কেউ আপনাকে অপছন্দ করে কিনা বুঝবেন যেসব লক্ষণে
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৫ পিএম
প্রতীকী ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আমাদের চারপাশে কত মানুষই তো ভিড় জমায়, যাদের আমরা বন্ধু বলে মনে করি। কিন্তু টিকটক ক্রিয়েটর জোশ ও মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা এমন কিছু লক্ষণের কথা বলেছেন, যা দেখলে সহজেই বোঝা যায় আপনার সেই তথাকথিত বন্ধুটি গোপনে আপনাকে আসলে পছন্দই করে না।
চলুন জেনে নেওয়া যাক বন্ধুত্বের মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সেই লক্ষণগুলো।
টিকটক কনটেন্ট ক্রিয়েটর জোশ তার জনপ্রিয় সংক্ষিপ্ত ভিডিওগুলোতে এমন কিছু আচরণের কথা তুলে ধরেছেন, যা একজন মানুষের সুপ্ত অপছন্দ বা শত্রুভাব ফুটিয়ে তোলে।
তার মতে, কোনো বন্ধু যদি আপনার কোনো সাফল্য বা অর্জনকে সবসময় ছোট করে দেখতে চায়, তবে বুঝতে হবে সে আপনার প্রতি ঈর্ষাকাতর।
এ ছাড়া সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বা খোঁজ নিতে যারা কখনোই নিজে থেকে যোগাযোগ করে না, তাদের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলা স্বাভাবিক। কারণ আজকের যুগে ২৪ ঘণ্টাই মানুষ ফোনের মাধ্যমে যুক্ত থাকতে পারে।
আরেকটি বড় সংকেত হলো, সেই ব্যক্তিটি বাকি সবার সঙ্গে দারুণ মিশুক ও অমায়িক হলেও আপনার প্রতি অদ্ভুত ঠান্ডা ও উদাসীন আচরণ করে। কারণ মানুষ আপনার সঙ্গে যেভাবে আচরণ করে, সেটাই মূলত আপনার প্রতি তাদের মনের আসল অনুভূতি প্রকাশ করে।
তাছাড়া সবকিছুতেই আপনাকে টেক্কা দেওয়ার চেষ্টা করা, আপনার যেকোনো ভালো খবরে খুশি না হয়ে বরং তার সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করা এবং সবার সামনে আপনার দুর্বলতা বা নিরাপত্তাহীনতার জায়গাগুলো নিয়ে উপহাস করা হলো বিষাক্ত বন্ধুত্বের স্পষ্ট লক্ষণ।
জোশ আরও সতর্ক করেছেন যে, যাদের মনে আপনার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা থাকে, তারা আপনার যেকোনো সাধারণ কথাও সব সময় ভুল বা নেতিবাচকভাবেই ব্যাখ্যা করবে।
বন্ধুত্বের জটিলতা কেবল টিকটক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রখ্যাত থেরাপিস্টরাও থেরাপি সেশনের অভিজ্ঞতার আলোকে বন্ধুত্বের কিছু সাধারণ সমস্যার কথা জানিয়েছেন।
থেরাপিস্ট জেনি ওয়ারউইকের মতে, বর্তমান সময়ে রাজনীতি বা সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে ভিন্ন মত থাকা খুবই স্বাভাবিক। তবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতা ছাড়া এই ভিন্ন মত বন্ধুত্বের সম্পর্কে বড় ফাটল ধরাতে পারে।
অন্যদিকে, কাউন্সেলর ডোনা মরগান সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক প্রচেষ্টার অভাব বা ‘ল্যাক অব রিসিপ্রোসিটি’-কে সবার ওপরে রেখেছেন। একটি সম্পর্কে যখন একজন ব্যক্তিই সারাক্ষণ আবেগ ও শ্রম দিয়ে যান, আর অন্যজন উদাসীন থাকেন, তখন মনে হতাশা ও অবমূল্যায়িত হওয়ার অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া আরেকটি বড় সমস্যা হলো কেবল নিজের কষ্টের কথা বলে যাওয়া কিন্তু বন্ধুর দেওয়া ভালো পরামর্শ বা সাহায্য একেবারেই কানে না তোলা। কাউন্সেলিং ডিরেক্টরি মেম্বার আবিগেইল হোলম্যানের মতে, এই ধরনের একমুখী নির্ভরতা দুপক্ষকেই মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে।
তাই চারপাশের বন্ধু নামের সম্পর্কগুলোকে একটু গভীরভাবে খেয়াল করুন। আপনার মানসিক শান্তি ও সুস্থতার স্বার্থে কোন সম্পর্কগুলো ইতিবাচক আর কোনগুলো ক্ষতিকর, তা সময় থাকতেই চিনে নেওয়া জরুরি।

