অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন আশার আলো
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার চিকিৎসায় এক যুগান্তকারী ও অভিনব পন্থার সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের সাল্ক ইনস্টিটিউট এবং ডানা-ফারবার ক্যানসার ইনস্টিটিউটের একদল গবেষক সম্প্রতি সফলভাবে একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা মানবদেহে পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। যেখানে দেখা গেছে, ভিটামিন ডি-র একটি বিশেষ রূপ কেমোথেরাপির কার্যকারিতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
ক্যানসার চিকিৎসায় এই নতুন কৌশল চিকিৎসাবিজ্ঞানে এক বড় সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সাল্ক ইনস্টিটিউটের গবেষক ডন এভান্সের ল্যাবরেটরি আবিষ্কারের ওপর ভিত্তি করে এই চিকিৎসা কৌশলটি দাঁড় করানো হয়েছে। আমাদের শরীরে থাকা ‘ভিটামিন ডি রিসেপ্টর’ বা গ্রাহক অঙ্গাণুগুলোকে সক্রিয় করার মাধ্যমে ক্যানসার কোষের চারপাশের সুরক্ষাবলয় বা শক্ত আবরণ ভেঙে ফেলা সম্ভব—এই ধারণার ওপর ভিত্তি করেই গবেষণাটি শুরু হয়।
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার কোষগুলো সাধারণত ফাইবারব্লাস্ট নামক এক ধরনের কোষ দিয়ে তৈরি অত্যন্ত ঘন ও শক্ত আবরণে ঢাকা থাকে। এই প্রাচীরটি কেবল কেমোথেরাপির ওষুধগুলোকে ক্যানসারের ভেতরে প্রবেশ করতে বাধা দেয় না, বরং শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়তে দেয় না।
সাল্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকরা পরীক্ষামূলকভাবে দেখেছেন যে, ভিটামিন ডি-র সিন্থেটিক রূপ বা বিকল্প—যেমন ‘প্যারাসিকজিটোল’—এই ক্ষতিকারক ফাইবারব্লাস্টগুলোকে নিষ্ক্রিয় করতে এবং ক্যানসারের চারপাশের পরিবেশকে বদলে দিতে পারে।
রোগীদের ওপর সফল পরীক্ষা
‘নেচার ক্যানসার’ জার্নালে প্রকাশিত এই নতুন গবেষণায় এমন কিছু রোগী অংশ নিয়েছিলেন, যাদের ছড়িয়ে পড়া অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের চিকিৎসা আগে কখনোই শুরু হয়নি। গবেষণায় অংশগ্রহণকারী রোগীদের স্ট্যান্ডার্ড কেমোথেরাপির পাশাপাশি প্যারাসিকজিটোল দেওয়া হয় (কিছু রোগীকে মুখে খাওয়ার ট্যাবলেটের মাধ্যমে এবং কিছু রোগীকে শিরাপথে)।
গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল কেবল ওষুধটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তবে চিকিৎসকরা দেখতে পান যে, কেমোথেরাপির সঙ্গে প্যারাসিকজিটোল নিরাপদে ব্যবহার করা সম্ভব। পাশাপাশি এটি রোগীদের শরীরে অত্যন্ত ইতিবাচক কিছু পরিবর্তনের জন্ম দিয়েছে। যেমন,
১. যে সমস্ত রোগীকে প্যারাসিকজিটোল দেওয়া হয়েছিল, তাদের মধ্যে ৪২ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে ক্যানসারের টিউমার ছোট হতে শুরু করে বা ভালো প্রতিক্রিয়া দেখায়। অন্যদিকে প্লাসিবো বা সাধারণ চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই হার ছিল মাত্র ৯ শতাংশ।
২. প্যারাসিকজিটোল গ্রহণকারী বেশ কয়েকজন রোগী এক বছর পরও রোগ ছড়ানো ছাড়াই সুস্থ জীবনযাপন করছিলেন।
৩. এই ওষুধটি ক্যানসারের চারপাশের শক্ত আবরণ নরম করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধকারী টি-কোষগুলোকে ক্যানসার টিউমারের ভেতরে প্রবেশ করতে সাহায্য করেছে।
ভবিষ্যতের সম্ভাবনা
যদিও এই ছোট ট্রায়ালটি সরাসরি বেঁচে থাকার হার তুলনা করার জন্য ডিজাইন করা হয়নি, তবুও প্রাথমিক ফলাফলগুলো অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। চিকিৎসকদের মতে, ভিটামিন ডি-র এই নতুন ব্যবহার অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের চিকিৎসায় একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে পারে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ট্রায়াল পরিচালনার মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে কীভাবে এই থেরাপি ক্যানসার রোগীদের দীর্ঘমেয়াদে আরও বেশি সুরক্ষা দিতে পারে।

