Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসায় নবীজির (সা.) ৫ উপমা

Icon

ইসলাম ও জীবন ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসায় নবীজির (সা.) ৫ উপমা

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালোবাসা, সম্মান ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গড়ে ওঠে। ইসলাম দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর অধিকার আদায়ের পাশাপাশি তার সঙ্গে সদাচরণেরও শিক্ষা দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন—

وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ

‘তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন কর।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ১৯)

স্বামী-স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বোঝাতে আরও ইরশাদ হয়েছে—

هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ

‘তারা (স্ত্রীরা) তোমাদের জন্য পোশাকস্বরূপ এবং তোমরা তাদের পোশাকস্বরূপ।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৭)

দাম্পত্য জীবনে সুন্দর আচরণের গুরুত্ব বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي

‘তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।’ (তিরমিজি ৩৮৯৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিজের দাম্পত্য জীবনেও স্ত্রীদের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও তাদের গুণের স্বীকৃতির একাধিক দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। নিচে তার জীবনের এমন পাঁচটি আলোকোজ্জ্বল উপমা তুলে ধরা হলো—

১. খাদিজা (রা.)-এর কথা স্মরণ ও প্রশংসা

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রথম স্ত্রী খাদিজা (রা.)-এর ইন্তেকালের পর তিনি তাকে প্রায়ই স্মরণ করতেন এবং তার প্রশংসা করতেন। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর স্ত্রীদের মধ্যে খাদিজা (রা.)-এর প্রতি যতটা ঈর্ষা অনুভব করেছি, অন্য কারও প্রতি ততটা করিনি। কারণ, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে প্রায়ই স্মরণ করতেন এবং তার প্রশংসা করতেন।’ (বুখারি ৫২২৯)

একই বর্ণনায় খাদিজা (রা.)-কে জান্নাতে একটি প্রাসাদের সুসংবাদ দেওয়ার কথাও এসেছে। এতে বোঝা যায়, প্রিয় স্ত্রীর গুণ ও অবদানের স্বীকৃতি দিতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর মধ্যে কোনো সংকোচ ছিল না।

২. খাদিজা (রা.)-এর বিশেষ মর্যাদা তুলে ধরা

রাসুলুল্লাহ (সা.) খাদিজা (রা.)-এর মর্যাদাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। হাদিসে এসেছে—

خَيْرُ نِسَائِهَا مَرْيَمُ ابْتُنُ عِمْرَانَ وَخَيْرُ نِسَائِهَا خَدِيجَةُ

‘পৃথিবীতে স্ত্রীদের মধ্যে (সে যুগে) শ্রেষ্ঠ ছিলেন মারইয়াম বিনতে ইমরান এবং (এ যুগে) শ্রেষ্ঠ হলেন খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ।’ (মুসলিম ২৪৩০)

খাদিজা (রা.)-এর ঈমান, ত্যাগ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সহযোগিতার যে মর্যাদা ছিল, এই বক্তব্যে তার পূর্ণ স্বীকৃতি পাওয়া যায়।

৩. আয়েশা (রা.)-কে নিজের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ হিসেবে উল্লেখ

একবার হজরত আমর ইবনুল আস (রা.) রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, ‘মানুষের মধ্যে আপনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় কে?’ তিনি বলেন, ‘আয়েশা।’ এরপর জিজ্ঞাসা করা হয়, ‘পুরুষদের মধ্যে?’ তিনি বলেন, ‘তার বাবা।’ (তিরমিজি ৩৮৮৬)

স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ্যে স্বীকার করার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে স্বচ্ছন্দ ছিলেন, এই হাদিস তার একটি স্পষ্ট দৃষ্টান্ত।

৪. আয়েশা (রা.)-এর বিশেষ মর্যাদা প্রকাশ

হজরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

كَمُلَ مِنَ الرِّجَالِ كَثِيرٌ، وَلَمْ يَكْمُلْ مِنَ النِّسَاءِ إِلَّا مَرْيَمُ بِنْتُ عِمْرَانَ، وَآسِيَةُ امْرَأَةُ فِرْعَوْنَ، وَفَضْلُ عَائِشَةَ عَلَى النِّسَاءِ كَفَضْلِ الثَّرِيدِ عَلَى سَائِرِ الطَّعَامِ

‘পুরুষদের মধ্যে অনেকে পূর্ণতা অর্জন করেছেন। নারীদের মধ্যে ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া এবং ইমরানের কন্যা মারইয়াম পূর্ণতা অর্জন করেছেন। আর নারীদের ওপর আয়েশার মর্যাদা এমন, যেমন অন্যান্য খাবারের ওপর সারিদের (গোশত মিশ্রিত বিশেষ রুটির খাবার) মর্যাদা।’ (বুখারি ৩৪১১)

এখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত আয়েশা (রা.)-এর বিশেষ মর্যাদা স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছেন। স্ত্রীর গুণ ও মর্যাদাকে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি দেওয়ার এটিও একটি অনন্য দৃষ্টান্ত।

৫. দানশীলতার মর্যাদা প্রকাশ

রাসুলুল্লাহ (সা.) তার স্ত্রীদের একবার বলেছিলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যার হাত সবচেয়ে লম্বা, সে আমার সঙ্গে সবচেয়ে দ্রুত মিলিত হবে।’

এরপর স্ত্রীদের মধ্যে হাত মাপা হলে সাওদা (রা.)-এর হাত সবচেয়ে লম্বা পাওয়া যায়। পরে বোঝা যায়, ‘লম্বা হাত’ বলতে শারীরিক দৈর্ঘ্য নয়, দানশীলতাকে বোঝানো হয়েছিল। সাওদা (রা.) দান-সদকা করতে ভালোবাসতেন। শেষ পর্যন্ত তিনিই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর তার স্ত্রীদের মধ্যে সবার আগে ইন্তেকাল করেন। (বুখারি ১৪২০)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দাম্পত্য জীবনের এসব ঘটনা থেকে বোঝা যায়, স্ত্রীকে ভালোবাসা, গুণের স্বীকৃতি দেওয়া এবং মর্যাদা প্রকাশ করা সুন্দর দাম্পত্য আচরণের অংশ। তিনি খাদিজা (রা.)-এর অবদান ও মর্যাদা স্মরণ করেছেন, আয়েশা (রা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন এবং তাদের বিশেষ মর্যাদা তুলে ধরেছেন। দাম্পত্য জীবনে পরস্পরের ভালো গুণের প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও সম্মান প্রদর্শন সম্পর্ককে আরও সুন্দর ও মধুর করে তুলতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পারিবারিক জীবনের এসব সোনালি দৃষ্টান্ত থেকে আমাদের দৈনন্দিন দাম্পত্য সম্পর্কে ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের গভীর শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

আরবি ১২ মাসের নাম এলো যেভাবে

আরবি ১২ মাসের নাম এলো যেভাবে

আয়াতুল কুরসির মর্যাদা কী ও আমলের সময় কখন?

আয়াতুল কুরসির মর্যাদা কী ও আমলের সময় কখন?

প্রতিদিনের যে ৮ নফল নামাজে বরকতময় হয়ে ওঠে মুমিনের জীবন

প্রতিদিনের যে ৮ নফল নামাজে বরকতময় হয়ে ওঠে মুমিনের জীবন

কেউ একজন থাকুক, যে ভালোবাসার ছায়ায় জান্নাতের পথে এগিয়ে নেবে

কেউ একজন থাকুক, যে ভালোবাসার ছায়ায় জান্নাতের পথে এগিয়ে নেবে

স্বামী-স্ত্রী একে অপর থেকে কতদিন দূরে থাকতে পারবে?

স্বামী-স্ত্রী একে অপর থেকে কতদিন দূরে থাকতে পারবে?

নারী-পুরুষের পর্দার ধরন কি এক, নাকি ভিন্নতা আছে?

নারী-পুরুষের পর্দার ধরন কি এক, নাকি ভিন্নতা আছে?

আরও পড়ুন

‘ডিভোর্স দিলাম’ বললে কত তালাক হয়?

‘ডিভোর্স দিলাম’ বললে কত তালাক হয়?

দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসায় নবীজির (সা.) ৫ উপমা

দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসায় নবীজির (সা.) ৫ উপমা

জলবায়ু পরিবর্তন ও কিয়ামতের আলামত

জলবায়ু পরিবর্তন ও কিয়ামতের আলামত

আরবি ১২ মাসের নাম এলো যেভাবে

আরবি ১২ মাসের নাম এলো যেভাবে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম