নীরব ঘাতক যে ৫ ব্যাধি
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
অনেক রোগই শরীরে ধীরে ধীরে বাসা বাঁধে, অথচ শুরুতে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি বুঝতেই পারেন না যে তার শরীরে বিপজ্জনক কোনো রোগের বিকাশ ঘটছে। পরে যখন উপসর্গ স্পষ্ট হয়, তখন কখনো কখনো রোগ জটিল পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, এসব রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস ও ফ্যাটি লিভারের মতো রোগ দীর্ঘদিন উপসর্গহীন থাকতে পারে। এমন পাঁচটি রোগ সম্পর্কে জেনে নিন।
১. উচ্চ রক্তচাপ
উচ্চ রক্তচাপকে নীরব ঘাতক বলা হয়। কারণ, অনেকের ক্ষেত্রেই রক্তচাপ বেড়ে গেলেও শুরুতে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। কিন্তু দীর্ঘদিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ্রোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ও কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।
মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ না থাকলেও উচ্চ রক্তচাপ থাকতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ মাপা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
২. উচ্চ কোলেস্টেরল
রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলেও সাধারণত তা বোঝার মতো কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। দীর্ঘদিন এমন অবস্থা চলতে থাকলে ধমনিতে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এতে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ধূমপান, বংশগত কারণসহ বিভিন্ন বিষয় কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে পারে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে কোলেস্টেরলের মাত্রা জানা যায়। তাই ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত পরীক্ষা করানো উচিত।
৩. ডায়াবেটিস
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে গেলে ডায়াবেটিস হয়। অগ্ন্যাশয় পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে না পারলে অথবা শরীর ইনসুলিন কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে না পারলে এ রোগ দেখা দেয়।
বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিস দীর্ঘদিন উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব, ক্লান্তি, ঝাপসা দৃষ্টি কিংবা অকারণে ওজন কমার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। তবে এসব উপসর্গ না থাকলেও ডায়াবেটিস থাকতে পারে।
রোগটি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে চোখ, কিডনি, স্নায়ু ও হৃদ্যন্ত্রের ক্ষতি হতে পারে। রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা করে রোগ শনাক্ত করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবনযাপন ও চিকিৎসা অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
৪. ফ্যাটি লিভার
লিভারের কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমলে ফ্যাটি লিভার হয়। এটি দীর্ঘদিন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। অতিরিক্ত ওজন, ইনসুলিন প্রতিরোধ, ডায়াবেটিস, বিপাকীয় সমস্যা এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণসহ বিভিন্ন কারণে লিভারে চর্বি জমতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি অনেক সময় নিয়মিত পরীক্ষায় ধরা পড়ে। তবে কিছু ক্ষেত্রে লিভারে প্রদাহ ও ক্ষতি বাড়তে বাড়তে ফাইব্রোসিস বা সিরোসিস হতে পারে। গুরুতর অবস্থায় লিভার ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত রাখার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে লিভারের পরীক্ষা করানো উচিত।
৫. দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ
দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগও নীরবে অগ্রসর হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের কোনো উপসর্গ থাকে না। ফলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমতে থাকলেও আক্রান্ত ব্যক্তি তা বুঝতে পারেন না।
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগের গুরুত্বপূর্ণ কারণ। রোগটি বাড়তে থাকলে শরীরে পানি জমা, পা ফুলে যাওয়া, ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা কিংবা প্রস্রাবের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। গুরুতর অবস্থায় কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করানো জরুরি।
সুস্থ থাকতে যা করবেন
নীরব ঘাতক রোগের বড় সমস্যা হলো, উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা করলে রোগ শনাক্ত হতে দেরি হতে পারে। তাই বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও অন্যান্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান। স্বাস্থ্যকর খাবার খান, নিয়মিত শরীরচর্চা করুন, ধূমপান এড়িয়ে চলুন এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
মনে রাখবেন, উপসর্গ না থাকলেই শরীর সুস্থ—এমন নিশ্চয়তা নেই। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা নেওয়া অনেক গুরুতর জটিলতা প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে।
