Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

ব্লুটুথ হেডফোন কি মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর, যা বলছে বিজ্ঞান

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম

ব্লুটুথ হেডফোন কি মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর, যা বলছে বিজ্ঞান

প্রতীকী ছবি।

Advertisement

ব্লুটুথ প্রযুক্তি বর্তমান যুগের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তারহীন এই প্রযুক্তি এবং এর থেকে নির্গত রেডিয়েশন বা বিকিরণ আমাদের মস্তিষ্কের কোনো ক্ষতি করছে কিনা, তা নিয়ে জনমনে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ রয়েছে। আমরা নানা সময়ে এ নিয়ে ভিন্ন রকম কথা শুনে থাকি। 

সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতে এই বিষয়টিই স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়েছে। 

ব্লুটুথ প্রযুক্তি ও রেডিয়েশন কী? 

ব্লুটুথ হলো একটি স্বল্পপাল্লার বেতার তরঙ্গ, যা দুটি ডিভাইসের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। এটি মূলত ‘নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন’ নির্গত করে। এক্স-রে বা পারমাণবিক বর্জ্যের মতো ‘আয়োনাইজিং’ রেডিয়েশন ডিএনএ-র ক্ষতি করতে পারলেও, ব্লুটুথের মতো নন-আয়োনাইজিং বিকিরণে সেই শক্তি নেই। ফলে এটি সরাসরি ক্যানসারের কারণ হওয়ার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। 

মোবাইল ফোনের চেয়েও নিরাপদ? 

পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ইমেরিটাস কেন ফস্টার জানান, ব্লুটুথ ডিভাইসগুলো মোবাইল ফোনের তুলনায় অনেক কম বিকিরণ ছড়ায়। 

দীর্ঘক্ষণ হেডফোন ব্যবহার করলে শরীরে কিছুটা এক্সপোজার বাড়লেও, ফোন সরাসরি কানের কাছে ধরে রাখার চেয়ে এটি অনেক বেশি নিরাপদ। এমনকি অ্যাপল এয়ারপডের মতো আধুনিক ডিভাইসের অ্যান্টেনা কানের ভেতর নয়, বরং বাইরের অংশে থাকে, যা ঝুঁকি আরও কমিয়ে দেয়। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকিরণের চেয়েও বড় দুটি স্বাস্থ্যঝুঁকি হলো:

শ্রবণশক্তি হ্রাস: দীর্ঘক্ষণ উচ্চশব্দে (৮০%-এর বেশি ভলিউম) গান শুনলে স্থায়ীভাবে শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে পারে।

পারিপার্শ্বিক অসচেতনতা: হেডফোন লাগিয়ে হাঁটাচলা করার সময় পারিপার্শ্বিক শব্দ শুনতে না পাওয়া বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। অধ্যাপক ফস্টারের মতে, ২০ বছর পরের সম্ভাব্য কোনো টিউমারের চেয়ে রাস্তায় অসতর্কভাবে চলাচলের ফলে দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। 

সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ 

যারা রেডিয়েশন নিয়ে অতিরিক্ত সচেতন থাকতে চান, তারা নিচের নিয়মগুলো মেনে চলতে পারেন:

৬০/৯০ নিয়ম: দিনে সর্বোচ্চ ৬০ থেকে ৯০ মিনিট হেডফোন ব্যবহার করা এবং ভলিউম ৬০-৮০% এর মধ্যে রাখা। 

ওয়্যারড হেডফোন: বিকিরণ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে তারযুক্ত হেডফোন ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প। 

বিরতি নেওয়া: ব্যবহার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কান থেকে ডিভাইসটি খুলে রাখা। 

পরিশেষে, ব্লুটুথ ডিভাইস ব্যবহারে ক্যানসার বা মস্তিষ্কের ক্ষতির কোনো অকাট্য প্রমাণ না থাকলেও, শ্রবণশক্তি রক্ষায় এবং দুর্ঘটনা এড়াতে সচেতন ব্যবহারই এর প্রধান সমাধান। 

সূত্র: স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথ 

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

উৎসবে অস্বাস্থ্যকর খাবার অতিরিক্ত খাচ্ছেন? বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি

উৎসবে অস্বাস্থ্যকর খাবার অতিরিক্ত খাচ্ছেন? বাড়তে পারে হৃদরোগের ঝুঁকি

দাঁড়িয়ে কাজ করায় হাঁটু-কোমরে ব্যথা

দাঁড়িয়ে কাজ করায় হাঁটু-কোমরে ব্যথা

রাতে ঘুম না এলে যা করবেন

রাতে ঘুম না এলে যা করবেন

চোখের মেকআপে যে ভুলগুলো ডেকে আনতে পারে বিপদ

চোখের মেকআপে যে ভুলগুলো ডেকে আনতে পারে বিপদ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম