স্ট্রোকের এই লক্ষণগুলো অবহেলা করছেন না তো! জেনে নিন এখনই
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্ট্রোক মানেই হঠাৎ পড়ে যাওয়া, অচেতন হয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া—এমন ধারণা অনেকেরই রয়েছে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে স্ট্রোক এতটা নাটকীয়ভাবে শুরু হয় না। হাত-পায়ে হঠাৎ দুর্বলতা, কথা বলার সময় শব্দ খুঁজে না পাওয়া, দৃষ্টিতে পরিবর্তন, মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানোর মতো সূক্ষ্ম লক্ষণ দিয়েও শুরু হতে পারে স্ট্রোক। এসব উপসর্গকে সাধারণ সমস্যা মনে করে অবহেলা করলে দেরি হয়ে যেতে পারে চিকিৎসায়।
ভারতীয় নিউরোসার্জন ডা. সুমিত পাওয়ারের মতে, স্ট্রোকের শুরুর দিকের কিছু লক্ষণ এতটাই হালকা হতে পারে যে আক্রান্ত ব্যক্তি সেগুলো গুরুত্ব না দিয়ে স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। মস্তিষ্কের কোন অংশ আক্রান্ত হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে স্ট্রোকের লক্ষণও ভিন্ন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রও হঠাৎ দুর্বলতা বা অবশভাব, দৃষ্টির সমস্যা, বিভ্রান্তি, কথা বলতে অসুবিধা, মাথা ঘোরা ও ভারসাম্য হারানোকে স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সাধারণ সমস্যার সঙ্গে মিলেই তৈরি হয় বিভ্রান্তি
স্ট্রোকের প্রাথমিক কিছু উপসর্গ দৈনন্দিন নানা সমস্যার মতো মনে হতে পারে। যেমন, মাথা ঘোরাকে ঘুমের ঘাটতি, দুর্বলতাকে অতিরিক্ত ক্লান্তি, চোখে ঝাপসা দেখাকে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ফল কিংবা কথা বলতে অসুবিধাকে মানসিক চাপের কারণে হয়েছে বলে মনে হতে পারে।
এখানেই তৈরি হয় বড় ঝুঁকি। কারণ কিছুক্ষণ পর উপসর্গ চলে গেলে অনেকে ধরে নেন সমস্যা আর নেই। কিন্তু এমন উপসর্গ ক্ষণস্থায়ী ইস্কেমিক অ্যাটাক বা টিআইএর লক্ষণও হতে পারে।
টিআইএতে স্ট্রোকের মতো উপসর্গ দেখা দিলেও তা কিছু সময় পর পুরোপুরি সেরে যেতে পারে। তবে উপসর্গ চলে যাওয়া বিপদ কেটে যাওয়ার নিশ্চয়তা নয়। বরং ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্ট্রোকের সতর্কসংকেত হিসেবেও টিআইএ দেখা দিতে পারে। তাই এ ধরনের উপসর্গ সাময়িকভাবে সেরে গেলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মনে রাখুন বি ফাস্ট
স্ট্রোকের লক্ষণ সহজে মনে রাখতে বি ফাস্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এতে রয়েছে ভারসাম্য, চোখ, মুখ, হাত, কথা এবং সময়—এই ছয়টি বিষয়।
হঠাৎ ভারসাম্য নষ্ট হওয়া বা দৃষ্টিতে পরিবর্তন দেখা দিলেও সতর্ক হতে হবে। মুখ বেঁকে যাওয়া, এক হাত দুর্বল হয়ে যাওয়া কিংবা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো পরিচিত লক্ষণ দেখা দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়। হঠাৎ দেখা দেওয়া একটি অস্বাভাবিক স্নায়বিক উপসর্গও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত হতে পারে।
লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন
হঠাৎ কথা বলা, দেখা, হাত-পা নড়াচড়া করা বা ভারসাম্য রাখার ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা দিলে প্রথমেই কখন উপসর্গ শুরু হয়েছে, সেই সময়টি মনে রাখতে হবে। এরপর দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
ডা. পাওয়ার বলেন, স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত রোগীর চিকিৎসা মূল্যায়ন করা গেলে স্ট্রোকের ধরন শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগও বাড়ে।
তাই কোনো স্নায়বিক পরিবর্তন হালকা মনে হলেও তা অবহেলা করা ঠিক নয়। কয়েক মিনিট স্থায়ী হওয়া উপসর্গও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা নিতে দেরি হলে মূল্যবান সময় হারিয়ে যেতে পারে।

