তরুণদের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি, বুঝবেন যেসব লক্ষণে
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তরুণদের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসার প্রায়ই রোগের অগ্রসর পর্যায়ে শনাক্ত হয়। গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, ২১ বছর বা তার কম বয়সি অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ের সময় ক্যানসার ইতোমধ্যেই স্টেজ ৩ বা ৪ এ পৌঁছে গিয়েছিল। মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত, ওজন কমে যাওয়া, পেটে ব্যথা এবং মলত্যাগের ধরনে পরিবর্তনের মতো উপসর্গগুলো অনেক সময় উপেক্ষিত হওয়ায় গবেষকরা এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, তরুণ রোগীদের মধ্যে অগ্রসর পর্যায়ের কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঘটনা বাড়ছে। এতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে রোগের সতর্কতামূলক লক্ষণগুলো হয়ত উপেক্ষিত হচ্ছে অথবা খুব দেরিতে শনাক্ত করা হচ্ছে। গবেষণাটির ফলাফল ২০২৬ সালের ২ থেকে ৬ অক্টোবর সান দিয়েগো কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল কনফারেন্স অ্যান্ড এক্সিবিশনে উপস্থাপন করা হয়।
গবেষণায় ২০১২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসারে আক্রান্ত ২১ বছর বা তার কম বয়সি ৮৪ জন রোগীর চিকিৎসা-নথি পর্যালোচনা করা হয়।
মাত্র ২০% রোগীর ক্ষেত্রে প্রথম বা দ্বিতীয়-স্তরের আত্মীয়ের কোলোরেক্টাল ক্যানসারের পারিবারিক ইতিহাস ছিল। তা সত্ত্বেও রোগ নির্ণয়ের সময় অধিকাংশ রোগীর ক্যানসার ইতোমধ্যেই স্টেজ ৩ বা ৪ এ অগ্রসর হয়ে গিয়েছিল।
উপসর্গ সহজেই উপেক্ষিত হতে পারে
গবেষকরা বলছেন, এই ফলাফল তরুণদের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ক্রমবর্ধমান প্রবণতা এবং রোগটি অগ্রসর পর্যায়ে শনাক্ত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
সম্ভাব্য সতর্কতামূলক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- কোমরের নিচের অংশে ব্যথা, পেটে ব্যথা, মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন, ওজন কমে যাওয়া এবং মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত। তরুণদের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসার এখনও তুলনামূলকভাবে বিরল হওয়ায় এসব উপসর্গ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ক্যানসারের কথা মনে নাও হতে পারে। কখনো কখনো এগুলো উপেক্ষিত হতে পারে।
গবেষণার লেখক এবং শিশু সার্জারি বিভাগের গবেষণা ফেলো এরিকা আর্নল্ড, এমডি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, কিশোর ও তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঘটনা বাড়ছে। বয়স্কদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া কোলোরেক্টাল ক্যানসারের তুলনায় এটি একটি ভিন্ন ধরনের রোগ। রোগটি শনাক্ত হওয়ার সময় এটি প্রায়ই আক্রমণাত্মক অবস্থায় থাকে। পাশাপাশি দেরিতে বা অগ্রসর পর্যায়ে ধরা পড়ে এবং রোগ পুনরায় ফিরে আসা ও মৃত্যুর হারও বেশি।’
রোগ নির্ণয়ে দেরি গুরুতর পরিণতি ডেকে আনতে পারে
গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন, রোগ নির্ণয়ে দেরি এবং টিউমারের আক্রমণাত্মক আচরণ—এই দুটি বিষয়ই দীর্ঘমেয়াদি খারাপ ফলাফলের জন্য দায়ী হতে পারে।
গবেষণায় অংশ নেওয়া এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি রোগীর পরবর্তীতে ক্যানসার আবার ফিরে আসে। প্রায় অর্ধেক রোগী তাদের রোগের কারণে মারা যান।
গবেষকরা বলছেন, অকারণে ওজন কমে যাওয়া এবং মলদ্বার দিয়ে রক্তপাতের মতো উপসর্গ তরুণ রোগীদের ক্ষেত্রেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। সাধারণত বয়স্কদের মধ্যে দেখা যায় এমন ক্যানসারগুলো যখন কম বয়সে দেখা দিতে শুরু করছে, তখন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের চিকিৎসা-দলের মধ্যে সমন্বয় করা এবং এসব রোগীর জন্য উপযোগী চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তথ্যসূত্র: সাইন্স ডেইলি

