সন্তানের ওজন কমাতে যা করবেন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শিশু কিশোরদের মধ্যে স্থূলতার হার গত কয়েক দশকে দ্রুত হারে বেড়েছে। এই সমস্যা নিয়ে প্রথমবারের মতো নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে বিশ্বের ৫ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় ১৭ কোটি শিশু ও কিশোর-কিশোরী স্থূলতার শিকার। এর মধ্যে ৫ থেকে ৯ বছর বয়সি প্রায় ৭ কোটি শিশু এবং ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি প্রায় ১০ কোটি কিশোর-কিশোরী রয়েছে। ১৯৯০ সালের তুলনায় এই স্থূলতার হার বেড়েছে চারগুণ। ওই সময় হার ছিল ২ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে বেড়ে হয়েছে ৮ শতাংশ।
শিশুদের স্থূলতাকে শুধু চেহারা বা ওজনের সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। এর প্রভাব ছোট থেকেই শরীরে পড়তে পারে। দীর্ঘমেয়াদি এই সমস্যা অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের পরও ফিরে আসতে পারে। আবার ঠিকমতো যত্ন ও চিকিৎসায় তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শিশুদের স্থূলতা ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের মতো রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্রথমেই বদলাতে হবে জীবনযাপন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ, স্থূলতায় আক্রান্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রথম সারিতে থাকা উচিত পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং জীবনযাপনে পরিবর্তন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের ডিরেক্টর ডা. লুজ মারিয়া দে রেগিল জানিয়েছেন, শিশু ও কিশোরদের স্থূলতার চিকিৎসার ভিত্তি ওষুধ বা অস্ত্রোপচার নয়। দরকার স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা। ছোটবেলা থেকেই প্রত্যেক শিশু যাতে মানসম্মত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ পায়, তা নিশ্চিত করার উপরও জোর দিয়েছে হু।
১০ বছরের আগে ওষুধ নয়
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৯ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের স্থূলতার চিকিৎসায় ওজন কমানোর ওষুধ, বেরিয়াট্রিক সার্জারি বা ওজন কমানোর বিশেষ যন্ত্র একেবারেই ব্যবহার করা চলবে না।
তবে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনুযায়ী অনুমোদিত ওষুধ বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু তার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের তত্ত্বাবধানে খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা বা লাইফস্টাইল মডিফিকেশনের উপর জোর দেওয়া দরকার। তাতে প্রত্যাশিত ফল না মিললে তবেই ওষুধ ব্যবহারের কথা ভাবা যেতে পারে।
স্থূলতা যখন মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং তা থেকে শরীরে একাধিক অসুখের সূত্রপাত হলে, নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত মেনে বেরিয়াট্রিক সার্জারির কথা বিবেচনা করা যেতে পারে। অর্থাৎ, বয়স ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপরই জোর দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
শুধু ওজন কমানোই শেষ কথা নয়
শিশুর স্থূলতার চিকিৎসার লক্ষ্য শুধুমাত্র ওজন কমানো নয়। শিশুর সামগ্রিক স্বাস্থ্য, দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতা এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার উন্নতিই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য। চিকিৎসা হতে হবে বয়সোপযোগী এবং প্রয়োজন অনুযায়ী। পাশাপাশি দরকার দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও চিকিৎসার ধারাবাহিকতা।
স্থূলতার সঙ্গে নজরে মানসিক স্বাস্থ্যও
শিশুদের স্থূলতার ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও অবহেলা করা যাবে না। উদ্বেগ, অবসাদ, আত্মসম্মান কমে যাওয়া এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও সামাজিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতা বাড়াতে পারে।
আবার স্থূলতায় আক্রান্ত শিশু ও কিশোর-কিশোরীরা অনেক সময় শরীর নিয়ে কটূক্তি, অপমানের শিকার হয়। যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে তাদের মানসিক সুস্থতায়। তাই স্থূলতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যাকে আলাদা করে না দেখে একসঙ্গে তা মোকাবিলার পরামর্শ দিচ্ছে হু। চিকিৎসায় শিশুর বয়স, মানসিক বিকাশ এবং পরিবারের ভূমিকাকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা স্থূলতার সমস্যা নিয়ন্ত্রণে হু-এর পরামর্শ, শিশুর বাড়তি ওজনকে শুধু ‘ডায়েট’-এর সমস্যা হিসেবে না দেখে, প্রয়োজন সময়মতো বিজ্ঞানসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি যত্ন।
