ফ্যাটি লিভার কি পুরোপুরি ভালো হয়? জানুন সুস্থ রাখার কার্যকর উপায়
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভার। দূষিত পদার্থ শরীর থেকে বের করা, প্রোটিন তৈরি, রক্ত পরিশোধন এবং হজমে সহায়তা করাসহ প্রতিদিন এটি অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। অথচ অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে লিভারে জমতে পারে অতিরিক্ত চর্বি। এই সমস্যাকেই বলা হয় ফ্যাটি লিভার।
শুধু মদ্যপান বা ধূমপানের কারণেই ফ্যাটি লিভার হয়—এমন ধারণা ঠিক নয়। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া, চিনিযুক্ত পানীয় পান, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত ওজনসহ বিভিন্ন কারণেও লিভারে চর্বি জমতে পারে। বর্তমানে তরুণদের মধ্যেও এ সমস্যার প্রবণতা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে ফ্যাটি লিভার শনাক্ত করা গেলে জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে লিভারের অবস্থা অনেকটাই উন্নত করা সম্ভব। তবে লিভার আগের অবস্থায় ফিরবে কি না, তা নির্ভর করে রোগের পর্যায়, লিভারে জমা চর্বির পরিমাণ এবং প্রদাহ বা ক্ষত তৈরি হয়েছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর।
মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালের লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ অমিত মান্ডোত বলেন, ফ্যাটি লিভার যদি প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে এবং লিভারে স্থায়ী ক্ষত তৈরি না হয়, তাহলে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে লিভারে জমা চর্বি অনেকটাই কমানো, এমনকি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
তবে সবার ক্ষেত্রে ফলাফল এক রকম নাও হতে পারে। শরীরে কতটা চর্বি জমেছে, বিপাকীয় স্বাস্থ্য কেমন, ডায়াবিটিস বা কোলেস্টেরল আছে কি না এবং কী ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে—এসব বিষয়ও লিভারের সুস্থ হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্যাটি লিভারের সঙ্গে যদি প্রদাহ বা লিভারে ক্ষত তৈরি হয়, তাহলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। সে ক্ষেত্রে শুধু জীবনযাত্রায় পরিবর্তন নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হতে পারে।
আরেকটি বিষয় হলো, ফ্যাটি লিভার হলেই যে লিভার সবসময় আকারে বড় হয়ে যাবে, তা নয়। অনেক ক্ষেত্রে লিভারে চর্বি জমলেও এর আকার স্বাভাবিক থাকতে পারে। তাই শুধু শারীরিক লক্ষণ দেখে ফ্যাটি লিভার শনাক্ত করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করতে হয়।
ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে রাখতে যা করবেন
ধীরে ধীরে ওজন কমান: অতিরিক্ত ওজন থাকলে শরীরের মোট ওজনের প্রায় ৫ শতাংশ কমাতেও লিভারে জমা চর্বি কমতে শুরু করতে পারে। তবে দ্রুত ওজন কমানোর পরিবর্তে সুষম খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ওজন কমানো বেশি কার্যকর।
চিনিযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমান: ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লে কোমল পানীয়সহ চিনিযুক্ত পানীয়, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং পরিশোধিত শর্করা কমানো জরুরি।
নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: প্রতিদিন হাঁটা বা অন্যান্য উপযোগী শারীরিক পরিশ্রম ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিপাকীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।
পুষ্টিকর খাবার বেছে নিন: টাটকা শাকসবজি, মাছ, ডিম, পরিমিত মাংস এবং লেবুজাতীয় ও বেরিজাতীয় ফলসহ পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট খাবার একাই ফ্যাটি লিভার সারিয়ে দেয়—এমন দাবি ঠিক নয়।
ডায়াবিটিস, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন: এসব সমস্যা থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ গ্রহণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।
সব মিলিয়ে, ফ্যাটি লিভার ধরা পড়লেই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। রোগটি কোন পর্যায়ে রয়েছে তা জানা এবং সময়মতো জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে লিভারে প্রদাহ বা ক্ষত তৈরি হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নিতে পারলে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ধরে রাখার সুযোগ অনেক বেশি।


