Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

বিদেশে উচ্চশিক্ষা: আবেদনের সময় যেসব বিষয় নিশ্চিত করবেন

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৭ এএম

বিদেশে উচ্চশিক্ষা: আবেদনের সময় যেসব বিষয় নিশ্চিত করবেন

ছবি: সংগৃহীত।

Advertisement

উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশমুখী হচ্ছেন বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী। ব্যাচেলর থেকে শুরু করে মাস্টার্স, পিএইচডি ও পোস্ট-ডক্টরাল পর্যায়ে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ খুঁজছেন তারা। তবে বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণে শুধু ভালো ফলাফল যথেষ্ট নয়। একাডেমিক সনদ, ট্রান্সক্রিপ্ট, একাডেমিক সিভি, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি), রিসার্চ প্রপোজাল, ভাষা দক্ষতার সনদ ও সুপারিশপত্রসহ বেশ কিছু নথি আগেভাগে প্রস্তুত রাখতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশভেদে শর্তে পার্থক্য থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটি অনেকটাই সহজ করা সম্ভব। চলুন জেনে নিই কীভাবে নেবেন প্রস্তুতি —

একাডেমিক সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট

বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোর একটি হলো একাডেমিক সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট।

এইচএসসি, স্নাতক বা মাস্টার্স পর্যায়ের সার্টিফিকেট ও একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট সংগ্রহ করে নিরাপদে রাখা উচিত। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয় একইভাবে এসব নথি গ্রহণ করে না। কোথাও আবেদনকারী স্ক্যান কপি আপলোড করলেই হয়, আবার কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ভেরিফায়েড বা অফিসিয়াল কপি চাইতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় বা নির্দিষ্ট credential evaluation প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিদেশি ডিগ্রির সমমান যাচাই করার প্রয়োজন হতে পারে। তাই যে দেশে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা হবে, তাদের নির্দিষ্ট শর্ত আগে দেখে নেওয়া জরুরি।

বিশেষ করে যাদের ভবিষ্যতে বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের এইচএসসি, স্নাতক বা মাস্টার্স শেষ হওয়ার পর একাডেমিক নথিগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় ভেরিফিকেশনের ব্যবস্থা করে রাখা ভালো।

একাডেমিক সিভি কেমন হবে

বিদেশে পড়তে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ চাকরির সিভি এবং একাডেমিক সিভির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স বা পিএইচডির ক্ষেত্রে সিভি একজন আবেদনকারীর একাডেমিক ও গবেষণাগত পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সিভিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার আগ্রহ, গবেষণার অভিজ্ঞতা, থিসিস, প্রকাশনা, কনফারেন্স পেপার, গবেষণা প্রকল্প, কাজের অভিজ্ঞতা, ইন্টার্নশিপ, সফট ও হার্ড স্কিল, গবেষণায় ব্যবহৃত সফটওয়্যার, পুরস্কার, বৃত্তি এবং পেশাগত সদস্যপদের মতো তথ্য রাখা যেতে পারে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা লেখার ক্ষেত্রে সাধারণত সর্বশেষ বা সর্বোচ্চ ডিগ্রি আগে উল্লেখ করা হয়। এরপর ক্রমান্বয়ে আগের ডিগ্রিগুলো দেওয়া যায়। এতে অধ্যাপক বা ভর্তি কমিটি শুরুতেই আবেদনকারীর সর্বশেষ একাডেমিক অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পায়।

রেফারেন্সেও গুরুত্ব দিতে হবে

সিভিতে রেফারেন্স দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা হতে পারে। যেখানে রেফারেন্স চাওয়া হয়, সেখানে আবেদনকারীর একাডেমিক বা পেশাগত সক্ষমতা সম্পর্কে ভালোভাবে জানেন এমন ব্যক্তিকে রেফারেন্সে দেওয়া উচিত। 

সম্ভাব্য সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ

গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সুপারভাইজার বা গবেষণা-পরামর্শকের সঙ্গে যোগাযোগ অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

কোনো অধ্যাপককে ই-মেইল করার আগে তার গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে ভালোভাবে জানা উচিত। তার সাম্প্রতিক গবেষণাপত্র, গবেষণার বিষয় এবং আপনার নিজের গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে কোথায় মিল রয়েছে—এসব বিষয় খুঁজে বের করা দরকার।

একটি সংক্ষিপ্ত ও পেশাদার ই-মেইলের সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী সিভি, ট্রান্সক্রিপ্ট ও রিসার্চ প্রপোজাল সংযুক্ত করা যেতে পারে।

শুধু ‘আমি আপনার অধীনে পড়তে চাই’—এ ধরনের সাধারণ ই-মেইলের পরিবর্তে কেন ওই অধ্যাপকের গবেষণার সঙ্গে আপনার আগ্রহের মিল রয়েছে, সেটি সংক্ষেপে তুলে ধরলে যোগাযোগটি আরও অর্থবহ হতে পারে।

কভার লেটার বা ই-মেইল

কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা অধ্যাপকের কাছে আবেদন পাঠানোর সময় কভার লেটার বা উপযুক্ত ই-মেইলও গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো কভার লেটারে সাধারণত আবেদনকারীর পরিচয়, আবেদনের উদ্দেশ্য, প্রাসঙ্গিক যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট পদ বা প্রোগ্রামের প্রতি আগ্রহ তুলে ধরা হয়।

রিসার্চ প্রপোজাল কেন গুরুত্বপূর্ণ

পিএইচডি কিংবা গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে Research Proposal একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। এর মাধ্যমে আবেদনকারী কোন বিষয়ে গবেষণা করতে চান, কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে গবেষণাটি সম্পন্ন করবেন তার একটি প্রাথমিক ধারণা দেওয়া হয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, SOP যেন কোনো মুখস্থ করা নমুনা লেখা না হয়। নিজের অভিজ্ঞতা, আগ্রহ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি তৈরি করা উচিত।

ভাষা দক্ষতার সনদ

বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে English Language Proficiency অনেক সময় বাধ্যতামূলক। IELTS, TOEFL, Duolingo English Testসহ বিভিন্ন পরীক্ষার স্কোর প্রতিষ্ঠানভেদে গ্রহণ করা হয়।

তবে সব বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রোগ্রামে একই স্কোর প্রয়োজন হয় না। কোথাও IELTS 6.5 গ্রহণযোগ্য হতে পারে, আবার কোনো প্রোগ্রামে বেশি স্কোর প্রয়োজন হতে পারে।

তাই একটি নির্দিষ্ট স্কোরকে সবার জন্য স্ট্যান্ডার্ড ধরে নেওয়ার পরিবর্তে যে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামে আবেদন করবেন, তাদের সর্বশেষ admission requirements দেখে প্রস্তুতি নেওয়াই নিরাপদ।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

সিভিতে শুধু যোগ্যতা নয়, নজর দিতে হবে আরও যেসব বিষয়ে

সিভিতে শুধু যোগ্যতা নয়, নজর দিতে হবে আরও যেসব বিষয়ে

বিদেশে উচ্চশিক্ষা: আবেদনের সময় যেসব বিষয় নিশ্চিত করবেন

বিদেশে উচ্চশিক্ষা: আবেদনের সময় যেসব বিষয় নিশ্চিত করবেন

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে খাবার তালিকায় রাখুন এই ৫ ফল

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে খাবার তালিকায় রাখুন এই ৫ ফল

বেদানা কি হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি কমায়?

বেদানা কি হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি কমায়?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম