Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

হৃদস্পন্দনের ছন্দ ব্যাহত হলে কী হয়, কোন অ্যারিথমিয়া কতটা বিপজ্জনক?

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৭ এএম

হৃদস্পন্দনের ছন্দ ব্যাহত হলে কী হয়, কোন অ্যারিথমিয়া কতটা বিপজ্জনক?

Advertisement

হৃদস্পন্দন ঠিক মতো স্পন্দিত হচ্ছে কিনা, তা নিয়ে সাধারণত আমরা খুব একটা ভাবি না। অথচ এ অঙ্গটি দিনে এক লাখের বেশি বার স্পন্দিত হয়ে সারা শরীরে রক্ত পৌঁছে দেয়। হৃদপিন্ডের এ সামান্য পরিবর্তনও কখনও স্বাভাবিক হতে পারে, আবার তা গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দিতে পারে।

হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হয়ে গেলে তাকে বলা হয় ‘অ্যারিথমিয়া’। সব ধরনের অ্যারিথমিয়া বিপজ্জনক নয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি হৃদপিন্ডের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে এবং গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে।

হৃদপিন্ডের ছন্দ কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়?

হৃদপিন্ডের স্পন্দন মূলত এর নিজের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। ডান অলিন্দনে থাকা ‘সাইনাস নোড’ থেকে বৈদ্যুতিক সংতেক তৈরি হয়। এটিই হৃদপিন্ডের প্রাকৃতিক পেসমেকার হিসেবে কাজ করে।

এরপর সংকেত অলিন্দন থেকে ‘এভিনোড’-এ পৌঁছায় এবং সেখান থেকে ভেন্ট্রিকল বা নিলয়ে ছড়িয়ে পড়ে। এ বৈদ্যুতিক সংকেতের কারণেই হৃদপিন্ড নিয়মিতভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয় এবং সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন করে।

এ সংকেতের তৈরির গতি খুব বেশি বা কমে গেলে কিংবা সংকেতের স্বাভাবিক প্রবাহে সমস্যা হলে হৃদস্পন্দের ছন্দে অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। 

অ্যারিথমিয়ার ধরন ও প্রভাব

হৃদস্পন্দন কতটা দ্রুত বা ধীর এবং ছন্দ কেমন-তার ওপর ভিত্তি করে অ্যারিথমিয়াকে বিভিন্ন ধরনে ভাগ করা হয়।

সুপ্রাভেন্ট্রিকুলার ট্যাকিকার্ডিয়া 

হৃদপিন্ডের ওপরের অংশ থেকে হঠাৎ দ্রুত হৃদস্পন্দন শুরু হলে তাকে এসভিটি বলা হয়।  এ সময় হৃদস্পন্দন ১৫০ থেকে ১৮০ বা তারও বেশি হতে পারে। বুক ধড়ফড়, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা কিংবা জ্ঞান হারানোর মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। 

অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন

অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনে হৃদপিন্ডের অলিন্দন স্বাভাবিক ভাবে সংকুচিত না হয়ে এলোমেলোভাবে কাঁপতে থাকে। ফলে হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে যায়। বুক ধড়ফড়, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা এবং ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমে সমস্যা হতে পারে। অনেকের আবার কোনো উপসর্গ থাকে না। এ সমস্যার অন্যতম ঝুঁকি হলো রক্ত জমাট বাঁধা এবং সেখান থেকে স্ট্রোকের আশঙ্কা। 

অ্যাট্রিয়াল ফ্লাটার

অ্যাট্রিয়াল ফ্লাটার অনেকটা অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনের মতো হলেও এর বৈদ্যুতিক সংকেতের ধরন আলাদা। এতে হৃদস্পন্দন দ্রুত হতে পারে এবং অনেক সময় ছন্দ তুলনামূলকভাবে নিয়মিত থাকে। অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনের মতো এটিতেও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

৪. প্রিম্যাচিউর বিট 

অনেক সময় হৃদস্পন্দনের একটি স্পন্দন বাদ যাওয়ার মতো অনুভূতি হলেও আসলে সেটি অতিরিক্ত বা আগাম স্পন্দন হতে পারে। বুকে ওলট-পালট বা ‘ফিল্প-ফিল্প’ অনুভূতি হতে পারে। ক্যাফেন, অ্যালকোহল, মানসিক চাপ ও ক্লাান্তর কারণে এটি আরও বেশি হতে পারে। অতিরিক্ত পিভিসি হলে হৃদপিন্ডের পেশি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে।

ভেন্ট্রিকুলার ট্যাকিকার্ডিয়া

হৃদপিন্ডের নিচের প্রকোষ্ঠ বা ভেন্ট্রিকল থেকে দ্রুত স্পন্দন শুরু হলে তাকে ভেন্ট্রিকলার বলা হয়। এটি গুরুত্বর অ্যারিদমিয়া। বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী হলে এটি ভেন্ট্রিকুলার ফ্রাইবেশনে পরিণত হয়ে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণ হতে পারে।

ব্র্যাডিকার্ডিয়া 

হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকের তুলনায় দেরি হয়ে গেলে তাকে ব্র্যাডিকার্ডিয়া বলা হয়।  বিশ্রামের সময় প্রতি মিনিটে ৬০-এর কম হৃদস্পন্দন সব সময় অস্বাভাবিক নয়। তবে হৃদপিন্ড এত ধীর হয়ে গেলে যে শরীরে পর্যাপ্ত রক্ত পৌঁছাতে সমস্যা হয়, তখন ক্লান্তি, মাথা ঘোরা এবং শারীরিক পরিশ্রমেও সমস্যা দেখা দিতে পারে। 

অ্যাটিয়াল ফিব্রিলেশন কেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

অ্যাটিয়াল ফিব্রিলেশনে হৃদপিন্ডের অলিন্দনে রক্ত স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত না হওয়ায় রক্ত জমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে ‘লেফট অ্যাট্রিয়াল অ্যাপেন্ডেজ’-এ রক্ত জমাট বেঁধে থ্রম্বাস তৈরি হতে পারে।

এ রক্ত জমাট যদি সেখান থেকে বের হয়ে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছায়, তাহলে স্ট্রোক হতে পারে। তাই অ্যাটিয়াল ফিব্রিলেশনে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসক স্ট্রোকের ঝুঁকি ও রক্তপাতের ঝুঁকি বিবেচনা করে অ্যান্টিকোয়াগুল্যান্ট ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

হৃদস্পন্দন অনিয়মিত হলে কী করবেন?

হৃদস্পন্দনে অস্বাভবিকতা হলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে বারবার হলে বা বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট কিংবা বুকে ব্যথার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রাথমিকভাবে ইসিজি করা হয়। অনিয়মিত স্পন্দন সব সময় না থাকলে হল্টার বা ইভেন্ট মনিটারিং করা হতে পারে। হৃদপিন্ডের গঠন ও কার্যকারিতা দেখতে ইকোকার্ডিওগ্রামও করা হয়। গুরুত্বর হার্ট ব্লক থাকলে কিছু রোগীর পেসমেকার প্রয়োজন হতে পারে।

অ্যারিথমিয়ার ধরন অনুযায়ী চিকিৎসাও ভিন্ন। তাই বারবার হৃদস্পন্দনে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে নিজ থেকে কারণ না ধরে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

অল্প বয়সেই চুল পেকে গেলে যা খাবেন

অল্প বয়সেই চুল পেকে গেলে যা খাবেন

সর্দি কাশি নাক বন্ধ, যা করবেন

সর্দি কাশি নাক বন্ধ, যা করবেন

শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করার উপায়

শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের করার উপায়

ক্যানসার হলেও তা ছড়াবে না এক অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গে, আসছে নতুন টিকা

ক্যানসার হলেও তা ছড়াবে না এক অঙ্গ থেকে অন্য অঙ্গে, আসছে নতুন টিকা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম