কিডনির টিউমার না কেটেই যেভাবে সুস্থ হলেন তরুণী
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ২৪ বছর বয়সি কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ঋত্বিকার বাম কিডনিতে টিউমার ধরা পড়ে। তীব্র পেটব্যথা ও প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তার কিডনিতে সন্দেহজনক টিউমার শনাক্ত করেন। তবে উন্নত প্রযুক্তির রোবটিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরো কিডনি অপসারণ না করেই টিউমারটি অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।
ভারতের বেঙ্গালুরুর মণিপাল হাসপাতালের ওল্ড এয়ারপোর্ট রোড শাখায় এ অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকেরা জানান, তরুণ বয়সে কিডনিতে টিউমার হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণের পাশাপাশি সুস্থ কিডনির কার্যক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ঋত্বিকার ক্ষেত্রে পুরো কিডনি অপসারণ করা হলে ভবিষ্যতে তার কিডনির কার্যক্ষমতা ও জীবনযাত্রার মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারত। এ কারণে চিকিৎসকেরা রোবটের সহায়তায় আংশিক কিডনি অপসারণের সিদ্ধান্ত নেন।
হাসপাতালের ইউরোলজি ও রোবটিক সার্জারির পরামর্শক চিকিৎসক সূর্যকান্ত চৌবে বলেন, তরুণ রোগীদের কিডনিতে টিউমার হলে অস্ত্রোপচারের প্রধান লক্ষ্য থাকে টিউমারটি সম্পূর্ণ অপসারণের পাশাপাশি সুস্থ কিডনির কার্যক্ষমতা রক্ষা করা। অল্প বয়সে পুরো কিডনি অপসারণ দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি জানান, রোবটিক অস্ত্রোপচারে ত্রিমাত্রিক উচ্চমানের ছবি ও সূক্ষ্ম যন্ত্র ব্যবহারের ফলে টিউমারটি নির্ভুলভাবে অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। এ পদ্ধতিতে রক্তক্ষরণ ও আশপাশের টিস্যুর ক্ষতি কমানোর সুযোগ থাকে। ঋত্বিকার ক্ষেত্রেও পুরো টিউমার অপসারণ করা হয়েছে, তবে তার বাম কিডনি অক্ষত রাখা সম্ভব হয়েছে।
চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচারের পর ঋত্বিকার সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া ছিল দ্রুত। ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করায় টিস্যুর ক্ষতি ও রক্তক্ষরণ কম হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পরদিনই তিনি স্বাভাবিকভাবে জেগে ওঠেন এবং নিজে নিজে হাঁটাচলা করতে পারেন। ব্যথাও তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
পরবর্তী সময়ে টিউমারের টিস্যু পরীক্ষায় অস্ত্রোপচারের প্রান্তে ক্যানসার কোষ না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। অর্থাৎ, সুস্থ কিডনির কার্যক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখেই টিউমারটি সম্পূর্ণ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।
চিকিৎসক সূর্যকান্ত চৌবে ঋত্বিকার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে নিয়মিত ফলোআপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সুস্থ অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গে ফিরে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন ঋত্বিকা।
চিকিৎসকদের মতে, কিডনিতে টিউমার ধরা পড়লেই পুরো কিডনি অপসারণ করতে হবে, এমন নয়। রোগীর অবস্থা ও টিউমারের বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় উপযুক্ত ক্ষেত্রে আধুনিক রোবটিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আক্রান্ত অংশ অপসারণ করে সুস্থ কিডনির কার্যক্ষমতা রক্ষা করা সম্ভব।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

-6ad0c5eae0019.jpg)