ঘরে বসেই বুঝবেন লিভারের সমস্যার লক্ষণ, শরীরের যে ৪ পরিবর্তন খেয়াল করবেন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হলো লিভার বা যকৃৎ। খাবার থেকে পুষ্টি প্রক্রিয়াজাত করা, রক্ত থেকে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণে সহায়তা করা এবং চর্বি হজমের জন্য পিত্তরস তৈরি করাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে এই অঙ্গ। তবে অনেকেই লিভারের সমস্যা গুরুতর না হওয়া পর্যন্ত এর লক্ষণগুলো গুরুত্ব দেন না। অথচ শরীরের কিছু পরিবর্তন খেয়াল করলে লিভারের সম্ভাব্য সমস্যার বিষয়ে আগেভাগে সতর্ক হওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বক ও চোখের রং, পেটের অবস্থা, মলত্যাগের পরিবর্তন এবং প্রস্রাবের রং—এই চারটি বিষয় লিভারের সমস্যার সম্ভাব্য সংকেত দিতে পারে। তবে শুধু এসব লক্ষণ দেখে লিভারের রোগ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
১. ত্বক ও চোখের রং হলুদ হয়ে যাওয়া
লিভারের সমস্যার পরিচিত লক্ষণগুলোর একটি হলো জন্ডিস। এ অবস্থায় ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যায়। লোহিত রক্তকণিকা ভাঙার ফলে বিলিরুবিন নামের একটি রঞ্জক পদার্থ তৈরি হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় লিভার এই পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করে শরীর থেকে বের করে দিতে সহায়তা করে। লিভারের কার্যক্রমে সমস্যা হলে রক্তে বিলিরুবিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে জন্ডিস দেখা দিতে পারে।
ত্বক বা চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে গেলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। জন্ডিস শুধু লিভারের রোগেই হয় না, এর পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে।
২. পেটে ব্যথা বা অস্বাভাবিক ফোলা
পেটের ওপরের ডান দিকে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, অস্বস্তি কিংবা ভারী লাগার অনুভূতি লিভার-সংক্রান্ত সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। লিভারে প্রদাহ, ফ্যাটি লিভারসহ বিভিন্ন সমস্যায় এমন অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। তবে পেটের এ ধরনের ব্যথার অন্য কারণও রয়েছে।
লিভারের গুরুতর রোগে পেটের ভেতরে তরল জমে পেট ফুলে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থাকে অ্যাসাইটিস বলা হয়। সাধারণত লিভারের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণে রক্তপ্রবাহে চাপের পরিবর্তন এবং শরীরে তরলের ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে এমনটি হতে পারে।
পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বা দীর্ঘদিন ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৩. মলত্যাগ ও হজমে পরিবর্তন
চর্বি হজমে সহায়তাকারী পিত্তরস তৈরি করে লিভার। তাই পিত্তরস তৈরি বা প্রবাহে সমস্যা হলে মলত্যাগের ধরন ও রঙে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
মলের রং স্বাভাবিকের তুলনায় ফ্যাকাশে, ধূসর বা মাটির মতো হয়ে গেলে তা পিত্তপ্রবাহে বাধার লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে মলের রং পরিবর্তনের সঙ্গে জন্ডিস বা গাঢ় প্রস্রাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া ক্ষুধা কমে যাওয়া, খাবারের প্রতি অনীহা এবং কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়াও লিভারের অসুস্থতাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এসব পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা দ্রুত ওজন কমতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৪. প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যাওয়া
শরীরে পানির পরিমাণ কমে গেলে প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হতে পারে। তবে পর্যাপ্ত পানি পান করার পরও প্রস্রাবের রং যদি চা বা কোলার মতো গাঢ় বাদামি থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
লিভার বা পিত্তনালির সমস্যায় রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে গেলে এর একটি অংশ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হয়ে আসতে পারে। ফলে প্রস্রাবের রং গাঢ় হয়ে যায়। বিশেষ করে এ লক্ষণের সঙ্গে চোখ বা ত্বক হলুদ হওয়া, মল ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া কিংবা পেটে ব্যথা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
লিভারের সুস্থতায় কী করবেন?
শরীরের এসব পরিবর্তন লিভারের সমস্যার প্রাথমিক সংকেত হতে পারে, তবে এগুলোকে ঘরে বসে লিভার পরীক্ষার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। লিভারের অবস্থা জানতে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রামসহ বিভিন্ন পরীক্ষা দিতে পারেন।
লিভার সুস্থ রাখতে সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা ভেষজ উপাদান ব্যবহার না করা গুরুত্বপূর্ণ। হেপাটাইটিসের ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ ও সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থাও সহায়ক।
মনে রাখবেন, জন্ডিস, চা-রঙের প্রস্রাব, ফ্যাকাশে মল কিংবা পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে শুধু ঘরোয়া উপায়ে সমাধানের চেষ্টা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। দ্রুত রোগ শনাক্ত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রে লিভারের ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ বা চিকিৎসা করা সম্ভব।
সূত্র: এনডিটিভি হেলথ
