে, তাহলে সেগুলো এড়িয়ে চলা উচিত। শুধু ভিডিও না দেখলেই যে শোনা সম্পূর্ণ বৈধ হয়ে যাবে, এমন নয়।
বিশেষ করে অনেক হরর মুভির এক্সপ্লানেশনে ভয় ও উত্তেজনা তৈরির জন্য ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ব্যবহার করা হয়। বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার ও তা শোনার বিধান নিয়ে ইসলামি আলেমদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সহিহ বুখারির ৫৫৯০ নম্বর হাদিসে বাদ্যযন্ত্রকে বৈধ মনে করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
হরর সিনেমার গল্পে অনেক সময় ভূত, আত্মা, জাদু কিংবা অতিপ্রাকৃত শক্তির নানা কাল্পনিক চিত্র তুলে ধরা হয়। এসব কাহিনিকে বাস্তব ধর্মীয় বিশ্বাস হিসেবে গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। বিশেষ করে কোনো গল্পে শিরক বা কুফরিসংক্রান্ত বিশ্বাসকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হলে তা সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। তবে কাল্পনিক গল্প শোনা মাত্রই কেউ গুনাহগার হয়ে যাবেন, এমন সিদ্ধান্তও সব ক্ষেত্রে দেওয়া যায় না।
ইসলামে অনর্থক ও ক্ষতিকর বিষয় থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সফল মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, 'আর যারা অনর্থক বিষয় থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখে।' (সুরা আল-মুমিনুন, আয়াত ৩)
হরর কাহিনির প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি যদি মনে অযথা ভয়, অস্থিরতা কিংবা ইবাদতে অমনোযোগ তৈরি করে, তাহলে এই অভ্যাস কমিয়ে আনা ভালো। বিশেষ করে যে ধরনের কনটেন্ট ধর্মীয় বিশ্বাস বা ব্যক্তিগত মানসিক প্রশান্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, তা এড়িয়ে চলাই উত্তম।
যারা ঘরের কাজের সময় কিছু শুনতে পছন্দ করেন, তারা চাইলে নবী-রাসুলদের জীবনী, সিরাত, কোরআনের তাফসির কিংবা উপকারী শিক্ষামূলক আলোচনা শুনতে পারেন। এতে অবসর সময়কে অর্থবহভাবে কাজে লাগানো সম্ভব।

-6accd8867a765.jpg)