বাজার থেকে আসল ডিম কিনছেন তো? কোন উপায়ে বুঝবেন
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাজারে ডিম কিনতে গিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে- ডিমটি আসল ও নিরাপদ তো? বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নকল’ বা ‘প্লাস্টিকের ডিম’ নিয়ে নানা দাবি ছড়িয়ে পড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি। তবে ডিমের মান যাচাইয়ে প্রচলিত কিছু ঘরোয়া পরীক্ষার বদলে খোসার অবস্থা, সংরক্ষণ পদ্ধতি ও ডিম ভাঙার পর এর গন্ধ-চেহারা পরীক্ষা করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) তথ্য অনুযায়ী, ডিম কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে কিনা। খুচরা বিক্রির জন্য ডিম কেনার ক্ষেত্রে ঠান্ডা বা উপযুক্ত তাপমাত্রায় সংরক্ষিত ডিম বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ডিমের খোসাও ভালোভাবে দেখা উচিত। খোসা ভাঙা, ফাটলযুক্ত বা ডিমের ভেতরের অংশ বেরিয়ে আসছে- এমন ডিম এড়িয়ে চলা নিরাপদ। খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর ডিমের স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক নির্দেশনাতেও ফাটা বা অতিরিক্ত ময়লাযুক্ত ডিম খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।
ডিমটি খাওয়ার আগে আলাদা পাত্রে ভেঙে দেখা যেতে পারে। ইউএসডিএ-এর কৃষি গবেষণা বিভাগ বলছে, ডিম ভাঙার পর অস্বাভাবিক গন্ধ, বিবর্ণতা বা অস্বাভাবিক চেহারা দেখা গেলে সেটি ব্যবহার না করাই ভালো।
তবে ডিমের খোসা সাদা না বাদামি- এটি দিয়ে ডিমের মান বা পুষ্টিগুণ নির্ধারণ করা যায় না। ইউএসডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, সাধারণভাবে সাদা ও বাদামি খোসার ডিমের পুষ্টিগত পার্থক্য নেই। একইভাবে ডিমে ছোট রক্তের দাগ দেখা গেলেই সেটি ‘নকল’ বা অনিরাপদ- এমন ধারণাও ঠিক নয়; ছোট রক্ত বা মাংসের দাগ স্বাভাবিকভাবেই হতে পারে।
ডিম সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। ইউএসডিএ বলছে, ডিম মূল কার্টনে রেখে ফ্রিজের ভেতরের তুলনামূলক স্থিতিশীল ঠান্ডা জায়গায় রাখা ভালো। তাপমাত্রার ওঠানামা ডিমের গুণমান ও নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু পানিতে ডিম ভাসল বা ডুবে গেল- এমন একটি ঘরোয়া পরীক্ষার ফল দিয়ে ডিম ‘আসল’ বা ‘নকল’ বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না। ডিমের বয়স ও সতেজতা সম্পর্কে কিছু ধারণা পাওয়া গেলেও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংরক্ষণ, খোসার অখণ্ডতা এবং ভাঙার পরের অবস্থা বিবেচনা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞ নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিম ভালোভাবে রান্না করাও নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউএসডিএ-এর পরামর্শ হলো ডিম এমনভাবে রান্না করা, যাতে কুসুম ও সাদা অংশ ভালোভাবে জমে যায়। ডিমযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রেও নিরাপদ অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিশ্চিত করা জরুরি।
তাই বাজার থেকে ডিম কেনার সময় শুধু ‘আসল না নকল’ নিয়ে গুজবে কান না দিয়ে খোসা অক্ষত কি না, ডিম সঠিকভাবে সংরক্ষিত হয়েছে কি না এবং ব্যবহারের আগে এর গন্ধ ও চেহারা স্বাভাবিক কি না- এসব বিষয়ই আগে দেখুন।

-6ac61acce7b10.jpg)