বাজার থেকে কেনা ডিম আসল কিনা, বুঝবেন যেভাবে
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাজার থেকে কেনা ডিম আসল নাকি নকল, তা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মুখরোচক তথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। আসল ও কৃত্রিম ডিমের পার্থক্য হুট করে দেখে বোঝা কঠিন হওয়ায় অনেকে বাজার থেকে ডিম কিনে ঠকার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়ছেন।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমের মান ও সত্যতা যাচাইয়ে অন্ধভাবে গুজবে কান না দিয়ে খোসার অবস্থা, সঠিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং ডিম ভাঙার পর তার রূপ ও গন্ধ পরীক্ষা করাই আসল ডিম চেনার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
কৃত্রিম বা নকল ডিমে ক্ষতিকর নানা রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়, যা দেশের কিছু বাজারে দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। তবে সচেতন থাকলে আসল ও নকল ডিমের পার্থক্য সহজেই ধরে ফেলা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিম কেনার সময় সেটি কিভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে তা দেখা অত্যন্ত জরুরি। খুচরা বাজার থেকে ডিম কেনার ক্ষেত্রে সবসময় সঠিক বা ঠান্ডা তাপমাত্রায় সংরক্ষিত ডিম বেছে নেওয়া উচিত।
আসল ও ভালো ডিম চেনার কার্যকর উপায়
- খোসার মসৃণতা: প্রথমেই ডিমের খোসার দিকে লক্ষ করুন। প্রাকৃতিক বা আসল ডিমের খোসা কিছুটা খসখসে ও অমসৃণ হয়। অন্যদিকে, নকল বা প্লাস্টিক ডিমের বহিরাবরণ অস্বাভাবিক রকমের মসৃণ থাকে।
- শব্দ পরীক্ষা: ডিমটি কানের কাছে নিয়ে আলতো করে ঝাঁকিয়ে দেখুন। তাজা ও ভালো ডিমে ভেতরের অংশ জমাট থাকে বলে কোনো শব্দ হয় না। কিন্তু পুরোনো বা ভেতরের উপাদান নষ্ট হয়ে যাওয়া ডিমে তরল নড়াচড়ার হালকা শব্দ পাওয়া যেতে পারে।
- ওজনের তারতম্য: আকৃতির তুলনায় আসল ডিমের ওজন কিছুটা ভারী মনে হয়। কিন্তু কৃত্রিম বা নকল ডিমের ওজন প্রাকৃতিকের চেয়ে অনেকটাই হালকা হয়ে থাকে।
- পানিতে ডুবিয়ে পরীক্ষা: একটি পাত্রে বা গ্লাসে পানি নিয়ে ডিমটি ছেড়ে দিন। ডিমটি যদি তাজা ও প্রাকৃতিকভাবে সঠিক হয়, তবে তা পানির নিচে ডুবে যাবে।
- গন্ধ ও ভেতরের রূপ: ডিম ভাঙার পর যদি অপ্রীতিকর বা অস্বাভাবিক কোনো গন্ধ পাওয়া যায়, তবে সেটি পরিহার করাই শ্রেয়। কখনো কখনো ভাঙার আগেও ডিম থেকে আষ্টে বা খারাপ গন্ধ বের হতে পারে।
রান্নার সময় সতর্কতা
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিম ভালোভাবে সেদ্ধ বা রান্না করা উচিত। ইউএসডিএ জানায়, ডিমের কুসুম ও সাদা অংশ পুরোপুরি জমে যাওয়া পর্যন্ত রান্না করা দরকার। ডিম দিয়ে তৈরি যেকোনো খাবারের ক্ষেত্রেই নিরাপদ তাপমাত্রা বজায় রাখা জরুরি।
তাই বাজারে ডিম কিনতে গিয়ে ভিত্তিহীন গুজবে কান না দিয়ে ডিমের খোসা অক্ষত আছে কিনা, ঠিকমতো সংরক্ষিত কিনা এবং ব্যবহারের সময় এর গন্ধ ও চেহারা স্বাভাবিক রয়েছে কিনা—এসব বিষয়ে নজর রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

