কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে নানা পাটেকরের মৃত্যু: শরীর কি আগে থেকে সতর্কবার্তা দেয়?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসভবনে মারা গেছেন ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গোয়ার নিজ বাসভবনে মারা গেছেন ভারতের প্রখ্যাত বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
ভারতের মণিপাল হাসপাতালের প্রধান (অনকোলজি) ডা. শেখর সালকার জানান, বাসভবনে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যাওয়ার পর এই অভিনেতাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা টানা ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দিয়ে তাকে সুস্থ করার আপ্রাণ চেষ্টা করলেও তিনি আর সাড়া দেননি। বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
নানা পাটেকরের এই আকস্মিক প্রয়াণ আরও একবার মনে করিয়ে দিল যে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট কতটা আচমকা আঘাত হানতে পারে।
তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—হৃদযন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে শরীর কি কোনো সতর্কবার্তা বা পূর্বলক্ষণ দেয়? আর সেই লক্ষণগুলো চিনতে পারলে কি এমন মর্মান্তিক মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব?
এ প্রসঙ্গে ভারতের সিকে বিড়লা হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের পরিচালক ডা. অংশুল কুমার জৈন জানান, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট সাধারণত হঠাৎ করেই ঘটে এবং এটি ঠিক কখন ঘটবে তা নিশ্চিত করে বলার মতো কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ নেই।
তবে এর পেছনে থাকা হৃদযন্ত্রের সমস্যা বা বৈদুতিক জটিলতাগুলো আগে থেকেই কিছু সংকেত দিতে পারে।
কৈলাশ হাসপাতাল অ্যান্ড নিউরো ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অমিত হ্যান্ডা জানান, বিশেষ করে ৫০ বছরের বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে এই আগাম লক্ষণগুলো খেয়াল করা অত্যন্ত জরুরি। যেমন—কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ বুক ধড়ফড় করা, মাত্রাতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করা এবং সামান্য পরিশ্রমে বা হাঁটাচলাতেই বুকে চাপ ও অস্বস্তি লাগা।
এ ছাড়া হঠাৎ দম বন্ধ হয়ে আসার মতো শ্বাসকষ্ট, প্রায়ই মাথা ঘোরা, হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, কিংবা অস্বাভাবিক ঠান্ডা ঘাম ও বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।
অবশ্যই এসব লক্ষণ মানেই কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হবে এমনটি নয়; রক্তস্বল্পতা বা অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণেও এটি হতে পারে। তবে লক্ষণগুলো যদি নতুন হয়, বারবার দেখা দেয় বা বাড়তে থাকে, তবে মোটেও অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
কারো সামনে যদি এমন জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়, অর্থাৎ কেউ হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যায় এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নেয়, তবে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করা যাবে না।
কারো সামনে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে কী করবেন?
কেউ যদি হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নেয়, তবে এক মুহূর্তও দেরি করা যাবে না।
জরুরি সাহায্য চান: দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল করুন।
সিপিআর (CPR) শুরু করুন: রোগীর সাড়া না থাকলে বুকের ঠিক মাঝখানে দুই হাত দিয়ে শক্ত ও দ্রুত চাপ দেওয়া শুরু করুন। প্রতি মিনিটে অন্তত ১০০ থেকে ১২০ বার এবং ২ ইঞ্চির মতো দেবে যায় এমনভাবে চাপ দিতে হবে।
এইডি ডিভাইস: আশেপাশে ‘অটোমেটেড এক্সটার্নাল ডেফিব্রিলেটর’ থাকলে সেটির ডিজিটাল নির্দেশনা মেনে হৃদপিণ্ডে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
সিপিআর চালু রাখুন: ডাক্তার বা অ্যাম্বুলেন্স না আসা পর্যন্ত বুকে চাপ দেওয়া বা সিপিআর অব্যাহত রাখুন।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর সহজ উপায়
জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে হৃদরোগ বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।
- নিয়মিত রক্তচাপ (বিপি), রক্তের সুগার ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা।
- ধূমপান ও তামাকজাত জিনিস পুরোপুরি এড়িয়ে চলা।
- তেল-চর্বিযুক্ত খাবার কমিয়ে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়া।
- প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা শারীরিক পরিশ্রম করা।
- উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস থাকলে চিকিৎসকের নিয়ম মেনে নিয়মিত ওষুধ খাওয়া।

