আয়োডিনের ঘাটতিতেই কি থাইরয়েডের সমস্যা? কম লবণ খেলে আরও যেসব রোগ হতে পারে
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বেশি লবণ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে খাবারে আয়োডিনের ঘাটতি থাকলেও দেখা দিতে পারে নানা শারীরিক সমস্যা। বিশেষ করে আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করতে পারে না। এর ফলে হাইপোথাইরয়েডিজমসহ শরীরে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে লবণের পরিমাণের পাশাপাশি খাবারে পর্যাপ্ত আয়োডিন রয়েছে কি না, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
আয়োডিনের ঘাটতি কেন হয়?
শরীরে আয়োডিনের ঘাটতির অন্যতম কারণ হলো আয়োডিনযুক্ত লবণের পরিবর্তে আয়োডিনবিহীন লবণ ব্যবহার করা। বাজারে বিভিন্ন ধরনের লবণ পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যকর মনে করে অনেকে পরিশোধিত নয় এমন লবণ বা সামুদ্রিক লবণ বেছে নেন। তবে সব ধরনের লবণে আয়োডিনের পরিমাণ সমান নয়।
তাই লবণ কেনার সময় প্যাকেটের গায়ে আয়োডিনযুক্ত কি না, তা দেখে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি খাবারে আয়োডিনের অন্যান্য উৎসও রাখতে হবে।
সামুদ্রিক মাছ, দুধ, ডিমসহ আয়োডিনসমৃদ্ধ খাবার কম খেলে শরীরে এ খনিজের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তবে শুধু কফি, অ্যালকোহল বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়াকেই আয়োডিনের ঘাটতির সরাসরি কারণ বলা যায় না।
আয়োডিনের অভাবে যেসব সমস্যা হতে পারে
থাইরয়েডের সমস্যা: থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য আয়োডিন অপরিহার্য। এর ঘাটতি হলে পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি ব্যাহত হতে পারে এবং হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় ক্লান্তি, শুষ্ক ত্বক ও বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
গর্ভস্থ শিশুর বিকাশে প্রভাব: গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত আয়োডিন না পেলে শিশুর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এ সময়ে আয়োডিনের চাহিদা পূরণ করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা: বেড়ে ওঠার সময়ে আয়োডিনের ঘাটতি হলে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। গুরুতর ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদি বিকাশগত সমস্যার কারণও হতে পারে।
প্রজনন ও হরমোনজনিত জটিলতা: আয়োডিনের ঘাটতি থেকে থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে প্রজননস্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের অনিয়মসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ত্বক শুষ্ক হওয়া ও চুল পড়া: থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কমে গেলে ত্বক শুষ্ক ও নিষ্প্রভ হতে পারে। চুল পড়ার সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
আয়োডিনের ঘাটতি পূরণ করবেন যেভাবে
আয়োডিনের ঘাটতি এড়াতে প্রতিদিনের খাবারে আয়োডিনযুক্ত লবণ পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি দুধ, ডিম ও সামুদ্রিক মাছের মতো আয়োডিনসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উপকারী। আলু ও পালংশাক থেকেও কিছু পরিমাণ আয়োডিন পাওয়া যেতে পারে, তবে এর পরিমাণ মাটি ও উৎপাদনপদ্ধতির ওপর নির্ভর করে।
লবণ একেবারে কমিয়ে দেওয়া বা বাদ দেওয়ার কারণে আয়োডিনের ঘাটতি হবেই, এমন নয়। মূল বিষয় হলো খাবারে পর্যাপ্ত আয়োডিন নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলা। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী, দৈনিক মোট লবণ গ্রহণ ৫ গ্রামের কম রাখা উচিত।
যারা আয়োডিনযুক্ত লবণ খান না, তাদের খাবারের অন্য উৎস থেকে আয়োডিনের চাহিদা পূরণ হচ্ছে কি না, তা খেয়াল রাখতে হবে। থাইরয়েডের উপসর্গ দেখা দিলে নিজে থেকে আয়োডিনের সাপ্লিমেন্ট না খেয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

