মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খাওয়া কি নিরাপদ? জেনে নিন স্বাস্থ্যঝুঁকি ও বাঁচার উপায়
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪০ পিএম
প্রতীকী ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সকালে তাড়াহুড়োয় ফ্রিজ থেকে স্যান্ডউইচ বের করে খেলেন কিংবা বিকালের নাস্তায় সুপারশপ থেকে কেনা কোনো প্যাকেটজাত খাবার খেয়ে নিলেন—কখনো কি খেয়াল করেছেন সেগুলোর মেয়াদ শেষ কিনা?
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেকেই প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণের আগে প্যাকেট ভালোভাবে দেখার ফুরসত পাই না। কিন্তু একটু অজান্তেই এই অবহেলা ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের বিপদ।
মেয়াদোত্তীর্ণ বা পচে যাওয়া খাবারে বাসা বাঁধে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস। এগুলো আমাদের শরীরে প্রবেশ করে খাদ্য বিষক্রিয়া (ফুড পয়জনিং), পেটের পীড়া থেকে শুরু করে অনেক সময় মারাত্মক প্রাণঘাতী রোগও ঘটাতে পারে।
মেয়াদোত্তীর্ণ ও পচে যাওয়া কি এক কথা?
অনেকেই মনে করেন মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া আর খাবার পচে যাওয়া একই কথা, কিন্তু তা নয়।
মেয়াদোত্তীর্ণ বা এক্সপায়ারি ডেট দিয়ে বোঝায় খাবারটি কতদিন পর্যন্ত তার সেরা স্বাদ ও মানে থাকে, আর পচে যাওয়া বা স্পয়েলজ ঘটে তখন যখন ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের আক্রমণে খাবার খাওয়ার সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
কীভাবে বুঝবেন খাবার নষ্ট হয়ে গেছে?
চোখ ও নাক দিয়েই কিন্তু অনেক সময় খাবারের অবস্থা বোঝা যায়। যেমন:
দুর্গন্ধ: খাবার থেকে যদি টক বা পচা গন্ধ বের হয়।
গঠন বদলানো: খাবারটি যদি বেশি পিচ্ছিল, অতিরিক্ত নরম বা শক্ত হয়ে যায়।
রং পরিবর্তন: খাবারে যদি কালো দাগ পড়ে বা স্বাভাবিক রং বদলে যায়।
স্বাদ নষ্ট হওয়া: মুখে দেওয়ার পর যদি তেতো বা অদ্ভুত স্বাদ লাগে।
যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে
১. খাদ্য বিষক্রিয়া: মেয়াদোত্তীর্ণ খাবারে থাকা সালমোনেলা বা ই.কোলাইয়ের মতো ব্যাকটেরিয়া বমি, ডায়রিয়া, জ্বর ও মারাত্মক পানিশূন্যতা তৈরি করে।
২. পেটের সমস্যা: বাহ্যিকভাবে খাবার ঠিক মনে হলেও তা বদহজম, পেট ফাঁপা এবং পেটে তীব্র ব্যথার কারণ হতে পারে।
৩. গুরুতর রোগ: ভুলভাবে সংরক্ষিত টিনজাত খাবার থেকে ‘বটুলিজম’-এর মতো মারাত্মক রোগ হতে পারে। এ ছাড়া ফাঙ্গাস পড়া খাবার লিভার ও স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
৪. বিশেষ সতর্কতা: শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিদের জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সুস্থ থাকতে কিছু সহজ অভ্যাস
লেবেল পড়ুন: কেনার সময় খেয়াল করুন। ‘Best Before’ মানে খাবারের মান, আর ‘Use By’ মানে এই তারিখের মধ্যে খাবারটি অবশ্যই শেষ করতে হবে।
সঠিকভাবে রাখুন: রান্না করা বা দ্রুত নষ্ট হয় এমন খাবার ফ্রিজে রাখুন। শুকনো খাবার সবসময় বায়ুরোধী কৌটায় সংরক্ষণ করুন।
খাওয়ার আগে পরীক্ষা করুন: একটু সময় নিয়ে খাবারটা ভালো করে দেখে, শুঁকে তারপর খাওয়ার অভ্যাস করুন।
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন: রান্নার আগে ও খাওয়ার সময় হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন এবং কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখুন।
পরিশেষে সচেতনতাই পারে আমাদের ও আমাদের পরিবারকে সুস্থ রাখতে। তাই আজ থেকেই খাবার খাওয়ার আগে একটু চোখ বুলিয়ে নিন মেয়াদের দিকে।

