বিনা কারণে টানা ৩ জুমা না পড়লে কী হয়, ইসলামে যা বলা হয়েছে
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৯ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসলামে জুমার নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মুকিম মুসলিম পুরুষের জন্য জুমার নামাজ আদায় করা ফরজ। তবে কোনো শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে পরপর তিন সপ্তাহ জুমার নামাজ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এমন ব্যক্তির অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দেন বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে এ বিষয়ে ইসলামের বিধান তুলে ধরা হয়েছে। প্রকাশিত ওই উত্তরে বলা হয়, টানা তিন জুমা বিনা ওজরে ছেড়ে দেওয়া অত্যন্ত নিন্দনীয় ও গুরুতর গুনাহের কাজ। তবে এতে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায় না।
উত্তরে বলা হয়, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি বিনা ওজরে ও ইচ্ছাকৃতভাবে পরপর তিনটি জুমা ছেড়ে দেবে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দেবেন। এ মর্মে তিরমিজি, আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহসহ বিভিন্ন হাদিসগ্রন্থে বর্ণনা রয়েছে।
এ ছাড়া হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে পরপর তিন জুমা পরিত্যাগ করাকে ইসলামের প্রতি অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেসব কারণে জুমা না পড়ার সুযোগ রয়েছে
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, অসুস্থতা, সফরসহ শরিয়তসম্মত কিছু কারণে জুমার নামাজে অংশগ্রহণের বাধ্যবাধকতা থাকে না। তবে এমন পরিস্থিতিতে জুমার পরিবর্তে জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করতে হয়।
ফতোয়ায় আরও বলা হয়েছে, জুমার নামাজের গুরুত্ব শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মুসলিম সমাজের ঐক্য ও সম্মিলিত অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও এর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
এ প্রশ্নের উত্তরে ফতোয়া বিভাগ জানায়, পরপর তিন জুমা ছেড়ে দেওয়া মানেই কেউ কাফির হয়ে যাওয়া নয়। মুসলিম পরিচয় থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আলাদা। তবে কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ ছাড়া জুমার নামাজ পরিত্যাগ করা গুরুতর অপরাধ।
তাই যারা অবহেলা বা অলসতার কারণে জুমার নামাজ ছেড়ে দেন, তাদের তওবা করে নিয়মিত নামাজ আদায়ে ফিরে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
