Logo
Logo
×
   

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

জান্নাতে কি ভালোবাসার মানুষকে সঙ্গী হিসেবে পাওয়া যাবে?

Advertisement

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম

জান্নাতে কি ভালোবাসার মানুষকে সঙ্গী হিসেবে পাওয়া যাবে?

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ভালোবাসা মানুষের হৃদয়ের একটি স্বাভাবিক ও অনুভূতির বিষয়। তবে দুনিয়ার জীবনে সবাই তাদের কাঙ্ক্ষিত ভালোবাসার মানুষকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পান না। অনেক সময় অনেক পুরুষ ও নারী কাউকে মন থেকে ভালোবেসেও শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে পারেন না। তখন অনেকের মনেই আকুল প্রশ্ন জাগে—জান্নাতে তো মানুষের কোনো চাওয়াই অপূর্ণ থাকবে না, তবে কি সেখানে আল্লাহর কাছে দোয়া করে দুনিয়ার সেই ভালোবাসার মানুষকে সঙ্গী হিসেবে পাওয়া যাবে? কুরআন-হাদিসের আলোক ও বিশ্বখ্যাত ইসলামি আলোচক ডা. জাকির নায়েকের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বিষয়টি নিচে সহজ ও প্রাঞ্জলভাবে আলোচনা করা হলো।

১. দুনিয়ার বিবাহিত স্ত্রীর ক্ষেত্রে বিধান

আপনি যদি সেই কাঙ্ক্ষিত ভালোবাসার মানুষকে দুনিয়াতে বিয়ে করে থাকেন এবং তিনি আপনার বিবাহিত স্ত্রী হন, তবে জান্নাতেও তিনি আপনার সঙ্গী হবেন। আল্লাহ তাআলা জান্নাতে সৎকর্মশীল মুমিনদের পরিবার ও দম্পতিদের পুনর্মিলিত করার স্পষ্ট ওয়াদা দিয়েছেন।

শুধু তা-ই নয়, জান্নাতে পরিবারের কোনো সদস্যের আমলের স্তর উঁচুতে আর কারও স্তর কিছুটা নিচে থাকলে, উচ্চ স্তরের সদস্যকে নিচে নামানো হবে না; বরং আল্লাহর বিশেষ রহমতে নিচের স্তরের সদস্যকে পদোন্নতি দিয়ে ওপরের স্তরে এনে পরিবারের সবাইকে একত্র করে দেওয়া হবে।

২. অবিবাহিত বা হারাম সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিধান

কিন্তু আপনি যদি সেই মানুষটিকে দুনিয়াতে বিয়ে না করে থাকেন এবং তার সঙ্গে কোনো অবৈধ বা হারাম সম্পর্ক থেকে থাকে, তবে জান্নাতে তার সঙ্গে একত্র হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে—

  • তাওবা ও মানসিক পরিবর্তন: আপনি যদি সেই হারাম সম্পর্কের জন্য আন্তরিকভাবে তাওবা করেন এবং আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে জান্নাতে প্রবেশ করান, তবে জান্নাতে যাওয়ার পর আপনার মনের অবস্থা দুনিয়ার মতো থাকবে না।
  • ভুলের অনুশোচনা ও পবিত্র ইচ্ছা: জান্নাতে প্রবেশ করার পর একজন খাঁটি মুমিন হিসেবে আপনি অনুধাবন করতে পারবেন যে, দুনিয়াতে ওই অবৈধ সম্পর্কটি একটি ভুল ছিল। ক্ষমা পেয়ে জান্নাতে যাওয়ার পর আপনি আর সেই ভুলের প্রতি বিন্দুমাত্র আকর্ষণ অনুভব করবেন না।
  • অনুচিত আকাঙ্ক্ষার বিলোপ: জান্নাতে মানুষের মন থেকে সব ধরণের হিংসা, পাপ এবং অনুচিত বাসনা দূর করে দেওয়া হবে। ফলে দুনিয়ার সেই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মানুষের প্রতি জান্নাতে আপনার মনে কোনো আকাঙ্ক্ষাই তৈরি হবে না।
  • উত্তম বিকল্প: আল্লাহ তাআলা আপনাকে জান্নাতে এর চেয়েও অনেক উত্তম ও পবিত্র সঙ্গী দান করবেন। অন্যদিকে সেই নারীও যদি তাওবা করে জান্নাতে যান, তবে আল্লাহ তাকেও অন্য কোনো পরহেজগার পুরুষের সঙ্গে মিলিয়ে দেবেন এবং তিনিও শান্তিতে থাকবেন।
  • সংক্ষেপে— সম্পর্ক যদি দুনিয়াতে হালাল (বিবাহিত) হয়ে থাকে, তবে জান্নাতেও আপনারা একসঙ্গে থাকবেন। আর সম্পর্কটি হালাল না হলে, জান্নাতে আপনার মনে সেই মানুষের জন্য আর কোনো চাওয়াই অবশিষ্ট থাকবে না।

কুরআন থেকে দলিল

১. জান্নাতে মুমিন পরিবার ও দম্পতিদের পুনর্মিলন সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَالَّذِينَ آمَنُوا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُم بِإِيمَانٍ أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَمَا أَلَتْنَاهُم مِّنْ عَمَلِهِم مِّن شَيْءٍ

‘আর যারা ইমান আনে এবং তাদের সন্তান-সন্ততি ইমানে তাদের অনুসরণ করে, আমি তাদের সঙ্গে তাদের সন্তান-সন্ততিকে একত্রিত করব এবং তাদের আমল হতে কিছুই কমাব না।’ (সূরা আত-তূর: আয়াত ২১)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—

جَنَّاتُ عَدْنٍ يَدْخُلُونَهَا وَمَن صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ

‘তারা প্রবেশ করবে স্থায়ী জান্নাতে এবং তাদের পিতামাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকাজ করেছে তারাও।’ (সুরা আর-রাদ: আয়াত ২৩)

২. জান্নাতিদের সকল পবিত্র ইচ্ছা পূরণ ও মানসিক পবিত্রতা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَفِيهَا مَا تَشْتَهِيهِ الْأَنفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ ۖ وَأَنتُمْ فِيهَا خَالِدُونَ

‘আর সেখানে থাকবে তা-ই, মন যা চায় এবং চোখ যাতে তৃপ্ত হয়। আর সেখানে তোমরা স্থায়ী হবে।’ (সুরা আজ-জুখরুফ: আয়াত ৭১)

হাদিস থেকে দলিল

জান্নাতে মানুষের অন্তরের হিংসা-বিদ্বেষ ও অনুচিত ইচ্ছা দূর করে দেওয়ার বিষয়ে হাদিসে বলা হয়েছে—

 ... لاَ اخْتِلاَفَ بَيْنَهُمْ وَلاَ تَبَاغُضَ، قُلُوبُهُمْ قَلْبٌ وَاحِدٌ

‘...জান্নাতিদের মধ্যে কোনো মতভেদ বা পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। তাদের সকলের অন্তর হবে একটি একক অন্তরের মতো (সম্পূর্ণ পবিত্র)।’ (বুখারি ৩২৪৬)

জান্নাত হলো এক পবিত্র ও চিরশান্তির নীড়। দুনিয়ার জীবনে কোনো ভালোবাসার মানুষকে না পাওয়ার কষ্ট নিয়ে আফসোস না করে, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত যেকোনো মূল্যে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে জান্নাতে যাওয়া। যদি আমরা হালাল উপায়ে কাউকেই ভালোবেসে সঙ্গী করে জান্নাতে পৌঁছাতে পারি, তবে আল্লাহ সেই বাঁধনকে আরও চিরস্থায়ী করবেন। আর যদি তা না হয়, তবে জান্নাতে মহান আল্লাহ আমাদের মনকে এমন তৃপ্ত ও পবিত্র করে দেবেন যে, তার দেওয়া উত্তম নিয়ামতেই আমরা চিরসুখী থাকব।

সূত্র: হুদা টিভি

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম