Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

রাত জাগা ও অনিয়মিত ঘুমে কি সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমে যায়?

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম

রাত জাগা ও অনিয়মিত ঘুমে কি সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমে যায়?

ফাইল ছবি

Advertisement

ব্যস্ত জীবনে অনেকেই নানা কাজ ও ব্যস্ততায় ঘুমের সময় কমিয়ে দেন। কিন্তু শরীরের জন্য ঘুম কোনো বাড়তি বিষয় নয় বরং অপরিহার্য। শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ করে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ঘুমের সময়, মান, নিয়মিততা এবং ঘুমানোর সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু কম ঘুম নয়, অতিরিক্ত ঘুমও প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সন্তান ধারণের চেষ্টা করা দম্পতিদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।

ঘুমের আদর্শ সময়

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম ও সন্তান ধারণের সক্ষমতার মধ্যে অনেকটা ‘ইউ’ আকৃতির সম্পর্ক দেখা যায়। অর্থাৎ খুব কম বা খুব বেশি ঘুম—দুই ক্ষেত্রেই প্রজনন সক্ষমতার ফলাফল খারাপ হতে পারে।

তারা বলেন, গবেষণায় নিয়মিতভাবে দেখা গেছে, দিনে ছয় ঘণ্টার কম ঘুম এবং নয় ঘণ্টার বেশি ঘুম—দুটিই সন্তান ধারণের সম্ভাবনা কমার সঙ্গে সম্পর্কিত। সন্তান ধারণে কত সময় লাগছে এবং কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতির ফলাফল নিয়ে করা গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় সাত থেকে সাড়ে আট ঘণ্টা ঘুমে ঝুঁকি সবচেয়ে কম।

অর্থাৎ বেশি সময় ঘুমালেই যে বেশি উপকার হবে, তা নয়। বরং প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে পর্যাপ্ত ঘুম প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী হতে পারে।

ঘুমানোর সময়ও গুরুত্বপূর্ণ

শুধু কত ঘণ্টা ঘুমাচ্ছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ নয়; কখন ঘুমাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। রাতে দেরিতে ঘুমিয়ে সকালে দেরিতে উঠলে মোট আট ঘণ্টা ঘুম হলেও তা আগেভাগে ঘুমানোর সমান নয়।

চিকিৎসকরা বলেন, ডিম্বস্ফোটন শুরু করতে সহায়তা করা লুটিনাইজিং হরমোন বা এলএইচের মাত্রা সাধারণত মধ্যরাত থেকে সকাল ৮টার মধ্যে ঘুমের সময় বাড়ে। তাই রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ঘুমানো এবং রাত ২টা থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘুমানো একই বিষয় নয়।

দেরিতে ও অনিয়মিত সময়ে ঘুমালে ডিম্বস্ফোটন নিয়ন্ত্রণকারী এলএইচ ও এফএসএইচ হরমোনের স্বাভাবিক নিঃসরণ ব্যাহত হতে পারে। নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ছন্দ ঠিক রাখতে এবং হরমোনের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।

রাতের শিফটে কাজ

বিশেষজ্ঞের মতে, যারা নিয়মিত রাতের শিফটে কাজ করেন, তাদের সন্তান ধারণে তুলনামূলক বেশি সময় লাগতে পারে। তাদের গর্ভপাতের ঝুঁকি এবং মাসিকের অনিয়মের প্রবণতাও বাড়তে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া ও রাত জাগার কারণে মাসিকের সময় অতিরিক্ত ব্যথাও হতে পারে।

পুরুষদের প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ঘুম গুরুত্বপূর্ণ। গভীর ঘুমের সময় শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের বড় অংশ তৈরি হয়। তাই পর্যাপ্ত বা নিয়মিত ঘুম না হলে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমতে পারে এবং শুক্রাণুর মানও খারাপ হতে পারে।

এ ছাড়া ঘুমের ঘাটতি শরীরে কর্টিসল বা চাপের হরমোন বাড়াতে পারে। এর ফলে ডিম্বস্ফোটন ও শুক্রাণু তৈরির সঙ্গে যুক্ত হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

সন্তান নিতে চাইলে ঘুমের বিষয়ে যা করবেন

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ হলো, প্রতিদিন সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে রাত ১১টার আগেই ঘুমাতে যাওয়া এবং প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস করা ভালো।

শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মানের দিকেও নজর দিতে হবে। বারবার ঘুম ভেঙে গেলে পর্যাপ্ত সময় ঘুমালেও এর উপকার কমে যেতে পারে। রাতের শিফটে কাজ করা বাধ্যতামূলক হলে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস বজায় রাখা এবং ঘুমের সময় আলো কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ। খাবারে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি থাকলে ম্যাগনেশিয়াম গ্লাইসিনেট ঘুমে সামান্য সহায়তা করতে পারে। তবে এটি গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মেলাটোনিনের বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এটি ডিম্বাশয়ের ফলিকলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে ডিম্বাণুর মান রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম