চোখে দেখা যায় না, তবু শরীরে ঢুকছে প্লাস্টিক: কতটা ঝুঁকিতে মানুষ
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্লাস্টিকের দূষণ এখন আর শুধু নদী, সমুদ্র কিংবা মাটির সমস্যা নয়। প্রতিদিনের খাবার, পানীয় ও বাতাসের সঙ্গে অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা অজান্তেই প্রবেশ করছে মানুষের শরীরে।
বিজ্ঞানীরা মানবদেহের বিভিন্ন টিস্যু ও জৈবিক নমুনায় এসব কণার অস্তিত্ব শনাক্ত করেছেন। ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবছেন গবেষকরা।
প্লাস্টিকের এই অদৃশ্য দূষণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও এর প্রকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। শরীরে কণাগুলো প্রবেশের পর কত দিন অবস্থান করে, কোন অঙ্গের ওপর কী প্রভাব ফেলে এবং দীর্ঘ মেয়াদে রোগের ঝুঁকি বাড়ায় কিনা—এসব বিষয় নিয়ে চলছে গবেষণা
যেভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক পৌঁছাচ্ছে শরীরের ভেতর
পাঁচ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিকের কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। প্লাস্টিকের বড় বস্তু ক্ষয়ে ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি টায়ার, সিনথেটিক কাপড় ও বিভিন্ন দৈনন্দিন পণ্যের ব্যবহার থেকেও এসব কণা তৈরি হয়।
দূষিত পানি, খাবার ও বাতাসের মাধ্যমে কণাগুলো মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। গবেষণায় রক্ত, ফুসফুস, গর্ভফুল এবং পুরুষের প্রজননস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব নমুনায় কণা শনাক্ত হওয়া আর তার কারণে সরাসরি রোগ সৃষ্টি হওয়া এক বিষয় নয়।
শরীরে প্রবেশের পর কী ঘটে?
মাইক্রোপ্লাস্টিকের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞানীদের আগ্রহের অন্যতম কারণ হলো এর বৈচিত্র্য। সব কণার আকার, গঠন কিংবা রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য এক নয়। তাই শরীরে প্রবেশ করা প্রতিটি কণা একই ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে, এমন ধারণা সঠিক নয়।
গবেষণায় প্রদাহ, শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা, অন্ত্রের অসুস্থতা এবং রক্তনালির জটিলতার সঙ্গে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। স্নায়ুতন্ত্র ও প্রজননস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব নিয়েও অনুসন্ধান চলছে। তবে এসব সম্পর্কের ক্ষেত্রে কারণ ও ফলাফলের যোগসূত্র নিশ্চিত করতে আরও শক্তিশালী প্রমাণ প্রয়োজন।
বিশেষ উদ্বেগের জায়গা হলো প্লাস্টিক তৈরিতে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিক উপাদান। কণার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি এসব রাসায়নিকের সম্ভাব্য প্রভাবও আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হচ্ছে গবেষকদের।
পুনর্ব্যবহারই কি যথেষ্ট সমাধান?
প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলায় পুনর্ব্যবহারের কথা বলা হলেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা সীমিত। হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে উৎপাদিত প্লাস্টিকের আনুমানিক ৯ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করা হয়।
অর্থাৎ, ব্যবহারের পর প্লাস্টিক সংগ্রহ করে নতুন পণ্য তৈরির ব্যবস্থা থাকলেই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য হিসেবে জমা হচ্ছে, পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে কিংবা প্রাকৃতিক পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
এ কারণে দূষণ নিয়ন্ত্রণের কৌশলে পরিবর্তন আনা জরুরি। যতটা সম্ভব অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পণ্যের নকশায় পরিবর্তন আনা এবং বর্জ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা উন্নত করা—এই উদ্যোগগুলোকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
দূষণের উৎস আপনার দৈনন্দিন জীবনেও
প্লাস্টিক দূষণের কথা উঠলে সাধারণত বোতল, পলিথিনের ব্যাগ কিংবা খাবারের প্যাকেটের কথা মনে পড়ে। কিন্তু এমন কিছু উৎস রয়েছে, যেগুলো সহজে চোখে পড়ে না।
গাড়ির টায়ার রাস্তার ওপর চলার সময় ঘর্ষণে ক্ষয় হয় এবং ক্ষুদ্র কণা ছড়ায়। অন্যদিকে পলিয়েস্টারের মতো কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক ধোয়ার সময় সূক্ষ্ম তন্তু পানিতে মিশতে পারে। এসব কণা বর্জ্যপানির মাধ্যমে পরিবেশে পৌঁছানোর সুযোগ পায়।
সমস্যা কমাতে কাপড় ধোয়ার সময় মাইক্রোফাইবার সংগ্রহের উপযোগী ফিল্টার ব্যবহার করা যেতে পারে। অপ্রয়োজনীয় গাড়ির যাত্রা কমানো, গণপরিবহন ব্যবহার এবং সম্ভব হলে হেঁটে চলার অভ্যাসও টায়ারের ক্ষয়জনিত দূষণ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

