Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

তীব্র গরমের দিনে কতবার গোসল করা উচিত? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

তীব্র গরমের দিনে কতবার গোসল করা উচিত? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

প্রতীকী ছবি।

Advertisement

গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা যখন ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকে, তখন ‘দিনে কতবার গোসল করা উচিত’—এই প্রশ্নটি খুবই সাধারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রচণ্ড গরমে শরীরকে শীতল করতে অনেকেই বারবার গোসলের প্রয়োজন অনুভব করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দিনে বারবার গোসল করা কি আমাদের ত্বকের জন্য আদৌ নিরাপদ? 

ত্বক একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ইকোসিস্টেম, যার আর্দ্রতা বজায় রাখতে এবং শুষ্কতা রোধ করতে পিএইচ এর ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি। 

‘এভিডেন্স-বেসড কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড অল্টারনেটিভ মেডিসিন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, গরমের দিনে গোসলের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। কারণ অতিরিক্ত গোসল ত্বকের উপরিভাগের প্রাকৃতিক তেলের সূক্ষ্ম ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে। 

গ্রীষ্মকালে বারবার গোসল করার মূল কারণ হলো শরীরের দুর্গন্ধ। অতিরিক্ত ঘামের সঙ্গে যে দুর্গন্ধ তৈরি হয়, তা আমাদের অস্বস্তিতে ফেলে। তাই গোসলের সংখ্যার পাশাপাশি ঘামের দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণের উপায়গুলোর মধ্যেও সমতা বজায় রাখা জরুরি। 

গরমে গোসলের প্রয়োজনীয়তা 

গ্রীষ্মকালে গোসল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঘামের কারণে শরীরের দুর্গন্ধ বৃদ্ধি পায়। দিনে অন্তত দুবার গোসল করলে ত্বকের ভাঁজে জমে থাকা ঘাম, ব্যাকটেরিয়া ও ময়লা দূর হয়। এছাড়া গরমে নিয়মিত গোসল ত্বককে বিভিন্ন ইনফেকশন, র্যাশ এবং অন্যান্য সমস্যা থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের ওপর যে ধকল যায়, তা থেকে বাঁচতে গ্রীষ্মকালীন পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অপরিহার্য। 

গরমে কতবার গোসল করা উচিত? 

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. দীপালি ভরদ্বাজ ব্যাখ্যা করেন, ‘উপমহাদেশে গ্রীষ্মকাল ত্বকের জন্য বেশ কঠোর হতে পারে। তাই আবহাওয়া অনুযায়ী আমাদের পরিচ্ছন্নতা এবং ত্বকের যত্ন নেওয়ার অভ্যাস—যার মধ্যে গোসলের রুটিনও অন্তর্ভুক্ত—তা পরিবর্তন করা উচিত।’ 

গরম, কর্মব্যস্ততা এবং ঘামের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত দিনে ১ থেকে ২ বার গোসল করার পরামর্শ দেওয়া হয়। ব্যক্তিভেদে এই রুটিনটি ভিন্ন হতে পারে: 

দিনে একবার: যারা মূলত ঘরের ভেতরে থাকেন এবং বাইরের রোদ বা ধুলোবালির সংস্পর্শে কম আসেন, তাদের জন্য দিনে একবার গোসল করাই যথেষ্ট। 

দিনে দুবার: যারা বাইরে রোদে কাজ করেন, যাতায়াত করেন কিংবা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাদের দিনে দুবার গোসল করা উচিত। কারণ ঘাম দূর না করলে শরীরে দুর্গন্ধ ও ইনফেকশন হতে পারে। 

এর চেয়ে বেশিবার গোসল করলে ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যেতে পারে, যার জন্য পরবর্তীতে চিকিৎসকের পরামর্শে মলম ব্যবহার করার প্রয়োজন হতে পারে। 

দিনে দুবার গোসল করা কি নিরাপদ? 

হ্যা, দিনে দুবার গোসল করা সম্পূর্ণ নিরাপদ, তবে পানির তাপমাত্রার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। পরিবেশের তাপমাত্রা এমনিতেই বেশি থাকে, তার ওপর যদি গোসলের পানিও গরম হয়, তবে মাত্র একবার গোসল করলেই ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে যাবে।

কিন্তু আপনার বাথরুমে যদি ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পাওয়া যায়, তবে গরমের দিনে অনায়াসে দুবার গোসল করতে পারেন। এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখবে, দুর্গন্ধ কমাবে এবং ফাঙ্গাল ইনফেকশন প্রতিরোধ করবে।

পানির তাপমাত্রার পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে সাবান বা ক্লিনজারের উপাদানের দিকেও। তীব্র গরমে ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত সাবান এড়িয়ে চলাই ভালো। প্রয়োজনে দিনের যেকোনো একবেলার গোসল শুধু পানি দিয়ে অথবা খুব মৃদু কোনো ক্লিনজার ব্যবহার করে সম্পন্ন করা যেতে পারে। 

অতিরিক্ত গোসলের ক্ষতি ও ঝুঁকি 

ত্বকের ক্ষতি এড়াতে অতিরিক্ত গোসল নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। কারণ: 

পানি, সাবান এবং ক্লিনজারের অতিরিক্ত ব্যবহার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কেড়ে নেয়। 

এর ফলে ত্বক শুষ্ক হয়ে চুলকানি শুরু হতে পারে, যা পরবর্তীতে গুরুতর চর্মরোগের কারণ হতে পারে। 

ত্বকের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় ‘মাইক্রোবায়োম’ বা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হয়। 

অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার করলে গরমের দিনে ত্বকের ক্ষতি আরও বেড়ে যায়। 

গরমে গোসল করার সেরা সময় 

দৈনিক রুটিন অনুযায়ী নিচের সময়গুলো গোসলের জন্য বেছে নেওয়া যেতে পারে: 

১. সকালবেলা: সকালের গোসল শরীরকে সতেজ করে এবং সারাদিনের গরম মোকাবিলা করার শক্তি জোগায়।

২. সন্ধ্যাবেলা: সারাদিনের ঘাম, দূষণ এবং ত্বকের ভাঁজে জমে থাকা ময়লা দূর করতে সাহায্য করে, যা ইনফেকশন প্রতিরোধে জরুরি।

৩. ব্যায়ামের পর: ওয়ার্কআউট বা ব্যায়ামের পর শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বের হয়। এই সময়ে ফাঙ্গাল ইনফেকশন এড়াতে গোসল করা আবশ্যক। 

কাদের জন্য বেশিবার গোসলের প্রয়োজন হতে পারে? 

নিচের পরিস্থিতিতে থাকলে বেশিবার গোসল করলেও তা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর নাও হতে পারে: 

  • যারা উন্মুক্ত স্থানে বা রোদে কাজ করেন। 
  • যারা নিয়মিত ভারী ব্যায়াম বা কায়িক পরিশ্রম করেন।
  • যাদের স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার সমস্যা রয়েছে।
  • যারা অতিরিক্ত আর্দ্র অঞ্চলে বসবাস করেন, কারণ সেখানে ইনফেকশনের ঝুঁকি বেশি থাকে। 

অতিরিক্ত গোসল করার লক্ষণসমূহ 

আপনার ত্বকই আপনাকে বলে দেবে যে আপনি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি গোসল করছেন কিনা। লক্ষণগুলো হলো: 

  • ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যাওয়া (কখনও কখনও নখ দিয়ে টানলে সাদা দাগ পড়ে)। 
  • ত্বকে চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দেওয়া। 
  • গোসলের পরপরই ত্বক অতিরিক্ত মাত্রায় টানটান বা খসখসে লাগা (এর অর্থ ত্বক তার স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়েছে)।

গ্রীষ্মকালে ত্বকে এই লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবিলম্বে গোসলের ফ্রিকোয়েন্সি বা সংখ্যা কমিয়ে আনা উচিত। 

পরিশেষে গরমের দিনে কার কতবার গোসল করা উচিত, তার কোনো নির্দিষ্ট বা একচ্ছত্র নিয়ম নেই। তবে অধিকাংশ মানুষের জন্য দিনে ১-২ বার গোসল করাই যথেষ্ট। মূল কথা হলো, ত্বকের সুরক্ষার দেয়াল অক্ষুণ্ণ রেখে গরমের দিনে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার মধ্যে একটি সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। 

সূত্র: এনডিটিভি  

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা অন্যের প্রেম কি আপনার সম্পর্কে ফাটল ধরাচ্ছে?

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা অন্যের প্রেম কি আপনার সম্পর্কে ফাটল ধরাচ্ছে?

বাজার থেকে কেনা ডিম আসল কিনা, বুঝবেন যেভাবে

বাজার থেকে কেনা ডিম আসল কিনা, বুঝবেন যেভাবে

আয়োডিনের ঘাটতিতেই কি থাইরয়েডের সমস্যা? কম লবণ খেলে আরও যেসব রোগ হতে পারে

আয়োডিনের ঘাটতিতেই কি থাইরয়েডের সমস্যা? কম লবণ খেলে আরও যেসব রোগ হতে পারে

দিনে তিন বেলা ভাত খেলে শরীরে যেসব প্রভাব পড়ে

দিনে তিন বেলা ভাত খেলে শরীরে যেসব প্রভাব পড়ে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম