রক্ত পরীক্ষায় কি ক্যানসার শনাক্ত করা সম্ভব?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৩ এএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ক্যানসারের চিকিৎসায় রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে রক্তভিত্তিক বিভিন্ন পরীক্ষা এখন ক্যানসার-সংশ্লিষ্ট শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষায়িত কিছু রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে ক্যানসারের সম্ভাব্য উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়, যা পরবর্তী সময়ে আরও নির্দিষ্ট পরীক্ষা ও দ্রুত চিকিৎসার পথ তৈরি করে।
রক্ত পরীক্ষায় কি ক্যানসার ধরা পড়ে?
চিকিৎসকরা বলেন, ক্যানসার হলো অস্বাভাবিক কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি, যা শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে টিউমার তৈরি করতে পারে। কিছু রক্ত পরীক্ষায় রক্তকণিকার অস্বাভাবিক মাত্রা, নির্দিষ্ট প্রোটিনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া কিংবা রক্তে থাকা ক্যানসার-সংশ্লিষ্ট জেনেটিক উপাদান শনাক্ত করা সম্ভব।
ক্যানসার নির্ণয়ে যেসব রক্ত পরীক্ষা করা হয়
কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি): এই পরীক্ষায় লোহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও প্লেটলেটের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। এসবের অস্বাভাবিকতা লিউকেমিয়ার মতো রক্তের ক্যানসারের ইঙ্গিত দিতে পারে। আবার কোনো টিউমার অস্থিমজ্জার স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেললেও রক্তের বিভিন্ন উপাদানের মাত্রায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
টিউমার মার্কার পরীক্ষা: কিছু ক্যানসারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রোটিন বা অন্যান্য পদার্থ শরীরে বেশি পরিমাণে তৈরি হতে পারে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এসব উপাদানের মাত্রা পরিমাপ করা হয়। প্রোস্টেট-স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন (পিএসএ), সিএ-১২৫ এবং কার্সিনোএমব্রায়োনিক অ্যান্টিজেন (সিইএ) এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। তবে শুধু টিউমার মার্কারের ফলাফলের ভিত্তিতে ক্যানসার নিশ্চিত করা যায় না। সাধারণত অন্যান্য পরীক্ষার ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে চিকিৎসকরা এগুলো মূল্যায়ন করেন।
লিকুইড বায়োপসি: এটি তুলনামূলকভাবে আধুনিক ও উন্নত রক্ত পরীক্ষা। এর মাধ্যমে রক্তে থাকা ক্যানসার কোষ থেকে নিঃসৃত ক্ষুদ্র জেনেটিক উপাদান বা সার্কুলেটিং টিউমার ডিএনএ (সিটিডিনএ) শনাক্ত করা যায়। এতে টিউমারের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় এবং চিকিৎসার পরিকল্পনা নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে।
যেসব উপসর্গে সতর্ক হওয়া জরুরি
শুধু পরীক্ষার ফল নয়, শরীরে দেখা দেওয়া উপসর্গও ক্যানসারের সম্ভাবনা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এসব লক্ষণের অনেকগুলো সাধারণ বা ক্যানসারবহির্ভূত কারণেও হতে পারে, তবে দীর্ঘদিন ধরে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
১. পর্যাপ্ত বিশ্রাম বা ঘুমের পরও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি।
২. খাদ্যাভ্যাস বা শারীরিক পরিশ্রমে পরিবর্তন না থাকলেও অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়া।
৩. বারবার জ্বর, কাঁপুনি বা অতিরিক্ত রাতে ঘাম হওয়া।
৪. শরীরে নতুন কোনো চাকা, ফোলা বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা দেখা দেওয়া।
৫. কয়েক সপ্তাহ ধরে পায়খানা বা প্রস্রাবের স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিবর্তন থাকা।
৬. কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই অস্বাভাবিক কালশিটে দাগ বা রক্তপাত হওয়া।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, রক্ত পরীক্ষা, শারীরিক পরীক্ষা বা ইমেজিংয়ের ফলাফলে ক্যানসারের সম্ভাবনা দেখা দিলে সাধারণত বায়োপসি করা হয়। এ পদ্ধতিতে শরীরের সন্দেহজনক স্থান থেকে অল্প পরিমাণ টিস্যু সংগ্রহ করে মাইক্রোস্কোপের নিচে পরীক্ষা করা হয়। এর মাধ্যমে ক্যানসার কোষের উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ক্যানসারের ধরন ও রোগের পর্যায় নির্ধারণে সহায়তা পাওয়া যায়।


-6a9aa4418a293.jpg)