Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

সন্তান বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে ভেবে চিন্তিত? মা-বাবার করণীয়

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৩ এএম

সন্তান বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে ভেবে চিন্তিত? মা-বাবার করণীয়

Advertisement

বুলিং কেবল কোনো খেলার মাঠ বা স্কুলের সাধারণ ঝগড়া-বিবাদের বিষয় নয়; এটি শিশুর সামগ্রিক বিকাশ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। 

ভারতের প্রখ্যাত স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ (নিউরোলেজিস্ট) ড. কে কে জিন্দাল জানান, বাড়ন্ত বয়সে শিশুদের মস্তিষ্ক বিকাশের মধ্য দিয়ে যায়। 

এ সময় সপ্তাহ বা মাসজুড়ে টানা মানসিক চাপ চলতে থাকলে ঘুম, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং মেজাজ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নীরবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি এর শারীরিক প্রভাবও দেখা দিতে শুরু করে।

তাই শিশুর আচরণে দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করলে তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত। ভারতের লাইফস্টাইল বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘এইচটি লাইফস্টাইল’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত এবং মা-বাবার করণীয় তুলে ধরেছেন।

যেসব লক্ষণ দেখে মা-বাবা সতর্ক হবেন

ড. জিন্দালের মতে, কোনো শিশু যদি হঠাৎ পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়, খিটখিটে হয়ে পড়ে, সারাক্ষণ ভয়ে ভয়ে থাকে কিংবা প্রিয় শখগুলোর প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে—তবে বুঝতে হবে সে মানসিক কষ্টে আছে। 

এ ছাড়া অন্যান্য সতর্কসংকেতগুলো হলো-

  • পড়ালেখায় অমনোযোগিতা এবং পরীক্ষায় গ্রেড বা নম্বর কমে যাওয়া 
  • ঘুমের ব্যাঘাত ঘটা বা বারবার দুঃস্বপ্ন দেখা 
  • সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়া ঘন ঘন মাথা বা পেট ব্যথা করা 
  • সবসময় ক্লান্ত অনুভব করা 
  • খাওয়া-দাওয়ায় হঠাৎ পরিবর্তন আসাও (ক্ষুধামন্দা বা অতিরিক্ত খাওয়া) 
  • স্কুলে যেতে চরম অনিহা দেখানো 
  • আচরণে অস্বাভাবিক রাগ বা আগ্রাসন দেখা যাওয়া 
  • ফোন লুকিয়ে ব্যবহার করা বা অনলাইন কর্মকাণ্ড আড়াল করার চেষ্টা করা (যা সাইবার বুলিংয়ের লক্ষণ হতে পারে)

শিশু বুলিংয়ের শিকার হলে মা-বাবার করণীয়

শিশু বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে এমন সন্দেহ হলে অভিভাবকরা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নিতে পারেন-

১. কথা শুনুন ও পরিবর্তন লক্ষ্য করুন

প্রথম কাজ হলো শিশুর পরিবর্তনগুলো খেয়াল করা। কোনো একটি সপ্তাহ খারাপ যাওয়া অস্বাভাবিক নয়, তবে আচরণে টানা পরিবর্তন দেখলে তা ‘সাময়িক বয়স বা ফেজ’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

এমন একটা সময় বেছে নিন যখন কারো তাড়া নেই। শিশুকে খোলাখুলি প্রশ্ন করুন এবং তাকে কথা বলতে দিন। তার কথায় বাধা দেবেন না কিংবা ‘তুমি এভাবে কেন করলে না’ বলে উপদেশ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—শিশুকে আশ্বস্ত করা যে বুলিংয়ের জন্য সে কোনোভাবেই দায়ী নয়। 

২. স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ করুন

কী ঘটছে এবং কখন ঘটছে—তার বিস্তারিত নোট বা রেকর্ড রাখুন। এরপর স্কুলের শিক্ষক ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শিশুর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করুন। 

ড. জিন্দালের পরামর্শ অনুযায়ী, অন্য শিশু বা তার মা-বাবার সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি যোগাযোগ এড়িয়ে চলাই ভালো; কারণ এতে অনেক সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

৩. বাড়িতে সহায়ক পরিবেশ ও রুটিন গড়ে তুলুন

বাড়িতে একটি নির্দিষ্ট ও সুন্দর রুটিন বজায় রাখা শিশুর মানসিক স্থিতিশীলতায় চমৎকার কাজ করে। সঠিক সময়ে পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, কিছুটা শারীরিক খেলাধুলা এবং পরিবারের সঙ্গে গুণগত সময় কাটানো শিশুকে মানসিকভাবে নিরাপদ ও সুরক্ষিত বোধ করায়।

৪. অভিজ্ঞ পেশাদারের পরামর্শ কখন নেবেন?

যদি শিশুর আচরণের পরিবর্তনগুলো দীর্ঘদিন চলতে থাকে বা তার দৈনন্দিন জীবনে বাধা সৃষ্টি করে, তবে বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সাহায্য নেওয়া জরুরি।

ড. জিন্দাল উল্লেখ করেন, শিশুর যদি তীব্র বা ঘন ঘন মাথা ব্যথা, খিঁচুনি, হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা সচেতনতা কমে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে, তবে দ্রুত স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যেতে হবে। আর শিশু যদি কখনো নিজের ক্ষতি করার (আত্মহত্যার) কথা বলে, তবে এক মুহূর্ত দেরি না করে অবিলম্বে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হবে। 

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

সন্তান বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে ভেবে চিন্তিত? মা-বাবার করণীয়

সন্তান বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে ভেবে চিন্তিত? মা-বাবার করণীয়

কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে নানা পাটেকরের মৃত্যু: শরীর কি আগে থেকে সতর্কবার্তা দেয়?

কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে নানা পাটেকরের মৃত্যু: শরীর কি আগে থেকে সতর্কবার্তা দেয়?

দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে ঘাড়ে ব্যথা? কমাতে করুন ৫ ব্যায়াম

দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে ঘাড়ে ব্যথা? কমাতে করুন ৫ ব্যায়াম

যে ৫ ভিটামিনের ঘাটতি মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে

যে ৫ ভিটামিনের ঘাটতি মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম