Logo
Logo
×

Advertisement

ইসলাম ও জীবন

আল্লাহ যাদের রিজিক সম্প্রসারিত করেন

Advertisement

Icon

মাহমুদ আহমদ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২১, ০৬:২২ পিএম

আল্লাহ যাদের রিজিক সম্প্রসারিত করেন

Advertisement

হালাল উপার্জন এবং হালাল ভক্ষণের মাঝে যে প্রশান্তি তা অন্য কিছুতে পাওয়া সম্ভব নয়। আমরা অর্থ-সম্পদ উপার্জনের জন্য বৈধ-অবৈধ কতইনা চেষ্টা-প্রচেষ্টা করি। যার আছে সে আরো চাই, চাওয়ার আমাদের শেষ নেই। 

বিশ্বজগতের সকলের রিজিকের ব্যবস্থার মালিক হলেন সৃষ্টিকর্তা। তিনি যাকে চান প্রভূত রিজিক দান করেন। আমাদের কাজ হল তার নির্দেশ অনুযায়ী পরিশ্রম করে হালাল উপার্জন করা। 

যেভাবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেন: ‘তুমি বল, নিশ্চয় আমার রব যার জন্য চান রিজিক সম্প্রসারিত করে দেন এবং সংকুচিতও করে দেন কিন্তু অধিকাংশ, লোক তা জানে না।’ (সুরা সাবা : আয়াত ৩৬)

রিজিকে বরকতের মালিকও আল্লাহ, আমাদের কাজ হল হালাল উপার্জনের জন্য চেষ্টা-প্রচেষ্টা করা আর আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা।

হজরত মাকহুল (রহ.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এ বাক্যগুলো সাতবার বলবে আল্লাহতায়ালা তার সত্তরটি অভাব দূর করবেন। (তন্মধ্যে) সবচেয়ে হাল্কা বিপদ হলো মানুষের অভাব। 

দোয়াটি হলো-‘লা হাউলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লাবিল্লাহ- লা মালজায়া মিনাল্লাহি ইল্লা ইলাইহি।’ 

অর্থ: আল্লাহর সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং নেক আমলে মশগুল হওয়া সম্ভব না। আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। তার কাছেই আশ্রয় গ্রহণ করতে হবে।

আমাদেরকে সব সময় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। আমরা যদি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করে কোন কাজে লেগে যাই আর দোয়া করতে থাকি তাহলে দেখবেন কোথা থেকে রিজিক আসছে তা আমরা কল্পনাও করতে পারব না।

হজরত আবদুল্লাহ ইবন মাসঊদ (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অভাবে পতিত হয়, অত:পর তা সে মানুষের কাছে সোপর্দ করে তার অভাব মোচন করা হয় না। পক্ষান্তরে যে অভাবে পতিত হয়ে এর প্রতিকারে আল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হয় তবে অনিতবিলম্বে আল্লাহ তাকে তড়িৎ বা ধীর রিজিক দেবেন।’ (তিরমিজি )

আমাদের অভাব মোচনের জন্য চাই জাগতিকতাকে প্রাধান্য না দিয়ে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রাখা এবং আল্লাহর নির্দেশ মত চলে জীবন পরিচালনা করা।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহতায়ালা বলেন, হে আদম সন্তান, আমার ইবাদতের জন্য তুমি ঝামেলামুক্ত হও, আমি তোমার অন্তরকে প্রাচুর্য দিয়ে ভরে দেব এবং তোমার দারিদ্র ঘুচিয়ে দেব। আর যদি তা না কর, তবে তোমার হাত ব্যস্ততায় ভরে দেব এবং তোমার অভাব দূর করব না।’ (তিরমিজি)

অন্যান্য ইবাদতের পাশাপাশি আমাদেরকে সর্বদা ইস্তেগফারে রত থেকে সময় অতিবাহিত করতে হবে। আমরা যদি পবিত্র হৃদয় নিয়ে ইস্তেগফার করি তাহলে আল্লাহতায়ালা আমাদেরকে ক্ষমা করবেন এবং আমাদের রিজিকে প্রভূত বরকত দিবেন। 

হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) কর্তৃক বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তেগফার করবে আল্লাহ তার সব সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করে দেবেন, সব দুশ্চিন্তা মিটিয়ে দেবেন এবং অকল্পনীয় উৎস থেকে তার রিজিকের সংস্থান করে দেবেন।’ (আবু দাউদ)

আসলে আমাদের মাঝে যখন অভাব দেখা দেয় তখন আল্লাহর দিকে ঝুকি কিন্তু অভাব দূর হওয়া মাত্রই আল্লাহকে ভুলে যাই আর কৃপণতা দেখাই। 

হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)কে বলতে শুনেছি তিনি ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কামনা করে তার রিজিক প্রশস্ত করে দেয়া হোক এবং তার আয়ু দীর্ঘ করা হোক সে যেন তার আত্মীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে।’ (বোখারি ও মুসলিম)

আসুন, রিজিক বৃদ্ধির জন্য অধিকহারে ইস্তেগফার করি এবং আত্মীয়দের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখি। দয়াময় আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করুন আর আমাদের রিজিকে প্রভূত বরকত দিন, আমিন।

লেখক: ইসলামি গবেষক ও কলামিস্ট
[email protected]

Advertisement

আল্লাহ যাদের রিজিক সম্প্রসারিত করেন

Advertisement

আরও পড়ুন

কন্যাসন্তান নিয়ে যা বলেছে পবিত্র কুরআন

কন্যাসন্তান নিয়ে যা বলেছে পবিত্র কুরআন

টেস্টটিউব বেবি নেওয়া কি জায়েজ? জানুন ইসলামি বিধান

টেস্টটিউব বেবি নেওয়া কি জায়েজ? জানুন ইসলামি বিধান

বছরের পর বছর প্রবাসে, স্ত্রীর অধিকার নিয়ে ইসলামের বিধান

বছরের পর বছর প্রবাসে, স্ত্রীর অধিকার নিয়ে ইসলামের বিধান

স্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়? ইসলাম কি বলে

স্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়? ইসলাম কি বলে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম