ভালোবাসা পেতে ‘যোগ্যতা’ না ‘শর্ত’ লাগে, যা বলছেন মনোবিজ্ঞানীরা
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৭ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক কিংবা ইনস্টাগ্রামের স্টেটাসে বা শৌখিন মগের গায়ে প্রায়শই একটি উক্তি চোখে পড়ে— You can't love others until you love yourself. অর্থাৎ নিজেকে ভালো না বাসলে আপনি অন্যকে ভালোবাসতে পারবেন না। আপাতদৃষ্টিতে কথাটি বেশ অনুপ্রেরণামূলক মনে হলেও মনোবিদদের মতে— এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অনেকের জন্য ক্ষতিকরও বটে।
সম্প্রতি পোর্টল্যান্ডের মনোবিদ জেফ গুয়েন্থার এই জনপ্রিয় প্রবাদের নেপথ্যে থাকা মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ নিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এ কথাটি আক্ষরিক অর্থে মোটেও সত্যি নয় এবং আমাদের চারপাশেই এমন অগনতি প্রমাণ রয়েছে। মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য কোনো ‘যোগ্যতা’ বা ‘শর্ত’ লাগে না।
তিনি বলেন, যারা মারাত্মক আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগেন, তারাও একসময় তাদের সন্তানদের প্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন। ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতার চরম পর্যায়ে থেকেও অনেকে বন্ধুর প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ান। অনেকে আবার নিজেকে ঘৃণা করেও অন্যের প্রতি বিশ্বস্ত থাকেন এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বিলিয়ে দেন। সুতরাং ভালোবাসা দেওয়ার ক্ষমতা কোনোভাবেই নিজের প্রতি অনুরাগের ওপর নির্ভর করতে পারে না।
জেফ গুয়েন্থার বলেন, এই উক্তিটি প্রায়ই ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়টি নিয়ে তাদের মনেই অপরাধবোধে কাজ করে, যারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাদের বোঝানো হয় যে, আগে নিজেদের ‘ঠিক’ বা ‘ফিক্স’ করতে হবে; তবেই তারা অন্যের ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য হবেন। ফলে অনেক মানুষ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন এবং এই বিষয়টিকে ‘নিজের ওপর কাজ করা’ বলে চালিয়ে দেন।
এ মনোবিদ বলেন, অনেক সময় মানুষের আত্মসম্মানবোধ ফিরে আসে অন্যকে ভালোবাসার মাধ্যমে। সম্পর্কে থেকে বিশ্বস্ত থাকা বা কঠিন সময়ে সঙ্গীর পাশে দাঁড়ানোই অনেক সময় প্রমাণ করে যে, ওই মানুষটি অন্যদের চেয়েও অনেক বেশি সক্ষম। এটাই নিরাময়ের প্রকৃত পথ হতে পারে।
জেফ গুয়েন্থার বলেন, উক্তিটি যা বলতে চেয়েও বলতে পারেনি, তা হলো— আমাদের অতীতের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু জটিল প্যাটার্ন তৈরি করে থাকে। তবে একে ‘ভালোবাসতে না পারা’ বলা সম্পূর্ণ ভুল। এগুলো মূলত স্নায়বিক সিস্টেমের কিছু অভ্যাস, যা ছোটবেলার অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হয় এবং এটি অবশ্যই নিরাময়যোগ্য।
