টানা ৪৫ মিনিট সিপিআর দিয়েও বাঁচানো যায়নি নানা পাটেকরকে, কীভাবে কাজ করে এই পদ্ধতি
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের পর কাউকে বাঁচাতে জরুরি মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপগুলোর একটি হলো সিপিআর বা কার্ডিয়োপালমোনারি রিসাসিটেশন। হৃদ্যন্ত্রের স্পন্দন ও স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত সিপিআর শুরু করা হলে মস্তিষ্ক ও শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে কিছুটা রক্ত চলাচল বজায় রাখা সম্ভব হয়। তবে দীর্ঘ সময় সিপিআর দেওয়া হলেও সব ক্ষেত্রে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না।
সিপিআর কী?
সিপিআর হলো এমন একটি জরুরি জীবনরক্ষাকারী পদ্ধতি, যা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সময় প্রয়োগ করা হয়। বুকের মাঝখানে বারবার চাপ দেওয়ার মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে রক্ত চলাচল বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়। এর প্রধান লক্ষ্য হলো উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছানো পর্যন্ত মস্তিষ্কসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তের প্রবাহ কিছুটা ধরে রাখা।
সিপিআর সব সময় নিজে থেকে হৃদ্যন্ত্রকে আবার স্বাভাবিকভাবে চালু করে না। বরং এটি চিকিৎসা পাওয়ার জন্য মূল্যবান সময় তৈরি করে। কেউ হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে গেলে, ডাকাডাকিতে সাড়া না দিলে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে অথবা শুধু হাঁপানোর মতো শ্বাস নিতে থাকলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের আশঙ্কা করতে হবে।
এ অবস্থায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা ডাকতে হবে। আশপাশে এইডি বা অটোমেটেড এক্সটার্নাল ডিফিব্রিলেটর থাকলে সেটিও আনতে বলতে হবে এবং প্রশিক্ষণ থাকলে দ্রুত সিপিআর শুরু করতে হবে।
কীভাবে কাজ করে সিপিআর?
হৃদ্যন্ত্র বন্ধ হয়ে গেলে শরীরে অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্তের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মস্তিষ্ক ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। সিপিআর মূলত দুটি উপায়ে শরীরে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
১. বুকের ওপর চাপ প্রয়োগ
রোগীকে শক্ত ও সমতল জায়গায় শুইয়ে বুকের মাঝখানে হাত রেখে বারবার চাপ দেওয়া হয়। এতে বুকের ভেতরের চাপ পরিবর্তিত হয় এবং হৃদ্যন্ত্রের মাধ্যমে রক্ত কিছুটা সঞ্চালিত হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো মস্তিষ্ক ও গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোতে রক্ত চলাচল যতটা সম্ভব বজায় রাখা।
২. রেসকিউ ব্রিদিং
প্রশিক্ষিত ব্যক্তি প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীর ফুসফুসে শ্বাস পৌঁছে দিতে পারেন। এতে ফুসফুসে অক্সিজেন প্রবেশ করে এবং বুকের চাপের মাধ্যমে সঞ্চালিত রক্ত সেই অক্সিজেন শরীরের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে দিতে পারে।
তবে সাধারণ প্রত্যক্ষদর্শীর ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ না থাকলে অন্তত দ্রুত বুকের ওপর চাপ দেওয়া শুরু করাও গুরুত্বপূর্ণ। জরুরি চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানো পর্যন্ত তা চালিয়ে যেতে হয়।
কতক্ষণ সিপিআর দিতে হয়?
সিপিআর দেওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। রোগী সাড়া দেওয়া ও স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া শুরু না করা পর্যন্ত, প্রশিক্ষিত চিকিৎসাকর্মী দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত অথবা এইডি ব্যবহারের সময় নির্দেশনা অনুযায়ী সাময়িক বিরতি প্রয়োজন হওয়া পর্যন্ত সিপিআর চালিয়ে যেতে হতে পারে।
কেউ সিপিআর দিতে দিতে অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লে প্রশিক্ষিত অন্য কেউ থাকলে তার সঙ্গে দায়িত্ব বদল করা যায়।
দীর্ঘ সময় সিপিআর দেওয়ার পরও কেন বাঁচানো যায় না?
সিপিআর জীবন বাঁচানোর গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হলেও এটি কোনো নিশ্চয়তা নয়। কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণ, কত দ্রুত সিপিআর শুরু হয়েছে, হৃদ্যন্ত্রের ছন্দ কেমন ছিল, কত দ্রুত ডিফিব্রিলেশন দেওয়া গেছে এবং রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা—এসব বিষয়ের ওপর চিকিৎসার ফল অনেকটাই নির্ভর করে।
অনেক ক্ষেত্রে সিপিআরের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক শক বা ডিফিব্রিলেশন, ওষুধ, শ্বাসনালির সহায়তা এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মূল কারণের নির্দিষ্ট চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। তাই দীর্ঘ সময় সিপিআর চললেও যদি মূল সমস্যা গুরুতর হয় বা চিকিৎসা যথেষ্ট দ্রুত কার্যকর না হয়, রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নাও হতে পারে।
তবে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সন্দেহ হলে সিপিআর দিতে দেরি করা আরও বিপজ্জনক। দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা ডাকা, বুকের মাঝখানে চাপ দেওয়া এবং এইডি পাওয়া গেলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করা—এই কয়েকটি পদক্ষেপই চিকিৎসা পৌঁছানোর আগের গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকু কাজে লাগাতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এই কয়েক মিনিটই জীবন-মৃত্যুর ব্যবধান তৈরি করতে পারে।
সূত্র: আনন্দবাজার
