জ্বর এলেই প্যারাসিটামল-এন্টিবায়োটিক খাচ্ছেন, বিপদ ডেকে আনছেন না-তো?
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫০ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে ঘরে ঘরে জ্বর হওয়াটা খুবই সাধারণ ঘটনা। কিন্তু জ্বর হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হুটহাট ফার্মেসি থেকে নিজের ইচ্ছেমতো ওষুধ কিনে খাওয়া কি আসলেই নিরাপদ? আমাদের একটু অবহেলা আর সব বুঝি ভাব অনেক সময় সামান্য জ্বরকেও বড় কোনো বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে। না জেনে নিজের মতো ওষুধ খেয়ে আমরা অজান্তেই নিজের শরীরের কী মারাত্মক ক্ষতি করছি, তা আজ আমাদের গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে।
ইচ্ছেমতো ওষুধ খাওয়ার ঝুঁকি
নিজের মতো ওষুধ খাওয়ার সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক বিপদটি হলো অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স। সাধারণ সর্দি-কাশি বা ভাইরাল জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। কারণ এগুলো ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করে না । অথচ অনেকেই না বুঝে সামান্য জ্বরেই অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করেন এবং কোর্স সম্পূর্ণ করেন না। এর ফলে শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলো ওই ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে।
পরবর্তীতে যখন শরীরে সত্যি কোনো বড় ইনফেকশন হয়, তখন নামী-দামী অ্যান্টিবায়োটিকও আর কোনো কাজ করে না। ফলে, রোগীকে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে।
লিভার ও কিডনির ওপর প্রভাব ফেলে
লিভার ও কিডনির মারাত্মক ক্ষতির পেছনেও রয়েছে এই অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস। সামান্য জ্বর বা ব্যথায় আমরা অনেকেই হরহামেশা প্যারাসিটামল খেয়ে থাকি। কিন্তু চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত প্যারাসিটামল সেবন করলে লিভার ফেইলিওরের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
একইভাবে, গা-হাত পা ব্যথার জন্য আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক বা নেপ্রোক্সেনের মতো ব্যথানাশক (পেইনকিলার) ওষুধ ঘন ঘন খেলে কিডনি দ্রুত বিকল বা ড্যামেজ হয়ে যায়। এছাড়া খালি পেটে বা নিয়ম না মেনে এসব ওষুধ খেলে পাকস্থলীতে আলসার বা অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে।
আসল রোগ আড়াল হয়ে যায়
ওষুধ খেয়ে সাময়িকভাবে জ্বরের তাপমাত্রা বা ব্যথা কমিয়ে রাখলে রোগী মনে করেন তিনি সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ভেতরে ভেতরে ডেঙ্গু, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া বা অন্য কোনো বড় ইনফেকশন মারাত্মক রূপ ধারণ করতে থাকে। সঠিক সময়ে সঠিক রোগ নির্ণয় না হওয়ায় পরবর্তীতে রোগীর অবস্থা হঠাৎ আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। এছাড়া ওষুধের সঠিক মাত্রা রোগীর বয়স ও ওজনের ওপর নির্ভর করে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। ফলে ভুল ডোজে ওষুধ খাওয়ার কারণে শরীরে তীব্র বিষক্রিয়া বা অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন হতে পারে।
জ্বর কোনো রোগ নয়, বরং রোগের লক্ষণ। তাই নিজের মনগড়া চিকিৎসা না করে, সামান্য সচেতন হোন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ওষুধ সেবন করুন। সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন।


