শুক্রাণুর স্বাস্থ্যে উপকারী হতে পারে যে ফল
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যে শুক্রাণুর সংখ্যা, গুণমান ও গতিশীলতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন কারণে এসব ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা সাধারণত সুষম খাবার, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন। এ ক্ষেত্রে উপকারী ফলের তালিকায় বেদানা বা ডালিমের নামও আসে।
বেদানায় রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ফোলেট, পটাশিয়াম, ফাইবার, পলিফেনলসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি হজমশক্তি ও হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে বেদানা উপকারী হতে পারে।
বেদানা কি টেস্টোস্টেরন বাড়ায়?
সাম্প্রতিক সময়ে বেদানাকে প্রাকৃতিক ‘টেস্টোস্টেরন বুস্টার’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। কিছু ছোট পরিসরের গবেষণায় বেদানা বা এর রস গ্রহণের সঙ্গে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাব্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। কোনো কোনো গবেষণায় ১৬ থেকে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব ফলাফলকে এমনভাবে দেখার সুযোগ নেই যে নিয়মিত বেদানা খেলেই সবার টেস্টোস্টেরন দ্রুত বেড়ে যাবে। গবেষণাগুলোর পরিসর ও অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সীমিত হওয়ায় এ বিষয়ে আরও বড় ও নির্ভরযোগ্য গবেষণা প্রয়োজন। বেদানার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করতে পারে, যা সামগ্রিক প্রজননস্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। কিন্তু শুধু বেদানা খেলেই শুক্রাণুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে—এমন শক্ত প্রমাণ এখনো নেই।
পুরুষের জন্য বেদানার আরও উপকারিতা
বেদানার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এতে থাকা প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। নিয়মিত ফল হিসেবে এটি খেলে শরীরে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সরবরাহ বাড়ে। এতে থাকা ফাইবার হজমের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করতে পারে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া বেদানার পটাশিয়ামসহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হৃদ্স্বাস্থ্য, রক্তচাপ ও রক্তনালির ওপর বেদানার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও গবেষণা হয়েছে। তবে বেদানাকে আয়রনের ঘাটতি বা অ্যানিমিয়ার নির্দিষ্ট চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। রক্তাল্পতা থাকলে এর কারণ শনাক্ত করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুষ্টি গ্রহণ করতে হবে।
শুক্রাণুর জন্য শুধু বেদানার ওপর নির্ভর নয়
শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমান শুধু একটি খাবারের ওপর নির্ভর করে না। পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফল, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ সুষম খাবার গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চাও গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ধূমপান, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই টেস্টোস্টেরন বা শুক্রাণুর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য কোনো একটি ফলের ওপর নির্ভর না করে সামগ্রিক জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা বেশি কার্যকর।
পরিমিত পরিমাণে বেদানা প্রতিদিনের স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। তবে এটিকে ‘ম্যাজিক ফল’ বা নিশ্চিত টেস্টোস্টেরন বৃদ্ধির উপায় হিসেবে দেখা ঠিক নয়। দীর্ঘদিন ধরে টেস্টোস্টেরন, শুক্রাণু বা প্রজননস্বাস্থ্য নিয়ে সমস্যা থাকলে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

-6ac278d33cf5f.jpg)