মৃত্যুর চেয়েও যেসব বিষয় সবচেয়ে বেশি ভয়ংকর
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মানুষ মাত্রই মৃত্যুকে ভয় পায়। কিন্তু একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, শ্বাস-প্রশ্বাসের এই বাহ্যিক সমাপ্তি বা নিছক জীবনপ্রদীপ নিভে যাওয়াটাই মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় ভীতির কারণ হতে পারে না। মৃত্যু তো প্রতিটি প্রাণীর জন্য এক অবধারিত ও স্বাভাবিক সত্য। তবে মানুষের জন্য আসল উদ্বেগের বিষয় হলো—সে কীভাবে এই নশ্বর পৃথিবী ত্যাগ করছে এবং তার সৃষ্টিকর্তার সামনে কীভাবে উপস্থিত হচ্ছে। কারণ মৃত্যুর ক্ষণটি সুন্দর না হলে তার পরের অনন্ত যাত্রা নেমে আসতে পারে চরম অন্ধকার ও ব্যর্থতা।
মৃত্যুর আসল ভয়াবহতা যেখানে লুকিয়ে আছে
মৃত্যু সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় নয়! সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো— সৎ আমল ছাড়া মৃত্যু হওয়া, তওবা না করে মৃত্যুবরণ করা, অন্তরকে আল্লাহর সঙ্গে সংযুক্ত না করে মৃত্যু হওয়া, ইসলামের ওপর জীবন পরিচালিত না করে মৃত্যু হওয়া। সর্বোপরি এমন অবস্থায় মৃত্যু হওয়া, যে অবস্থায় আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট থাকেন।
বাহ্যিক মৃত্যু কিংবা জীবনাবসান কোনো চূড়ান্ত ট্র্যাজেডি নয়। মূল ভীতি ও বিপর্যয় লুকিয়ে থাকে মানুষের আমল, নিয়ত এবং তার রবের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন বিষয়গুলো মৃত্যুকে প্রকৃত অর্থেই ভীতিপ্রদ করে তোলে—
- সৎ আমল ছাড়া মৃত্যুবরণ করা: খালি হাতে রবের দরবারে উপস্থিত হওয়া একজন বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় শূন্যতা। মৃত্যুর পর সৎ আমলই হয় মানুষের একমাত্র সঙ্গী।
- তওবা না করে বিদায় নেওয়া: জীবন থাকতে পাপের অনুশোচনায় আল্লাহর কাছে ক্ষমা না চেয়ে হুট করে চলে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ তওবা ছাড়া গুনাহের বোঝা নিয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়ানো কঠিন শাস্তির কারণ হতে পারে।
- অন্তরকে আল্লাহর সঙ্গে যুক্ত না রাখা: হৃদয়ে ঈমানের আলো না রেখে, আল্লাহকে ভুলে দুনিয়ার মোহে ডুবে থাকা অবস্থায় মৃত্যু মহা ক্ষতির শামিল।
- ইসলামের বিধান অনুযায়ী জীবন না চালানো: পুরো জীবন নিজের খেয়ালখুশি মতে চালিয়ে শেষ মুহূর্তে মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
- আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিয়ে বিদায় নেওয়া: একজন মানুষের জন্য এর চেয়ে বড় দুর্ভাগ্য আর কিছু হতে পারে না যে, তার স্রষ্টা ও প্রতিপালক তার ওপর অসন্তুষ্ট বা ক্ষুব্ধ থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হলো।
হেদায়াতের আলোকে কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনা
ইসলাম আমাদের মৃত্যুর আগের এই প্রস্তুতি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর অবিচল থাকার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তাগিদ দিয়েছে। তাহলো—
১. ইমানের ওপর মৃত্যুর গুরুত্ব
আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে মুমিনদের সুনির্দিষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তারা খাঁটি মুসলিম ও মুমিন না হয়ে মৃত্যুবরণ না করে। কুরআনে এসেছে—
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوا۟ ٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِۦ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ
‘হে ইমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিত তেমনিভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে কোনো অবস্থায় মৃত্যুবরণ কর না।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ১০২)
২. তওবার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব
মৃত্যুর আগে তওবা করে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা আহ্বান জানিয়ে বলেছেন—
وَتُوبُوٓا۟ إِلَى ٱللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ ٱلْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
‘হে মুমিনগণ! তোমরা সবাই আল্লাহর কাছে তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।’ (সুরা আন-নূর: আয়াত ৩১)
৩. বান্দার শেষ পরিণতির গুরুত্ব
মানুষের জীবনের শেষ সময়টি কতটা মূল্যবান, সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—
إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالْخَوَاتِيمِ
‘নিশ্চয়ই মানুষের যাবতীয় আমলের মূল্যায়ন নির্ভর করে তার শেষ পরিণতির (বা শেষ আমলের) ওপর।’ (বুখারি ৬৬০৭)
আমাদের চিরস্থায়ী ঠিকানা এই দুনিয়া নয়, বরং আখেরাত। তাই মৃত্যুর রূপ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে, মুমিনের প্রতিটি মুহূর্তের ভাবনা হওয়া উচিত মৃত্যুর পরের জীবন নিয়ে। প্রতিদিনের কাজকর্মে, চালচলনে ইসলামের আদর্শ ফুটিয়ে তোলা এবং প্রতিনিয়ত রবের সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করাই মুমিনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
আসুন— ক্ষণস্থায়ী মোহে না ভুলে আমরা প্রতিনিয়ত নিজেদের আমল শুধরে নিই এবং খাঁটি হৃদয়ে আল্লাহর দরবারে এভাবে পানাহ চাই—
‘হে আল্লাহ! আমাদের সবাইকে ঈমানের সঙ্গে বেঁচে থাকার এবং খাঁটি মুমিন হিসেবে আপনার সন্তুষ্টি নিয়ে ইমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

