আম খেয়ে অসুস্থ বা মৃত্যুর ঘটনা কেন ঘটে?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ১১:৫২ এএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গ্রীষ্মকালের অন্যতম জনপ্রিয় এবং সুস্বাদু ফল আম। এটি তার মিষ্টি স্বাদ এবং পুষ্টিগুণের জন্য 'ফলের রাজা' হিসেবে পরিচিত। তবে অতি প্রিয় এই ফলটিই কখনো কখনো মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সম্প্রতি খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুরে আম খাওয়ার পর ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং একই পরিবারের আরও চারজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুধু বাংলাদেশেই নয়, পাশ্ববর্তী দেশ ভারতেও আম খাওয়ার পর মৃত্যুর মতো বেশ কিছু মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে।
আম খাওয়ার পর অসুস্থ হওয়া বা মৃত্যুর মতো ঘটনা কেন ঘটে? চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং বিভিন্ন ঘটনা পর্যালোচনা করে এর পেছনে প্রধানত তিনটি মারাত্মক কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. বিষাক্ত কীটনাশক ও কার্বাইডের ব্যবহার
আম পাকার আগে বা সংরক্ষণের জন্য অনেক সময় অসাধু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিকর রাসায়নিক বা কীটনাশক ব্যবহার করে থাকে। এটি আম খাওয়ার পর মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।
অর্গানোফসফেট পয়জনিং: আমে ব্যবহৃত তীব্র কীটনাশক শরীরে প্রবেশ করলে তা স্নায়ুতন্ত্রকে অচল করে দেয়। ২০১৮ সালে ভারতের উত্তরপ্রদেশে কীটনাশকযুক্ত আম খেয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয় এবং তার তিন ভাইবোন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসকরা একে 'অর্গানোফসফেট পয়জনিং' হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও ফরমালিন: আম পাকাতে ব্যবহৃত ক্যালসিয়াম কার্বাইড থেকে আর্সেনিক ও ফসফরাসের মতো বিষাক্ত উপাদান তৈরি হয়, যা পাকস্থলীর আলসার, কিডনি নষ্ট হওয়া এবং অতিরিক্ত ডায়রিয়ার মাধ্যমে ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা তৈরি করে মৃত্যু ডেকে আনতে পারে।
২. আমের মারাত্মক অ্যালার্জি বা অ্যানাফিল্যাক্সিস
অনেকের ধারণা আম খেলে বড়জোর সামান্য চুলকানি হতে পারে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, আমের কারণে অত্যন্ত বিরল ও প্রাণঘাতী অ্যালার্জিক রিয়্যাকশন হতে পারে, যাকে ইমিডিয়েড মাংগো হাইপারসেন্সিটিভিটি বা তীব্র অতিসংবেদনশীলতা বলা হয়।
অ্যানাফিল্যাক্সিস: আম খাওয়ার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে শরীরজুড়ে তীব্র অ্যালার্জিক রিয়্যাকশন শুরু হতে পারে। এতে গলা ও ঠোঁট ফুলে যাওয়া, তীব্র শ্বাসকষ্ট এবং রক্তচাপ হঠাৎ কমে গিয়ে মানুষ মারা যেতে পারে।
চিকিৎসকদের বক্তব্য: দিল্লির বল্লভভাই প্যাটেল চেস্ট ইনস্টিটিউটের গবেষকদের মতে, আমের অ্যালার্জেন এতটাই শক্তিশালী যে এটি ক্যানড বা প্রসেসড (প্যাকেটজাত) জুস খাওয়ার পরও নষ্ট হয় না। এমনকি আমের কষ বা আম গাছের সংস্পর্শে এলেও অনেকের চামড়ায় মারাত্মক প্রদাহ দেখা দেয়।
৩. ডায়রিয়া ও ফুড পয়জনিং
খুলনার কয়রায় ঘটে যাওয়া ঘটনার পেছনে ফুড পয়জনিং বা মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সংক্রমিত আম: আম যদি কোনো কারণে পচা, অতিরিক্ত নরম বা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া (যেমন: সালমোনেলা বা ই-কোলাই) দ্বারা আক্রান্ত হয়, তবে তা শরীরে মারাত্মক টক্সিন বা বিষ তৈরি করে।
অতিরিক্ত ডায়রিয়া ও ডিহাইড্রেশন: আম খাওয়ার পর তীব্র ডায়রিয়া এবং বমি হলে শরীর থেকে দ্রুত পানি ও প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইট (লবণ) বের হয়ে যায়। সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা না হলে শক বা অর্গান ফেইলিউরের কারণে রোগীর মৃত্যু হতে পারে।
আম খাওয়ার ক্ষেত্রে জরুরি সতর্কতা:
• আম কেনার পর তা অন্তত আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখুন, যাতে কীটনাশক বা কষ ধুয়ে যায়।
• আমের বোঁটার অংশটি কেটে ফেলার পর ভালো করে ধুয়ে নিন।
• অতিরিক্ত নরম, পচা বা অস্বাভাবিক গন্ধযুক্ত আম খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।
• আম খাওয়ার পর যদি শ্বাসকষ্ট, ঠোঁট-গলা ফোলা বা তীব্র পেটে ব্যথা ও ডায়রিয়া শুরু হয়, তবে এক মুহূর্তও দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

