সিভিতে শুধু যোগ্যতা নয়, নজর দিতে হবে আরও যেসব বিষয়ে
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
ফাইল ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ করে চাকরির বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি শুরু করলেই প্রথমে যে কাজটি করতে হয়, তারই একটি হলো সিভি তৈরি। নিজের পড়াশোনা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও অর্জন-সবকিছু কয়েক পাতার একটি কাগজে তুলে ধরা সহজ নয়। অথচ চাকরির আবেদনে এ ছোট নথিটিই অনেক সময় একজন প্রার্থী সম্পর্কে নিয়োগদাতার প্রথম ধারণা তৈরি করে।
অনেকের যোগ্যতা অভিজ্ঞতা ভালো থাকার পরও সিভি ঠিকভাবে উপস্থাপন না করার কারণে নিয়োগদাতার নজরে আসে না। আবার অপ্রয়োজনীয় তথ্য, অতিরিক্ত ডিজাইন বা ভুল তথ্যের কারণে একটি ভালো সিভি দূবর্ল মনে হতে পারে। তাই সিভি তৈরির সময় কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।
নিজের সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিন
সিভি শুধু কোথায় পড়েছেন বা কোথায় কাজ করেছেন-তার তালিকা নয়। অল্প সময়ে নিজের পেশাগত পরিচয় তুলে ধরার মাধ্যম এটি। তাই শুরুতে এমন তথ্য রাখা ভালো, যাতে নিয়োগদাতা বুঝতে পারেন আপনি কোন ধরনের কাজের জন্য আগ্রহী এবং আপনার প্রধান দক্ষতার জায়গা কোথায়।
বিশেষ করে নতুন চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি প্রকল্প, ইন্টার্নশিপ, প্রশিক্ষণ, স্বেচ্ছাসেবী কাজ বা বিশ্ববিদ্যালয ভিত্তিক কোনো দায়িত্ব থাকলে সেগুলো গুরুত্ব পেতে পারে।
চাকরি অনুযায়ী সিভি সাজান
সব ধরনের চাকরির জন্য একই সিভি ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু একজন সংবাদকর্মীর জন্য যে দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ, একজন মাকেটিং বা সফটওয়্যার পেশাজীবীর ক্ষেত্রে একই বিষয় সমান গুরুত্ব নাও পেতে পারে।
প্রতিবার আবেদন করার আগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ভালোভাবে পড়ে দেখা উচিত। পদের দায়িত্ব ও প্রয়োজনীয় যোগ্যতার সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতা বা দক্ষতার মিল রয়েছে, সেগুলো সিভিতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরলে আবেদনটি আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পারে।
কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরুন
‘দায়িত্ব পালন করেছি’-এমন তথ্যের চেয়ে সেই দায়িত্ব পালন করে কী করেছেন, সেটি বেশি কার্যকর হতে পারে।
ধরা যাক, কোনো প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনার দায়িত্ব ছিল। শুধু ‘সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট’ লেখার বদলে কী ধরনের কনটেন্ট তৈরি করেছেন, কোনো প্রচারণায় কাজ করেছেন কি না বা আপনার কাজের ফলাফল থাকলে তা সংক্ষেপে তুলে ধরুন।
এতে শুধু কাজের অভিজ্ঞতা নয়, কাজের সক্ষমতাও বোঝানো সম্ভব হয়।
অপ্রয়োজনীয় তথ্য বাদ দিন
সিভিতে সবকিছু লিখে ফেলার চেষ্টা করলে সেটি বড় ও জটিল হয়ে যেতে পারে। নিয়োগদাতার সময়ের কথা মাথায় রেখে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো অগ্রাধিকার দিয়ে সাজানো ভালো
দক্ষতার ক্ষেত্রে সৎ থাকুন
সিভিতে নিজের দক্ষতা দেখাতে গিয়ে অনেকেই এমন কিছু যোগ করেন, যেগুলো বাস্তবে তারা ভালো পারেন না। এটি পরবর্তী সময়ে সমস্যার কারণ হতে পারে। কারণ সাক্ষাতকারে বা নিয়োগের পর কাজের সময় এসব দক্ষতা যাচাই হওয়ার সুযোগ থাকে।
যোগাযোগের তথ্য ঠিক রাখুন
সিভির নকশা সুন্দর হলেও যোগাযোগের তথ্য ভুল থাকলে পুরো প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হতে পারে। তাই নিজের সক্রিয় ফোন নম্বর ও নিয়মিত ব্যবহার করা ই-মেইল ঠিকানা দিতে হবে।
সিভি সহজ ও মার্জিত রাখুন
অনেকে সিভিকে আকর্ষণীয় করতে গিয়ে অতিরিক্ত রং, ছবি, গ্রাফিক্স বা বিভিন্ন ধরনের ফন্ট ব্যবহার করেন। এতে দেখতে আকর্ষণীয় লাগলেও প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে।
বিশেষ করে করপোরেট বা পেশাভিত্তিক চাকরির ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্ন বিন্যাস, স্পষ্ট শিরোনাম এবং সহজে পড়া যায়-এমন ফরম্যাট বেশি কার্যকর।
জমা দেওয়ার আগে যাচাই করুন
সিভি তৈরি হয়ে গেলে কাজ শেষ নয়। পাঠানোর আগে বানান, ফোন নম্বর, ই-মেইল, প্রতিষ্ঠানের নাম, চাকরির পদ, তারিখ ও অন্যান্য তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা উচিত।
কভার লেটারেও নজর দিন
অনেক চাকরির আবেদনে সিভির পাশাপাশি কভার লেটার চাওয়া হয়। সেখানে শুধু ‘আমি এই চাকরি করতে চাই’ বললেই যথেষ্ট নয়। কেন সংশ্লিষ্ট পদে আগ্রহী এবং নিজের কোন অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা ওই প্রতিষ্ঠানের কাজে লাগতে পারে-সংক্ষেপে তা তুলে ধরা যায়।
চাকরির বাজারে সিভি হয়তো একাই চাকরি নিশ্চিত করে না, কিন্তু একজন প্রার্থীকে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
