ঋতু পরিবর্তনে সুস্থ থাকতে খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৬ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আবহাওয়ার তাপমাত্রা ও পরিবেশে নানা পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে ঠান্ডা বাড়তে শুরু করলে সর্দি, কাশি, গলাব্যথা কিংবা নাক দিয়ে পানি পড়ার মতো সমস্যায় ভোগেন অনেকে। এ সময় শরীরকে সুস্থ রাখতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রতি বাড়তি মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। আর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস।
সুষম ও পুষ্টিকর খাবার শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সচল রাখতে সহায়তা করে। যদিও কোনো একটি খাবারই সব ধরনের রোগ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে না, তবে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে শরীরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ঋতু পরিবর্তনের সময় খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন এমন পাঁচটি খাবার।
১. লেবুজাতীয় ফল
কমলা, লেবু ও জাম্বুরার মতো লেবুজাতীয় ফলে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। এই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রয়োজনীয় শ্বেত রক্তকণিকার কার্যকারিতা বজায় রাখতে ভিটামিন সি সহায়ক।
প্রতিদিনের খাবারে এসব ফল যুক্ত করা বেশ সহজ। সকালের নাশতায় কমলা বা জাম্বুরা খাওয়া কিংবা পানীয়তে লেবুর রস মেশানোর মাধ্যমে ভিটামিন সি গ্রহণের পরিমাণ বাড়ানো যায়। তবে সর্দি-কাশি প্রতিরোধে ভিটামিন সি যে পুরোপুরি কার্যকর, এমন নয়।
২. রসুন
রান্নার পরিচিত উপাদান রসুনে রয়েছে অ্যালিসিনসহ বিভিন্ন জৈব সক্রিয় যৌগ। এসব উপাদানের সম্ভাব্য জীবাণুরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। পাশাপাশি রসুন সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবেও উপকারী।
তরকারি, স্যুপ, সস কিংবা অন্যান্য রান্নায় রসুন ব্যবহার করা যেতে পারে। রসুন কুচি বা থেঁতো করে কিছুক্ষণ রেখে রান্না করলে অ্যালিসিন তৈরির প্রক্রিয়া সহজ হয়। তবে রসুন খেলেই সংক্রমণ থেকে নিশ্চিতভাবে রক্ষা পাওয়া যাবে, এমন ধারণা ঠিক নয়।
৩. আদা
আদা শুধু খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ায় না, এতে রয়েছে জিঞ্জেরলের মতো বিভিন্ন উপাদান, যেগুলোর প্রদাহবিরোধী ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা হয়েছে। আদা গলাব্যথা বা বমি বমি ভাবের মতো কিছু অস্বস্তি কমাতেও সহায়ক হতে পারে।
ঋতু পরিবর্তনের সময় আদা চা, স্যুপ কিংবা রান্নায় আদা ব্যবহার করা যেতে পারে। গরম আদা চা গলায় আরাম দিতে পারে এবং শরীরকে উষ্ণ অনুভূতি দেয়। তবে আদাকে কোনো রোগের বিকল্প চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
৪. দই
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার সঙ্গে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। দইয়ে থাকা জীবিত উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাভাবিক জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে সব ধরনের দইয়ে একই পরিমাণ বা ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে না।
চিনি ছাড়া সাধারণ দই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। চাইলে এর সঙ্গে তাজা ফল, বাদাম কিংবা অল্প মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও পাওয়া যায়। তবে দই খেলেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
৫. পালং শাক
পালং শাক ভিটামিন সি, বিটা-ক্যারোটিন, ফোলেট ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা ও কোষের কার্যক্রম বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে সহায়তা করে, যা ত্বক ও শ্লেষ্মাঝিল্লির স্বাভাবিক কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয়।
পালং শাক ভাজি, স্যুপ, ডাল কিংবা অন্যান্য রান্নায় যোগ করা যায়। অল্প সময় রান্না করলে শাকের স্বাদ ও পুষ্টিগুণের অনেকটাই বজায় রাখা সম্ভব। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় অন্যান্য সবুজ শাকসবজিও রাখুন।
সুস্থ থাকতে খাবারের পাশাপাশি যা জরুরি
ঋতু পরিবর্তনের সময় শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি খাবারের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম, শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও সুস্থ থাকার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় টিকা নেওয়া এবং অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে সতর্ক থাকাও সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
মনে রাখতে হবে, পুষ্টিকর খাবার শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করে; তবে তা সব রোগ প্রতিরোধ করতে পারে না। দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, শ্বাসকষ্ট কিংবা গুরুতর অসুস্থতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

