টমেটো খেলে কি কিডনিতে পাথর হয়? জানুন কখন হতে পারে সমস্যা
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টমেটোর ভেতরের ছোট ছোট দানা ও জেলির মতো অংশ খেলে কিডনিতে সমস্যা হতে পারে—এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। বিশেষ করে টমেটোতে থাকা অক্সালেট কিডনিতে জমে পাথর তৈরি করতে পারে, এমন আশঙ্কায় অনেকে এই উপকারী সবজি এড়িয়ে চলেন।
তবে পুষ্টিবিদদের মতে, টমেটোকে কিডনিতে পাথর হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করা ঠিক নয়। বরং টমেটোতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শরীরের জন্য উপকারী।
টমেটোর লাইকোপিন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে লাইকোপিন রয়েছে। এটি এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
লাইকোপিন নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় ক্যানসারের কিছু ধরন, বিশেষ করে প্রস্টেট, ফুসফুস ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি নিয়ে সম্ভাব্য উপকারের কথা উঠে এসেছে। তবে এটি ক্যানসারের চিকিৎসা বা নিশ্চিত প্রতিরোধক—এমন দাবি করা যায় না।
এ ছাড়া টমেটোর লাইকোপিন হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। এটি ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল ও হৃদ্রোগের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু উপাদানের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ত্বকের ক্ষেত্রেও লাইকোপিনের উপকারিতা নিয়ে গবেষণা রয়েছে। সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির কারণে ত্বকের যে ক্ষতি হয়, তা কমাতে এটি কিছুটা সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি চোখ ও মস্তিষ্কের কোষের স্বাস্থ্য রক্ষায়ও টমেটোর বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভূমিকা রাখে।
তাহলে টমেটোকে কিডনির পাথরের জন্য দায়ী করা হয় কেন?
এর অন্যতম কারণ টমেটোতে অল্প পরিমাণে অক্সালেট থাকা। অক্সালেট ক্যালশিয়ামের সঙ্গে মিলে ক্যালশিয়াম অক্সালেট তৈরি করতে পারে, যা কিডনিতে পাথরের একটি সাধারণ ধরন।
তবে টমেটোতে অক্সালেটের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। পুষ্টিবিদ লিমা মহাজনের তথ্য অনুযায়ী, একটি গোটা টমেটোতে প্রায় ৫ থেকে ৭ মিলিগ্রাম অক্সালেট থাকতে পারে। তুলনায় পালংশাকের মতো কিছু খাবারে অক্সালেটের পরিমাণ অনেক বেশি।
তাই শুধু টমেটো খাওয়ার কারণে কিডনিতে পাথর হবে—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি নির্ভর করে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি শরীরে পানির পরিমাণ, বংশগত কারণ, কিছু শারীরিক অবস্থা ও অন্যান্য খাদ্যাভ্যাসের ওপরও।
অক্সালেটযুক্ত খাবার খেলে কী করবেন?
যাদের ক্যালশিয়াম অক্সালেট পাথর হওয়ার প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত ক্যালশিয়াম গ্রহণ উপকারী হতে পারে। যেমন—দই, পনিরসহ ক্যালশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যায়।
এ ছাড়া পর্যাপ্ত পানি পান করাও কিডনিতে পাথর প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ। তবে যাদের আগে কিডনিতে পাথর হয়েছে বা চিকিৎসক উচ্চ অক্সালেটযুক্ত খাবার সীমিত করতে বলেছেন, তাদের ব্যক্তিগত খাদ্যতালিকা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা উচিত।
অর্থাৎ, শুধু কিডনিতে পাথরের ভয় থেকে টমেটো পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরিমিত ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে টমেটো খাওয়া সাধারণত নিরাপদ।
