চাকরির সময় বা কর্মস্থল বহাল রাখতে ঘুস দেওয়া কি জায়েজ?
Advertisement
ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামে ঘুস গ্রহণ করা সম্পূর্ণ হারাম এবং কবীরা গুনাহ। এটি সমাজ ও রাষ্ট্রে চরম অন্যায় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। পবিত্র কোরআনে অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ভোগ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
এক প্রশ্নকারী জানতে চান, কোনো প্রকার ঘুস ছাড়াই একজনের চাকরি হয়েছে। কিন্তু যেকোনো মুহূর্তে বা হঠাৎ করে তার চাকরির সময় বা কর্মস্থল পরিবর্তন করে দেওয়া হতে পারে। এমতাবস্থায় ঘুস না চাইলেও যদি চাকরি বহাল রাখার জন্য ঘুস দেওয়া হয়, তাহলে ওই চাকরির বিধান কী?
উত্তরে ঢাকা আজিমপুরের ইদারাতুত তাখাসসুস ফিল উলূমিল ইসলামিয়ার মুফতি আবু সাঈদ বলেন, যদি চাকরির চুক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুসারে কর্মীর ডিউটির সময় বা কর্মস্থল পরিবর্তন করার অধিকার রাখে, তাহলে শুধু নিজের পছন্দের সময় বা কর্মস্থল বহাল রাখার জন্য ঘুস দেওয়া জায়েজ হবে না। কারণ, এতে কর্তৃপক্ষের বৈধ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার জন্য অন্যায়ভাবে অর্থ দেওয়া হচ্ছে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুসদাতা ও ঘুসগ্রহীতা উভয়ের ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
হাদিসে এসেছে,
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الرَّاشِيَ وَالْمُرْتَشِيَ
অর্থ: আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘুসদাতা ও ঘুসগ্রহীতার ওপর লানত করেছেন।
[সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং: ৩৫৮০]
তবে কোনো ব্যক্তি যদি নিজের বৈধ অধিকার আদায়ের জন্য ঘুস দিতে বাধ্য হন এবং ঘুস না দিলে অন্যায়ভাবে তার অধিকার নষ্ট করা হয়, আর বৈধ কোনো উপায়ে সেই অধিকার আদায়ের সুযোগও না থাকে, তাহলে এ ক্ষেত্রে ঘুসদাতার গুনাহ না হওয়ার অবকাশ রয়েছে। তবে ঘুস গ্রহণকারী ব্যক্তি যথারীতি গুনাহগার থাকবেন।
ফাতাওয়া শামিতে উল্লেখ রয়েছে,
«دَفْعُ الْمَالِ لِلسُّلْطَانِ الْجَائِرِ لِدَفْعِ الظُّلْمِ عَنْ نَفْسِهِ وَمَالِهِ وَلِاسْتِخْرَاجِ حَقٍّ لَهُ لَيْسَ بِرِشْوَةٍ يَعْنِي فِي حَقِّ الدَّافِعِ»
অর্থ: জালিম শাসক বা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিজের ওপর বা নিজের সম্পদের ওপর হওয়া জুলুম প্রতিহত করার জন্য অথবা নিজের প্রাপ্য অধিকার আদায়ের জন্য অর্থ প্রদান করা দাতার ক্ষেত্রে ঘুস হিসেবে গণ্য নয়। [রদ্দুল মুহতার (ফাতাওয়া শামি), ৬/৪২৩]
স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে
যদি কর্মীর বর্তমান ডিউটির সময় বা কর্মস্থল বহাল রাখা তার কোনো চুক্তিগত বা আইনগত অধিকার না হয়, বরং বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নিয়মতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে শুধু তা নিজের পক্ষে বহাল রাখার জন্য অর্থ বা ঘুস দেওয়া জায়েজ হবে না।
জুলুম ও অন্যায়ের ক্ষেত্রে
যদি কর্মীর নির্দিষ্ট সময়ে বা কর্মস্থলে কাজ করার চুক্তিগত বা আইনগত অধিকার থাকে, কিন্তু কোনো কর্মকর্তা অন্যায়ভাবে টাকা ছাড়া সেই অধিকার দিতে না চান এবং বৈধ কোনো উপায়ে অধিকার আদায়ের সুযোগও না থাকে, তাহলে অধিকার আদায়ের জন্য বাধ্য হয়ে অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে দাতার ঘুসের গুনাহ হবে না। তবে অর্থ গ্রহণকারী ব্যক্তি গুনাহগার হবেন।
উপার্জনের বিধান
চাকরিটি নিজেই বৈধ হলে এবং কর্মী যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করলে, এ ধরনের অর্থ প্রদানের কারণে তার চাকরি বা বৈধ কাজের বিনিময়ে প্রাপ্ত বেতনকে হারাম বলা হবে না।
তবে অন্যায়ভাবে সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘুস দিয়ে থাকলে এ জন্য খাঁটি মনে তওবা করা জরুরি।
সূত্র: মুসলিম বাংলা

-6adb838ce8559.jpg)