গ্যাস-অম্বল ভেবে যে লক্ষণগুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন, হতে পারে অন্ত্রের ক্যানসারের সংকেত
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গ্যাস, অম্বল বা বদহজমকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অনেকেই গুরুত্ব দেন না। কিন্তু একই ধরনের উপসর্গ কখনো কখনো পাচনতন্ত্রের গুরুতর রোগেরও ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে অন্ত্র, পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের শুরুর দিকের লক্ষণ অনেক সময় খুব স্পষ্ট হয় না। ফলে রোগী বিষয়টি সাধারণ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যেতে পারেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় কম বয়সীদের মধ্যে অন্ত্রের ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। ক্যানসার রিসার্চ ইউকের গবেষকদের একটি সমীক্ষাতেও তুলনামূলক কম বয়সে বাওয়েল ক্যানসারের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার প্রবণতা দেখা গেছে। ২৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী প্রায় আড়াই লাখ মানুষকে নিয়ে করা ওই গবেষণায় ২০০৭ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ব্রিটেনসহ প্রায় ৫০টি দেশে অন্ত্রের ক্যানসারের প্রবণতা বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া যায়। এসব দেশের তালিকায় ভারতও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের পরিবর্তন এ ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও জাঙ্ক ফুড খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, দীর্ঘ সময় বসে থাকা, অনিয়মিত ঘুম, অতিরিক্ত ওজন এবং মানসিক চাপ—এসব বিষয় সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কেন বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি
অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান ও মদ্যপানের পাশাপাশি কিছু সংক্রমণও পাচনতন্ত্রের বিভিন্ন ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি এবং হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসের সংক্রমণের কথা উল্লেখ করা হয়।
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও জাঙ্ক ফুড নিয়মিত খাওয়ার ফলে খাদ্যাভ্যাসও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠতে পারে। আঁশসমৃদ্ধ খাবারের পরিবর্তে এসব খাবারের ওপর বেশি নির্ভরতা অন্ত্রের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ছাড়া উচ্চ তাপমাত্রায় মাংস রান্নার ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে মাংস খুব বেশি তাপে পুড়িয়ে বা ঝলসে রান্না করলে হেটারোসাইক্লিক অ্যামাইনসের মতো কিছু রাসায়নিক যৌগ তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণে এসব যৌগের সংস্পর্শ ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে গ্রিল বা তন্দুরি খাবার খেলেই ক্যানসার হবে—এমন সরাসরি সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই।
গ্যাস-অম্বলের মতোই হতে পারে লক্ষণ
অন্ত্রের ক্যানসারের শুরুর দিকের কিছু লক্ষণ সাধারণ গ্যাস, অম্বল বা হজমের সমস্যার সঙ্গে মিলে যেতে পারে। এ কারণেই অনেক সময় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়।
পেটের অস্বস্তি বা ব্যথা, দীর্ঘদিনের অম্বল, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, ক্ষুধা কমে যাওয়া এবং মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তনের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এসব লক্ষণ মানেই ক্যানসার—এমন নয়। গ্যাস্ট্রিকসহ আরও অনেক রোগেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। তবে উপসর্গ বারবার হলে, দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কখন সতর্ক হবেন
হঠাৎ বা অকারণে ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘস্থায়ী পেটব্যথা, বারবার অম্বল বা হজমের সমস্যা, ক্ষুধামন্দা, মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন কিংবা মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়ার মতো লক্ষণকে শুধু গ্যাসের সমস্যা ভেবে ফেলে রাখা ঠিক নয়।
বিশেষ করে মলের সঙ্গে রক্ত, কালো পায়খানা, দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যা বা অস্বাভাবিক ওজন কমার মতো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার কারণ নির্ণয় করতে পারেন।
ক্যানসারের ক্ষেত্রে দ্রুত শনাক্তকরণ চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে পারে। তাই সামান্য মনে হলেও দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক পাচনতন্ত্রের উপসর্গকে অবহেলা না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।




